০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত ইরানিদের কাশ্মীরে ড্রোন উত্তেজনা বাড়াল ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েন ডিজিটাল যুগের আচার: বৌদ্ধ ধ্যান ও ইলেকট্রনিক সুরে সাইবার নমু নমু টানা বিক্ষোভে নড়ে উঠেছে শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ ক্ষমতা ধরে রাখার অদৃশ্য কৌশল যুদ্ধের মাঝেও মিন অং হ্লাইংয়ের রাজনৈতিক হিসাব চীনের বিরল খনিজ রপ্তানি কড়াকড়ি, প্রভাব মাপতে ব্যস্ত জাপানি সংস্থাগুলি পান্ডার মতো রঙের নতুন সামুদ্রিক প্রাণী, ওয়াকায়ামায় আবিষ্কারে পর্যটন আশার আলো চিবা শহরে চালকবিহীন বাসের যুগান্তকারী সূচনা মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়, উপগ্রহ ডেটা সেন্টারের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন চীনের চাপই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর শক্তি, তাকাইচির জনপ্রিয়তায় নতুন জোয়ার

গাজায় যুদ্ধের দ্বিতীয় অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা, শুরু ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ

দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গাজায় নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের পথে হাঁটছে পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। এই ধাপে গাজায় একটি কারিগরি দক্ষতা ভিত্তিক ফিলিস্তিন প্রশাসন গঠনের পাশাপাশি পুনর্গঠন ও নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রথম ধাপের পর নতুন পর্যায়

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই সঙ্গে বন্দি ও জিম্মি বিনিময়, ইসরায়েলি সেনা আংশিক প্রত্যাহার এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহ বেড়ে যায়। দ্বিতীয় ধাপে এই যুদ্ধবিরতির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গাজার প্রশাসনিক পুনর্গঠন শুরু হচ্ছে।

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে  যুক্তরাষ্ট্র | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

গাজায় কারিগরি প্রশাসন ও নিরস্ত্রীকরণ

উইটকফের ঘোষণায় বলা হয়, দ্বিতীয় ধাপে গাজায় জাতীয় কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা নামে একটি অন্তর্বর্তী কারিগরি ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠিত হয়েছে। এই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হবে গাজার পুনর্গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সব ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ। এর মধ্যে হামাস সহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পনার সব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিশেষ করে শেষ মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।

জটিলতা ও অনিশ্চয়তা

এই দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে বড় বাধাও রয়েছে। হামাস অতীতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া অস্ত্র ত্যাগে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল এখনো গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যুদ্ধবিরতিও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

গাজার ১০ লাখ বাসিন্দাকে স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় সরাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আঞ্চলিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা

মিশর, কাতার ও তুরস্ক নতুন কারিগরি প্রশাসন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এই উদ্যোগ গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক হবে। পনেরো সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপপরিকল্পনামন্ত্রী আলি শাথ।

এই প্রশাসন একটি শান্তি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে, যার সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিগগিরই এই বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে আরও ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে।

গাজা | ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার 'জবাবে' রিয়াদে আরব নেতাদের বৈঠকThe Daily  Star Bangla

ফিলিস্তিনি ঐক্যের আহ্বান

হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কারিগরি প্রশাসন গঠনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়ে পশ্চিম তীর ও গাজার মধ্যে প্রশাসনিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছে।

ইসরায়েলি জিম্মি ইস্যুতে চাপ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত জিম্মি র‍্যান গিভিলির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, তার মরদেহ ফেরত আনা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে, মরদেহ হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলবে না।

গাজা কি এবার পুরোপুরি দখলে চলে যাচ্ছে? | কালবেলা

যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য

দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত সত্তর হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নতুন শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ সেই রক্তক্ষয় থামিয়ে গাজাকে পুনর্গঠনের পথে নিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত ইরানিদের

গাজায় যুদ্ধের দ্বিতীয় অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা, শুরু ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ

০২:১৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গাজায় নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের পথে হাঁটছে পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। এই ধাপে গাজায় একটি কারিগরি দক্ষতা ভিত্তিক ফিলিস্তিন প্রশাসন গঠনের পাশাপাশি পুনর্গঠন ও নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রথম ধাপের পর নতুন পর্যায়

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই সঙ্গে বন্দি ও জিম্মি বিনিময়, ইসরায়েলি সেনা আংশিক প্রত্যাহার এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহ বেড়ে যায়। দ্বিতীয় ধাপে এই যুদ্ধবিরতির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গাজার প্রশাসনিক পুনর্গঠন শুরু হচ্ছে।

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে  যুক্তরাষ্ট্র | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

গাজায় কারিগরি প্রশাসন ও নিরস্ত্রীকরণ

উইটকফের ঘোষণায় বলা হয়, দ্বিতীয় ধাপে গাজায় জাতীয় কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা নামে একটি অন্তর্বর্তী কারিগরি ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠিত হয়েছে। এই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হবে গাজার পুনর্গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সব ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ। এর মধ্যে হামাস সহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পনার সব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিশেষ করে শেষ মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।

জটিলতা ও অনিশ্চয়তা

এই দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে বড় বাধাও রয়েছে। হামাস অতীতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া অস্ত্র ত্যাগে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল এখনো গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যুদ্ধবিরতিও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

গাজার ১০ লাখ বাসিন্দাকে স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় সরাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আঞ্চলিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা

মিশর, কাতার ও তুরস্ক নতুন কারিগরি প্রশাসন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এই উদ্যোগ গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক হবে। পনেরো সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপপরিকল্পনামন্ত্রী আলি শাথ।

এই প্রশাসন একটি শান্তি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে, যার সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিগগিরই এই বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে আরও ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে।

গাজা | ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার 'জবাবে' রিয়াদে আরব নেতাদের বৈঠকThe Daily  Star Bangla

ফিলিস্তিনি ঐক্যের আহ্বান

হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কারিগরি প্রশাসন গঠনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়ে পশ্চিম তীর ও গাজার মধ্যে প্রশাসনিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছে।

ইসরায়েলি জিম্মি ইস্যুতে চাপ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত জিম্মি র‍্যান গিভিলির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, তার মরদেহ ফেরত আনা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে, মরদেহ হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলবে না।

গাজা কি এবার পুরোপুরি দখলে চলে যাচ্ছে? | কালবেলা

যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য

দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত সত্তর হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নতুন শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ সেই রক্তক্ষয় থামিয়ে গাজাকে পুনর্গঠনের পথে নিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।