০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
বন্যার মধ্যেও অক্ষত সুমাত্রার বন, পুনরায় বনায়নে মারুবেনির মডেল আলোচনায় বঙ্গে নিপা আতঙ্ক বাড়াল নতুন সন্দেহ, চিকিৎসক ও নার্স কলকাতায় স্থানান্তর মুদ্রা বদলের বার্তা সিরিয়ার নতুন নোটে আসল অর্থনীতি কতটা বদলাবে ইরান সংকট ঘনালে অপরিশোধিত তেলের বাজারে ঝড়, হরমুজ প্রণালী কেন বিশ্ব জ্বালানির শিরা ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত ইরানিদের কাশ্মীরে ড্রোন উত্তেজনা বাড়াল ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েন ডিজিটাল যুগের আচার: বৌদ্ধ ধ্যান ও ইলেকট্রনিক সুরে সাইবার নমু নমু টানা বিক্ষোভে নড়ে উঠেছে শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ ক্ষমতা ধরে রাখার অদৃশ্য কৌশল যুদ্ধের মাঝেও মিন অং হ্লাইংয়ের রাজনৈতিক হিসাব চীনের বিরল খনিজ রপ্তানি কড়াকড়ি, প্রভাব মাপতে ব্যস্ত জাপানি সংস্থাগুলি

টানা বিক্ষোভে নড়ে উঠেছে শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ

ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দেশটির ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার জন্য সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের তাৎক্ষণিক পতন নিশ্চিত করে বলা এখনো কঠিন। বিক্ষোভের বিস্তার, রাজনৈতিক দাবির রূপান্তর এবং রাষ্ট্রীয় দমননীতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে শাসনবিরোধী দাবি
এই আন্দোলনের শুরু হয়েছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও মুদ্রাস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দাবি আরও স্পষ্ট রাজনৈতিক রূপ নেয়। তারা সরাসরি ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার অবসান এবং শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের কথা বলতে শুরু করে। এক হাজার নয়শো উনআশির বিপ্লবের পর থেকে যে ধর্মীয় কাঠামো ইরান শাসন করে আসছে, সেটিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয় এই আন্দোলন।

ইরানে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ২ হাজার ৫৭১ | প্রথম আলো

দমনপীড়ন ও নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থান
বিক্ষোভ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই অভিযানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবুও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থান এখনো অটুট। ছিয়াশি বছর বয়সী এই নেতা প্রকাশ্যে বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে নিজের ক্ষমতার দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তম্ভ, সংসদ থেকে শুরু করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পর্যন্ত, এখনো তার পাশেই রয়েছে।

বিক্ষোভের বিস্তার ও সীমাবদ্ধতা
বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভের আকার ও স্থায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেহরানের ঐতিহ্যবাহী বাজার এলাকায় ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হলেও পরে তা রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কর্তৃপক্ষের ইন্টারনেট বন্ধের কারণে বিক্ষোভের প্রকৃত ব্যাপ্তি বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘস্থায়ী সংগঠিত নেটওয়ার্কের অভাবও একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষমতার অভ্যন্তরে ফাটল আছে কি
ইতিহাস বলছে, কেবল রাজপথের আন্দোলন নয়, ক্ষমতার ভেতরে বিভক্তি ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান পরিবর্তন শাসন পতনের জন্য বড় নিয়ামক। বর্তমানে ইরানে সেই ধরনের স্পষ্ট ফাটলের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক অভিজাতরা এখনো একত্রিত অবস্থানে রয়েছে। ফলে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিতে পারছে না।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ১২ হাজার

বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন এবং সামরিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতির গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। তবে এখনো কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে।

সংগঠিত বিরোধী শক্তির অভাব
ইরানের ভেতরে কার্যকর রাজনৈতিক বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতি আন্দোলনের বড় সীমাবদ্ধতা। নির্বাসিত সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি বিদেশ থেকে আন্দোলনের আহ্বান জানালেও প্রবাসী বিরোধীরা বিভক্ত। বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব এখনো গড়ে ওঠেনি।

ইরান কারো আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করবে না: খামেনি

খামেনির স্বাস্থ্য ও উত্তরাধিকার প্রশ্ন
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনির স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তার পুত্র মোজতাবার নাম শোনা গেলেও বিকল্পভাবে একটি সমষ্টিগত নেতৃত্বের কথাও আলোচনায় আছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যার মধ্যেও অক্ষত সুমাত্রার বন, পুনরায় বনায়নে মারুবেনির মডেল আলোচনায়

টানা বিক্ষোভে নড়ে উঠেছে শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ

০৩:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দেশটির ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার জন্য সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের তাৎক্ষণিক পতন নিশ্চিত করে বলা এখনো কঠিন। বিক্ষোভের বিস্তার, রাজনৈতিক দাবির রূপান্তর এবং রাষ্ট্রীয় দমননীতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে শাসনবিরোধী দাবি
এই আন্দোলনের শুরু হয়েছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও মুদ্রাস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দাবি আরও স্পষ্ট রাজনৈতিক রূপ নেয়। তারা সরাসরি ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার অবসান এবং শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের কথা বলতে শুরু করে। এক হাজার নয়শো উনআশির বিপ্লবের পর থেকে যে ধর্মীয় কাঠামো ইরান শাসন করে আসছে, সেটিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয় এই আন্দোলন।

ইরানে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ২ হাজার ৫৭১ | প্রথম আলো

দমনপীড়ন ও নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থান
বিক্ষোভ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই অভিযানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবুও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থান এখনো অটুট। ছিয়াশি বছর বয়সী এই নেতা প্রকাশ্যে বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে নিজের ক্ষমতার দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তম্ভ, সংসদ থেকে শুরু করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পর্যন্ত, এখনো তার পাশেই রয়েছে।

বিক্ষোভের বিস্তার ও সীমাবদ্ধতা
বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভের আকার ও স্থায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেহরানের ঐতিহ্যবাহী বাজার এলাকায় ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হলেও পরে তা রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কর্তৃপক্ষের ইন্টারনেট বন্ধের কারণে বিক্ষোভের প্রকৃত ব্যাপ্তি বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘস্থায়ী সংগঠিত নেটওয়ার্কের অভাবও একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষমতার অভ্যন্তরে ফাটল আছে কি
ইতিহাস বলছে, কেবল রাজপথের আন্দোলন নয়, ক্ষমতার ভেতরে বিভক্তি ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান পরিবর্তন শাসন পতনের জন্য বড় নিয়ামক। বর্তমানে ইরানে সেই ধরনের স্পষ্ট ফাটলের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক অভিজাতরা এখনো একত্রিত অবস্থানে রয়েছে। ফলে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিতে পারছে না।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ১২ হাজার

বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন এবং সামরিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতির গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। তবে এখনো কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে।

সংগঠিত বিরোধী শক্তির অভাব
ইরানের ভেতরে কার্যকর রাজনৈতিক বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতি আন্দোলনের বড় সীমাবদ্ধতা। নির্বাসিত সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি বিদেশ থেকে আন্দোলনের আহ্বান জানালেও প্রবাসী বিরোধীরা বিভক্ত। বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব এখনো গড়ে ওঠেনি।

ইরান কারো আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করবে না: খামেনি

খামেনির স্বাস্থ্য ও উত্তরাধিকার প্রশ্ন
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনির স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তার পুত্র মোজতাবার নাম শোনা গেলেও বিকল্পভাবে একটি সমষ্টিগত নেতৃত্বের কথাও আলোচনায় আছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।