চীনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের প্রভাব নিয়ে এখনও হিসাব কষছে জাপানের বিভিন্ন সংস্থা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব চলতি মাসে নয়, বরং আগামী মাসে গিয়ে স্পষ্ট হতে পারে। কারণ নতুন নিয়মে অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগছে।
বেইজিংয়ের নতুন ঘোষণা ও পুরনো কড়াকড়ি
গত সপ্তাহে বেইজিং জানায়, জাপানের সামরিক সক্ষমতায় সহায়ক হতে পারে—এমন আট শতাধিক দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হবে। এই তালিকায় বিরল খনিজও রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ নতুন নয়। গত বছরের এপ্রিল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি বাড়াতে শুরু করে চীন।
রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এক সংবাদ মাধ্যমে পরে জানানো হয়, জাপানে পাঠানো মধ্যম ও ভারী বিরল খনিজ সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানি লাইসেন্স পর্যালোচনা আরও কঠোর করার কথা ভাবছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

কবে পড়বে আসল চাপ
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান, সাম্প্রতিক কড়াকড়ির সরাসরি প্রভাব জাপানি সংস্থাগুলি সম্ভবত আগামী মাসে গিয়ে টের পাবে। নতুন আবেদন যাচাই করতে সময় লাগায় তাৎক্ষণিক কোনও ধাক্কা বোঝা যাচ্ছে না। সম্প্রতি যে সব জাপানি সংস্থার লাইসেন্স পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে খবর এসেছে, সেগুলো মূলত আগের দফার কড়াকড়ির ফল বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক শঙ্কা
এশিয়ার দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে গত নভেম্বরের পর। সে সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন, চীন যদি তাইওয়ান দখলে শক্তি প্রয়োগ করে, তবে জাপান আত্মরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের কথা ভাবতে পারে। এর পরই জাপানকে লক্ষ্য করে চীনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র—সব ক্ষেত্রেই বিরল খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনে জাপানি ব্যবসায়ীদের আবেদন
এই পরিস্থিতিতে চীনে কর্মরত জাপানি সংস্থাগুলির একটি বড় অংশ চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম যেন সমস্যা তৈরি না করে। চীনে জাপান চেম্বার অব কমার্স এক বিবৃতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হে ইয়াদোঙের বক্তব্যের কথা তুলে ধরে জানিয়েছে, স্বাভাবিক বেসামরিক বাণিজ্যে যুক্ত সংস্থা গুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই—এই বার্তা স্পষ্টভাবে আবার জানানো হোক।
সংস্থাটি আরও বলেছে, জাপানি সংস্থাগুলি কোনও সমস্যায় পড়লে তারা বিষয়টি চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে তুলবে।
কেইদানরেনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
জাপানের বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেন নতুন এই নিয়ন্ত্রণের কড়া সমালোচনা করেছে। সংগঠনের প্রধান ইয়োশিনোবু সুতসুই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র জাপানকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে এবং এটি স্পষ্টতই অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন।
এই বিরোধের মধ্যেই জানুয়ারিতে বেইজিং সফরের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছেন জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। নতুন তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।

চীনের দাপট ও জাপানের নির্ভরতা
এক দশকেরও বেশি আগে একবার বিরল খনিজ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জাপান সরবরাহ শৃঙ্খলা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছিল। তবু বাস্তবতা হলো, এখনও এই খাতে চীনের ওপর জাপানের নির্ভরতা অনেক বেশি। বৈশ্বিক হিসাবে বিরল খনিজ মজুত ও উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। পরিশোধন ক্ষমতার ক্ষেত্রে তাদের দখল নব্বই শতাংশেরও বেশি।
সরবরাহ সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বৈশ্বিক আর্থিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা। সেখানে তিনি বিরল খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করাকে জাপানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে উল্লেখ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















