রাশিয়ার টানা হামলায় বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর মতে, এই জরুরি অবস্থা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং জমে থাকা সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও গরমের সংকট মোকাবিলায় সময় নষ্ট করার আর সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রুশ হামলার ধাক্কা ও শীতের চাপ
গত সপ্তাহে রাশিয়ার একাধিক হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকেই দিনরাত কাজ করছে জরুরি মেরামত দল। হাজার হাজার আবাসিক ভবনে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র শীত। রাতের তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে প্রায় মাইনাস বিশ ডিগ্রির কাছাকাছি। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ভাষায়, রুশ হামলার প্রভাব এবং অবনতিশীল আবহাওয়া পরিস্থিতি মিলিয়ে সংকট এখন অত্যন্ত গুরুতর।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ
জেলেনস্কি জানান, জ্বালানি খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে প্রশাসনের হাতে আরও বেশি বিকল্প ও নমনীয়তা আসবে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অনেক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান প্রয়োজন, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্ভব হচ্ছে না।
কিয়েভ নিয়ে অসন্তোষ ও বাড়তি উদ্যোগের আহ্বান
রাতের ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে কিয়েভে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্য বড় শহর, বিশেষ করে খারকিভের তুলনায় রাজধানীতে প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আরও উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, মানুষকে মোবাইল ও জরুরি যন্ত্র চার্জের সুযোগ দেওয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে রাতের কারফিউ শিথিল করার কথাও বলেন তিনি।

মেয়রের পাল্টা বক্তব্য
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো প্রেসিডেন্টের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ছয় হাজার আবাসিক ভবনের মধ্যে অধিকাংশেই তাপ সরবরাহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সহায়তা কেন্দ্রগুলো চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করা হাজারো পেশাদার মানুষের পরিশ্রমকে খাটো করা ঠিক নয়। অস্ত্র হাতে না থাকলেও তাঁদের অক্লান্ত শ্রমও দেশের জন্য এক ধরনের লড়াই।
নতুন সমন্বয় কাঠামো ও বিদ্যুৎ আমদানি
জেলেনস্কি জানান, কিয়েভে একটি স্থায়ী সমন্বয় সদর দপ্তর গঠন করা হবে। নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত উপপ্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এই কার্যক্রম তদারকি করবেন। পাশাপাশি ইউক্রেনে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কাজ চলছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট।

সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার বার্তা
প্রেসিডেন্ট সেনাবাহিনীকে প্রায় বারোশ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কূটনীতিকদের শান্তি নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও উদ্যোগ নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। তাঁর কথায়, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা দেখাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকেও একই মাত্রার সক্রিয়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















