তেহরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি। বুধবার এই ফোনালাপে মূলত ইরান ও আশপাশের অঞ্চলের দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হঠাৎ ফোনালাপের পটভূমি
এই ফোনালাপটি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ভারত সরকার ইরানে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং নতুন করে সেখানে ভ্রমণ না করতে সতর্ক করেছে। ইরানে প্রায় দশ হাজার ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

দিল্লি সফর বাতিলের ব্যাখ্যা
সূত্রের দাবি, ফোনালাপের মাধ্যমে আরাগচি মূলত জানিয়েছেন কেন তিনি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নির্ধারিত নয়াদিল্লি সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে তিনি ফোন পেয়েছেন এবং আলোচনায় ইরান সংলগ্ন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানে তথ্য অন্ধকার
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত থাকায় সরকারি ওয়েবসাইটগুলোও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ, দমন ও আন্তর্জাতিক চাপ
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক দমন অভিযানে দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা আটক ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হবে এবং প্রয়োজনে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ভারত–ইরান সম্পর্কের জটিল হিসাব
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অতীতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতকে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে হয়েছিল, যদিও এক সময় দেশটি ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল।

কৌশলগত গুরুত্ব ও উদ্বেগ
ইরান ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে ইরানের বন্দর ও আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডোর কে কেন্দ্র করে ভারতের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত বা দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা এই উদ্যোগ গুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















