০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্র্যান্ড রেনেসাঁ বাঁধের পরও নীলনদ সংকটের সমাধান হয়নি জয়ন্ত রায় চৌধুরী ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার ইংরেজি সংবাদসেবার সম্পাদক হুথি হামলা ঠেকাতে সৌদি জেটে জ্বালানি দেবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী নাসার চন্দ্র-আমন্ত্রণ ফিরিয়ে বিশ্বকে ডাকল ভারত নিজের চন্দ্রাভিযানে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চ স্থগিত করল জামায়াতে ইসলামি ক্যারিবীয় সাগরে মাদক নৌযানে মার্কিন হামলা, জাতিসংঘের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় চুক্তির চেয়ে ছোট সমঝোতার সম্ভাবনাই বেশি এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ভয়, ৭৩ শতাংশের মতে বিপদ ঠেকাতে যথেষ্ট করছে না কোম্পানিগুলো যুক্তরাজ্যের ঋণ বেড়ে চাপে চ্যান্সেলর, বাজেটের আর্থিক সুযোগ কমছে তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে চাপ দেবেন শি, ১৯৮২ সালের চুক্তির দোহাইয়ে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি

ইরানে বিক্ষোভের আগুনেও কেন ভাঙছে না ক্ষমতার ভিত

ইরানের বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ, প্রাণহানি আর আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও এখনো অটুট রয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন কাঠামো। তেহরানের রাজপথে ক্ষোভের বিস্ফোরণ হলেও শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বলয়ে বড় কোনো ফাটল দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ সংহতিই এখনো ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর শক্ত ভিত
ইরানের ক্ষমতার মূল ভরকেন্দ্র দেশটির বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপ্লবী গার্ড ও বাসিজ বাহিনী মিলিয়ে প্রায় দশ লক্ষের কাছাকাছি সদস্য এই কাঠামোর অংশ। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই শক্ত বলয় ভাঙা সহজ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রাস্তায় বিক্ষোভ হলেই ক্ষমতার পতন ঘটে না, তার জন্য রাষ্ট্রের ভেতর থেকেই বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা দরকার।

বিক্ষোভের দাবানলেও কেন টিকে আছে ইরানের সরকার?

প্রাণহানি ও দমন-পীড়নের চিত্র
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকার অবশ্য নিহতদের বড় একটি অংশকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সহিংস দমন-পীড়ন সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও ক্ষয় করছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

খামেনির অভিজ্ঞতা ও অতীতের নজির
ছিয়াশি বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এর আগেও একাধিক বড় গণআন্দোলন মোকাবিলা করেছেন। দুই হাজার নয় সালের পর এটি পঞ্চম বড় বিদ্রোহ। প্রতিবারই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরের সংহতি সরকারকে টিকে থাকার সুযোগ দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, টিকে থাকা মানেই স্থিতিশীলতা নয়।

ইরানে বিক্ষোভে ২০০০ নিহত

অর্থনীতি ও কূটনৈতিক চাপ
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি কার্যত শ্বাসরুদ্ধ। মূল্যবৃদ্ধি থেকেই শুরু হয়েছিল বর্তমান বিক্ষোভ। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা, পারমাণবিক কর্মসূচিতে আঘাত এবং আঞ্চলিক মিত্র শক্তির দুর্বল হয়ে পড়া তেহরানকে কৌশলগতভাবে আরও চাপে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ও অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা চলতে থাকলে হস্তক্ষেপের পথ খোলা রয়েছে। এই বক্তব্য পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হয়তো সরাসরি সরকার পতন নয়, বরং ইরানকে আরও নমনীয় করে তোলা।

ইরানের এবারের বিক্ষোভ কেন নজিরবিহীন - BBC News বাংলা

পতনের দোরগোড়ায় নয়, তবে সংকট গভীর
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, ইরান এখনো চূড়ান্ত পতনের মুহূর্তে পৌঁছায়নি। কিন্তু দেশটি যে এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট। নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে বড় ধরনের ভাঙন না হলে বর্তমান ক্ষমতাকাঠামো টিকে যেতে পারে। তবু জনরোষ, অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও আন্তর্জাতিক চাপ মিলিয়ে সামনে পথ যে অত্যন্ত কঠিন, সে বিষয়ে দ্বিমত নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্র্যান্ড রেনেসাঁ বাঁধের পরও নীলনদ সংকটের সমাধান হয়নি

ইরানে বিক্ষোভের আগুনেও কেন ভাঙছে না ক্ষমতার ভিত

০১:১৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ, প্রাণহানি আর আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও এখনো অটুট রয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন কাঠামো। তেহরানের রাজপথে ক্ষোভের বিস্ফোরণ হলেও শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বলয়ে বড় কোনো ফাটল দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ সংহতিই এখনো ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর শক্ত ভিত
ইরানের ক্ষমতার মূল ভরকেন্দ্র দেশটির বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপ্লবী গার্ড ও বাসিজ বাহিনী মিলিয়ে প্রায় দশ লক্ষের কাছাকাছি সদস্য এই কাঠামোর অংশ। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই শক্ত বলয় ভাঙা সহজ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রাস্তায় বিক্ষোভ হলেই ক্ষমতার পতন ঘটে না, তার জন্য রাষ্ট্রের ভেতর থেকেই বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা দরকার।

বিক্ষোভের দাবানলেও কেন টিকে আছে ইরানের সরকার?

প্রাণহানি ও দমন-পীড়নের চিত্র
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকার অবশ্য নিহতদের বড় একটি অংশকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সহিংস দমন-পীড়ন সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও ক্ষয় করছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

খামেনির অভিজ্ঞতা ও অতীতের নজির
ছিয়াশি বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এর আগেও একাধিক বড় গণআন্দোলন মোকাবিলা করেছেন। দুই হাজার নয় সালের পর এটি পঞ্চম বড় বিদ্রোহ। প্রতিবারই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরের সংহতি সরকারকে টিকে থাকার সুযোগ দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, টিকে থাকা মানেই স্থিতিশীলতা নয়।

ইরানে বিক্ষোভে ২০০০ নিহত

অর্থনীতি ও কূটনৈতিক চাপ
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি কার্যত শ্বাসরুদ্ধ। মূল্যবৃদ্ধি থেকেই শুরু হয়েছিল বর্তমান বিক্ষোভ। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা, পারমাণবিক কর্মসূচিতে আঘাত এবং আঞ্চলিক মিত্র শক্তির দুর্বল হয়ে পড়া তেহরানকে কৌশলগতভাবে আরও চাপে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ও অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা চলতে থাকলে হস্তক্ষেপের পথ খোলা রয়েছে। এই বক্তব্য পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হয়তো সরাসরি সরকার পতন নয়, বরং ইরানকে আরও নমনীয় করে তোলা।

ইরানের এবারের বিক্ষোভ কেন নজিরবিহীন - BBC News বাংলা

পতনের দোরগোড়ায় নয়, তবে সংকট গভীর
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, ইরান এখনো চূড়ান্ত পতনের মুহূর্তে পৌঁছায়নি। কিন্তু দেশটি যে এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট। নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে বড় ধরনের ভাঙন না হলে বর্তমান ক্ষমতাকাঠামো টিকে যেতে পারে। তবু জনরোষ, অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও আন্তর্জাতিক চাপ মিলিয়ে সামনে পথ যে অত্যন্ত কঠিন, সে বিষয়ে দ্বিমত নেই।