যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর শক্তি বাড়াতে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র কে একত্র করে নতুন যৌথ বাহিনী গঠনের দিকে এগোচ্ছে ভারত। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন একটি বাহিনী গড়ে তোলাই সময়ের দাবি। বিভিন্ন পাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই রকেট–মিসাইল বাহিনী ভারতের সামরিক প্রস্তুতিকে নতুন মাত্রা দেবে।
ভারতের আটাত্তরতম সেনা দিবস সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাপ্রধান জানান, আধুনিক যুদ্ধে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। চীন ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে আলাদা রকেট বাহিনী গঠন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, যত দ্রুত এই কাঠামো গড়ে তোলা যাবে, ততই ভারতের যুদ্ধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও ড্রোন উদ্বেগ
সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য এসেছে সীমান্ত এলাকায় ড্রোন তৎপরতা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে। সম্প্রতি রাজস্থানের জয়সলমির এলাকায় সন্দেহভাজন পাকিস্তানি ড্রোন দেখা যায়। একই সময়ে জম্মু এলাকায় ড্রোন শনাক্ত হলে সেনাবাহিনীকে গুলি চালাতে হয়। এসব ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে ভারতের সামরিক অভিযানের মহাপরিচালক পাকিস্তানের সমকক্ষ কর্মকর্তাকে কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানান জেনারেল দ্বিবেদী।
এর আগে দুই হাজার পঁচিশ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বল্প সময়ের হলেও তীব্র সংঘাতে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে সময় ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিন শতাধিক ড্রোন ও উড়ন্ত যন্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
নতুন বাহিনীর সম্ভাব্য কাঠামো
প্রস্তাবিত রকেট–মিসাইল বাহিনী গড়ে উঠতে পারে দীর্ঘ পাল্লার পিনাকা রকেট, প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কে কেন্দ্র করে। সেনাপ্রধানের মতে, এসব অস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও কার্যকর আঘাত হানা সম্ভব হবে।
গত ডিসেম্বর মাসে ভারত প্রথমবারের মতো পিনাকা দীর্ঘ পাল্লার নির্দেশিত রকেটের সফল পরীক্ষা চালায়। এই রকেটের আঘাত হানার সক্ষমতা একশ বিশ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে জানানো হয়েছে। প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি, যা বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম। অন্যদিকে ব্রহ্মোস একটি রামজেটচালিত সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও স্থল ভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা যায়। এই প্রকল্পে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ও রাশিয়ার একটি সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান ও চীন তাদের সুরক্ষিত কমান্ড সেন্টার আরও মজবুত করায় ভারতও উন্নত বাংকার ধ্বংসকারী সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। রকেট–মিসাইল যৌথ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















