০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি লাজুক জুঁই

ভেনেজুয়েলায় বন্দিমুক্তির ঢেউ, কারাগার থেকে ছাড়া পেলেন সাংবাদিক রোলান্ড কারেনো

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিমুক্তির ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক ও রাজনীতিক রোলান্ড কারেনো। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধীদের দাবির মুখে সরকার যে বন্দিমুক্তির ঘোষণা দিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে বুধবার তাকে ছাড়া হয়। রাজধানীর কাছের গুয়াতিরে শহরে মুক্তির পর কারেনোর ছবি প্রকাশ্যে আসে।

ধীরে এগোনো মুক্তি প্রক্রিয়া
সরকারি ঘোষণার পরও বন্দিমুক্তির গতি ধীর বলে জানিয়েছে অধিকারকর্মী ও বন্দিদের পরিবার। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় আটশ রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন মুক্তি পেয়েছেন। অধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল বলছে, এখন পর্যন্ত বাহাত্তর জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি

সরকারের ভিন্ন দাবি
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ সাংবাদিকদের জানান, চার শতাধিক মানুষকে ছাড়া হয়েছে। তবে তিনি কোন সময়সীমার কথা বলেছেন বা এই সংখ্যায় ভবিষ্যৎ মুক্তির তালিকাভুক্তদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী সাংবিধানিক শৃঙ্খলা, ঘৃণা, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। খুন ও মাদক পাচারের মতো অভিযোগে দণ্ডিতরা এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবেন।

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার

বিদেশিদের মুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই দফায় মুক্তি প্রাপ্তদের মধ্যে স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পেরুর নাগরিক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কতজন মার্কিন নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন বা তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিরোধীদের অভিযোগ
ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মতভিন্নতা দমনে সরকার পরিকল্পিতভাবে আটক ব্যবহার করে আসছে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। কারা মুক্তি পাবেন, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা এখনো আটক রয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকার রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে | Barta Bazar

রোলান্ড কারেনোর পেছনের গল্প
রোলান্ড কারেনো বিরোধী দল ভোলুনতাদ পপুলারের সাবেক অপারেশন পরিচালক। তাকে প্রথম আটক করা হয়েছিল দুই হাজার বিশ সালে। দুই হাজার তেইশ সালে মুক্তি পেলেও দুই হাজার চব্বিশ সালে আবার গ্রেপ্তার হন তিনি। তার মতো বহু পরিচিত ও অচেনা বন্দির পরিবার এখনো প্রিয়জনের খোঁজে বিভিন্ন কারাগারের সামনে অপেক্ষা করছেন।

মুক্তির পেছনের সাম্প্রতিক ঘটনা
এই বন্দিমুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনার পর। যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রির ঘোষণার পরই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। উভয় পক্ষই এই মুক্তিকে শান্তির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ

ভেনেজুয়েলায় বন্দিমুক্তির ঢেউ, কারাগার থেকে ছাড়া পেলেন সাংবাদিক রোলান্ড কারেনো

০২:১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিমুক্তির ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক ও রাজনীতিক রোলান্ড কারেনো। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধীদের দাবির মুখে সরকার যে বন্দিমুক্তির ঘোষণা দিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে বুধবার তাকে ছাড়া হয়। রাজধানীর কাছের গুয়াতিরে শহরে মুক্তির পর কারেনোর ছবি প্রকাশ্যে আসে।

ধীরে এগোনো মুক্তি প্রক্রিয়া
সরকারি ঘোষণার পরও বন্দিমুক্তির গতি ধীর বলে জানিয়েছে অধিকারকর্মী ও বন্দিদের পরিবার। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় আটশ রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন মুক্তি পেয়েছেন। অধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল বলছে, এখন পর্যন্ত বাহাত্তর জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি

সরকারের ভিন্ন দাবি
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ সাংবাদিকদের জানান, চার শতাধিক মানুষকে ছাড়া হয়েছে। তবে তিনি কোন সময়সীমার কথা বলেছেন বা এই সংখ্যায় ভবিষ্যৎ মুক্তির তালিকাভুক্তদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী সাংবিধানিক শৃঙ্খলা, ঘৃণা, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। খুন ও মাদক পাচারের মতো অভিযোগে দণ্ডিতরা এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবেন।

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার

বিদেশিদের মুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই দফায় মুক্তি প্রাপ্তদের মধ্যে স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পেরুর নাগরিক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কতজন মার্কিন নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন বা তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিরোধীদের অভিযোগ
ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মতভিন্নতা দমনে সরকার পরিকল্পিতভাবে আটক ব্যবহার করে আসছে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। কারা মুক্তি পাবেন, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা এখনো আটক রয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকার রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে | Barta Bazar

রোলান্ড কারেনোর পেছনের গল্প
রোলান্ড কারেনো বিরোধী দল ভোলুনতাদ পপুলারের সাবেক অপারেশন পরিচালক। তাকে প্রথম আটক করা হয়েছিল দুই হাজার বিশ সালে। দুই হাজার তেইশ সালে মুক্তি পেলেও দুই হাজার চব্বিশ সালে আবার গ্রেপ্তার হন তিনি। তার মতো বহু পরিচিত ও অচেনা বন্দির পরিবার এখনো প্রিয়জনের খোঁজে বিভিন্ন কারাগারের সামনে অপেক্ষা করছেন।

মুক্তির পেছনের সাম্প্রতিক ঘটনা
এই বন্দিমুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনার পর। যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রির ঘোষণার পরই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। উভয় পক্ষই এই মুক্তিকে শান্তির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরছে।