ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। ইরানে হামলার সম্ভাবনা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা ও কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি সতর্কতা
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘাঁটি থেকে সীমিত পরিসরে সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যে কোনও সময় খারাপের দিকে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। পশ্চিমা সামরিক সূত্র বলছে, আক্রমণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হলেও এটি চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। অনিশ্চয়তাই এখন প্রধান কৌশল।

হোয়াইট হাউসের অবস্থান
হোয়াইট হাউসে বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে হত্যাকাণ্ডের মাত্রা কমছে—এমন তথ্য তিনি পেয়েছেন। তিনি এখনই বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেননি। তবে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি নাকচও করেননি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের বক্তব্য ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সহিংস রূপ নিয়েছে। সরকারি ও মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে।

হামলার সময় ও মাত্রা অনিশ্চিত
ইউরোপীয় ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ যে কোনও সময় হতে পারে, তবে এর সময়সূচি ও পরিসর স্পষ্ট নয়। কাতারের প্রধান মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকেও কিছু কর্মী সরানো হয়েছে। ব্রিটেন ও একই ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি ইরানের বার্তা
তেহরান জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ একাধিক দেশের কাছে এই বার্তা পৌঁছেছে বলে দাবি ইরানি কর্মকর্তাদের। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ কার্যত স্থগিত রয়েছে।

সরকার ভাঙনের আশঙ্কা নেই
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরানের ভেতরের তথ্য পাওয়া কঠিন। তবু পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাপক অস্থিরতার মধ্যে সরকারের নিরাপত্তা কাঠামো এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে সমর্থন দেখাতে বড় বড় জানাজার দৃশ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপে দেশটি নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















