০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
ঘানা হয়ে নিজ দেশে ফেরত, মার্কিন বহিষ্কার নীতিতে তৃতীয় দেশের বিপজ্জনক ফাঁদ মিনেসোটায় আইসিইবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সেনা নামানোর হুমকি ট্রাম্পের ‘হানি ট্র্যাপ’ নিয়ে চীনের সতর্কতা শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–বিএনপি ভার্চুয়াল বৈঠক অবৈধ ভিলা ও রিসোর্টে নজর বাড়াল চীন সরকার জোট ছাড়ল ইসলামী আন্দোলন, এককভাবেই ভোটের মাঠে ২৫ বছরে উইকিপিডিয়া, এআই কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তি স্ত্রী হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ১২ বছর পর গ্রেপ্তার  মালদ্বীপ থেকে বাল্টিক পর্যন্ত ভাসমান বাড়ির ডাচ ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিতে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

নতুন অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি দখলকারীদের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান

দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে সরকার ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।

এই নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি হাওর ও জলাভূমি এলাকায় দখল, ভূমি ভরাট এবং পরিবেশগত ক্ষতির জন্য কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের প্রস্তুত করা তালিকার ভিত্তিতে সরকার হাওর ও জলাভূমির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে।

হাওর ও জলাভূমি অবৈধ দখলে জেল-জরিমানা

হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সরকার যেকোনো হাওর বা জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করতে পারবে বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।

অপরাধের ধরন অনুযায়ী অধ্যাদেশে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কেউ যদি অবৈধভাবে হাওর বা অনুরূপ ভূমি দখল করে, জলাভূমি ভরাট করে, অনুমোদন ছাড়া খনন কাজ চালায় বা এমন অবকাঠামো নির্মাণ করে যা জলাভূমির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

হাওর বা জলাভূমি দখলে ২ বছরের কারাদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি

একই ধরনের শাস্তি প্রযোজ্য হবে অনুমতি ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও।

এছাড়া নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, বিষ টোপ বা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার, হাওর এলাকায় পরিযায়ী পাখি শিকার কিংবা জলাভূমির বন ধ্বংসের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

যদি এমনভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করা হয়, যাতে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, সেক্ষেত্রে অপরাধী সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার মুখোমুখি হবে।

পরিবেশ দূষণ রোধে কেউ যদি হাওরের পানি বা মাটি দূষণ করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

হাওর ও জলাভূমি অবৈধ দখলে ২ বছরের কারাদণ্ড | বিজনেস টাইমস: ব্যবসা-বাণিজ্য ও  উন্নয়ন চিত্রের গণমাধ্যম

অধিদপ্তরের জারি করা কোনো বিশেষ সংরক্ষণ আদেশ বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে, কিংবা সংরক্ষিত এলাকা ঘোষিত অঞ্চলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি করে, তাহলে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা আদায়ের নির্দেশ দিতে পারবেন।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও মহাপরিচালকের থাকবে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অবশ্যই পালন করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘানা হয়ে নিজ দেশে ফেরত, মার্কিন বহিষ্কার নীতিতে তৃতীয় দেশের বিপজ্জনক ফাঁদ

নতুন অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি দখলকারীদের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান

০৩:৪২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে সরকার ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।

এই নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি হাওর ও জলাভূমি এলাকায় দখল, ভূমি ভরাট এবং পরিবেশগত ক্ষতির জন্য কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের প্রস্তুত করা তালিকার ভিত্তিতে সরকার হাওর ও জলাভূমির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে।

হাওর ও জলাভূমি অবৈধ দখলে জেল-জরিমানা

হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সরকার যেকোনো হাওর বা জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করতে পারবে বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।

অপরাধের ধরন অনুযায়ী অধ্যাদেশে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কেউ যদি অবৈধভাবে হাওর বা অনুরূপ ভূমি দখল করে, জলাভূমি ভরাট করে, অনুমোদন ছাড়া খনন কাজ চালায় বা এমন অবকাঠামো নির্মাণ করে যা জলাভূমির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

হাওর বা জলাভূমি দখলে ২ বছরের কারাদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি

একই ধরনের শাস্তি প্রযোজ্য হবে অনুমতি ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও।

এছাড়া নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, বিষ টোপ বা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার, হাওর এলাকায় পরিযায়ী পাখি শিকার কিংবা জলাভূমির বন ধ্বংসের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

যদি এমনভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করা হয়, যাতে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, সেক্ষেত্রে অপরাধী সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার মুখোমুখি হবে।

পরিবেশ দূষণ রোধে কেউ যদি হাওরের পানি বা মাটি দূষণ করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

হাওর ও জলাভূমি অবৈধ দখলে ২ বছরের কারাদণ্ড | বিজনেস টাইমস: ব্যবসা-বাণিজ্য ও  উন্নয়ন চিত্রের গণমাধ্যম

অধিদপ্তরের জারি করা কোনো বিশেষ সংরক্ষণ আদেশ বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে, কিংবা সংরক্ষিত এলাকা ঘোষিত অঞ্চলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি করে, তাহলে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা আদায়ের নির্দেশ দিতে পারবেন।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও মহাপরিচালকের থাকবে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অবশ্যই পালন করতে হবে।