রোগের ঝুঁকি ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় ভ্যানামেই চিংড়ির পোনা আমদানির সব নতুন ও বিদ্যমান অনুমোদন স্থগিত করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। সেখানে বাংলাদেশে ভ্যানামেই চিংড়ির চাষের পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ভ্যানামেই চিংড়ি সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর একটি বিদেশি প্রজাতি। এই চিংড়ির পোনা আমদানির ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি, পরিবেশের অবক্ষয় এবং দেশীয় চিংড়ি প্রজাতির ওপর বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাগদা ও গলদা চিংড়ির উৎপাদন ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে এটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এই বাস্তবতায় বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভ্যানামেই চিংড়ির চাষ সম্প্রসারণ করা কোনোভাবেই উপযুক্ত নয়। বরং সীমিত পরিসরে, নিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশসম্মত নিবিড় পদ্ধতিতে এই চাষ পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ইতোমধ্যে অনুমোদন পাওয়া ভ্যানামেই চাষিদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের চাষপদ্ধতি ও শর্ত পালনের বিষয়টি যাচাই করা হবে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভ্যানামেই চিংড়ির পোনা আমদানির সব ধরনের অনুমোদন স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভ্যানামেই চিংড়ির চাষের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণা করা হবে। এসব গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় দেশীয় চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। আমদানিনির্ভর বিদেশি প্রজাতির ওপর নির্ভর না করে বাগদা ও গলদা চিংড়ির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের, মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট জেলার মৎস্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















