চীনের প্রযুক্তি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে স্বনির্ভরতা বাড়াতে দেশটি এখন মার্কিন চিপের ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে এবং বিদেশি পুঁজির ওপর নির্ভরতা কমানোর পথে হাঁটছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন যে কৌশলে চীনের প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে, সেই একই কৌশল এবার বেইজিং নিজেই প্রয়োগ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ছোট আঙিনা, উঁচু দেয়াল’ নীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নীতিকে ‘ছোট আঙিনা, উঁচু দেয়াল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল সংবেদনশীল মার্কিন প্রযুক্তিকে চীনের নাগালের বাইরে রাখা। এর আওতায় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়, যার ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এনভিডিয়ার উন্নতমানের চিপ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এসব চিপ আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেইজিংয়ের পাল্টা কৌশল
২০২৬ সালের শুরুতে দুটি ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে চীন আর শুধু এই নীতির শিকার নয়, বরং নিজেই প্রযুক্তি বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে। একদিকে এনভিডিয়ার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এইচ২০০ চিপ দেশে প্রবেশ নিয়ে সরকারের উদ্বেগ বেড়েছে, অন্যদিকে চীনে প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্টআপ মানুস অধিগ্রহণের বিষয়ে ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এনভিডিয়া চিপে নতুন বিধিনিষেধ
চলতি সপ্তাহে চীনা কর্তৃপক্ষ দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়েছে, একান্ত প্রয়োজন না হলে এনভিডিয়ার চিপ কেনা থেকে বিরত থাকতে। পাশাপাশি উন্নতমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ আমদানির ওপর নতুন সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি চিপের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

দেশীয় চিপ ব্যবহারে জোর
একটি চীনা ডেটা সেন্টারের কর্মী জানিয়েছেন, তারা ইনার মঙ্গোলিয়ায় এনভিডিয়ার এইচ২০০ চিপ ব্যবহার করে সার্ভার অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসব সার্ভার আলিবাবা গ্রুপ এবং বাইটড্যান্সের মতো বড় গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার কথা ছিল। তবে সরকারের নির্দেশে ওই প্রতিষ্ঠানের সার্ভার অবকাঠামোতে দেশীয় চিপের জন্য জায়গা সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। আলিবাবার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত।
প্রযুক্তি যুদ্ধে ভূমিকার পরিবর্তন
তাইওয়ান ইন্ডাস্ট্রি ইকোনমিক সার্ভিসেসের প্রধান পরিচালক ও গবেষণা ফেলো আরিসা লিউ মনে করেন, এই পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তি যুদ্ধে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করছে। তাঁর ভাষায়, এখানে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার ভূমিকা বদলে গেছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থানে ছিল, এখন সেই অবস্থানেই ধীরে ধীরে এগোচ্ছে চীন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















