সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট তাদের চলচ্চিত্র ব্যবসায় বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটল। বহু প্ল্যাটফর্মে ছবি মুক্তির নীতি থেকে সরে এসে প্রতিষ্ঠানটি নেটফ্লিক্সের সঙ্গে একচেটিয়া বৈশ্বিক স্ট্রিমিং চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই সিদ্ধান্তকে সনি গ্রুপের স্ট্রিমিং অগ্রাধিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কতদিন চলবে এই চুক্তি
ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, নেটফ্লিক্সের সঙ্গে সনি পিকচার্সের এই চুক্তি কার্যকর থাকবে দুই হাজার বত্রিশ সাল পর্যন্ত। চলতি বছরের শেষ দিক থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন অঞ্চলে ছবিগুলো নেটফ্লিক্সে আসতে শুরু করবে এবং দুই হাজার উনত্রিশ সালের শুরুতে বিশ্বব্যাপী সব বাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সিনেমা হলে মুক্তি ও ফিজিক্যাল সংস্করণ প্রকাশের পর প্রায় আঠারো মাস ধরে নেটফ্লিক্সে একচেটিয়াভাবে এসব ছবি দেখা যাবে।

কোন কোন ছবি থাকছে
এই চুক্তির আওতায় নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হবে সনি পিকচার্সের বহুল প্রতীক্ষিত কয়েকটি বড় প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে দ্য লিজেন্ড অব জেলদা, স্পাইডার ম্যান বিয়ন্ড দ্য স্পাইডার ভার্স এবং দ্য নাইটিঙ্গেল। তবে জনপ্রিয় অ্যানিমে সিরিজ ডেমন স্লেয়ারের সিনেমাগুলো এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। সেগুলো আংশিকভাবে সনি গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠান অ্যানিপ্লেক্সের প্রযোজনায় তৈরি হওয়ায় আলাদা ব্যবস্থায় থাকছে।
আগের অভিজ্ঞতাই সিদ্ধান্তের ভিত্তি
সনি পিকচার্স ও নেটফ্লিক্সের সম্পর্ক নতুন নয়। দুই হাজার একুশ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সহ কয়েকটি অঞ্চলের জন্য প্রথম চুক্তি হয়েছিল। ওই বাজারগুলোতে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং এর মাধ্যমে সনি পিকচার্সের ছবির বাণিজ্যিক মূল্য ও দর্শকপ্রিয়তা বেড়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বব্যাপী চুক্তির পথে এগোল সনি। সনি পিকচার্স টেলিভিশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পল লিটম্যান জানিয়েছেন, নেটফ্লিক্সের সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব সব সময়ই অত্যন্ত মূল্যবান প্রমাণিত হয়েছে।
কেন স্ট্রিমিংয়ে ঝুঁকছে হলিউড
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলে হলিউড ছবির জন্য সিনেমা হলে জায়গা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। মুক্তির বাজার আরও বেশি স্থানীয় হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অনেক দেশে হলিউড সিনেমার প্রদর্শনী সংখ্যা কমে গেছে। জাপানে গত বছর প্রশংসিত একটি রেসিং সিনেমা বড় পর্দায় টিকে থাকতে পারেনি, কারণ একই সময়ে জনপ্রিয় অ্যানিমে ও ঐতিহাসিক দেশীয় ছবির দাপট ছিল। এই বাস্তবতায় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম গুলো দুর্বল বক্স অফিস পারফরম্যান্সকে দর্শক সাফল্য রূপ দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক প্রভাব
নেটফ্লিক্স বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। একশ নব্বইটি দেশে তাদের তিনশ মিলিয়নের বেশি অর্থপ্রদত্ত গ্রাহক রয়েছে। এমন বিশাল দর্শকভিত্তির কারণে নেটফ্লিক্সকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সনি গ্রুপের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে অন্যান্য স্ট্রিমিং সেবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে।
চুক্তির আর্থিক দিক
এই চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই একচেটিয়া চুক্তি সনি পিকচার্সের চলচ্চিত্র সম্পদের বৈশ্বিক মূল্য আরও বাড়িয়ে দেবে এবং নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট ভাণ্ডারকে করবে আরও শক্তিশালী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















