আমেরিকান বাহিনী ভেনেজুয়েলার শাসক নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। বাস্তবে তা হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থা এখনো বহাল, আর জনপ্রিয় বিরোধীরাও ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। তবে একটি ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে, তা হলো তেল।
তেল নিয়ে নতুন মোড়
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের আমেরিকান অবরোধে ভেনেজুয়েলার তেল মজুত প্রায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল, উৎপাদন কমে আসে। পেট্রোডলারের অভাবে দেশটি আবারও মুদ্রা সংকটের মুখে পড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত এক নতুন চুক্তির ফলে আবার তেল রপ্তানির পথ খুলছে। এই আয় সরাসরি যাবে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি তহবিলে।
আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে তেলের আয়
এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রির ওপর কার্যত আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। সরকার আয়ের একটি অংশ পেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও সাধারণ মানুষের উপকার হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। এক নির্বাহী আদেশে এই অর্থকে ভেনেজুয়েলা সরকারের সার্বভৌম সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা আমেরিকা হেফাজতে রাখবে। এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা থাকবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে।

স্বচ্ছতা না থাকলে দুর্নীতির ঝুঁকি
এই নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো স্বচ্ছতা। যদি পুরো প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ হয়, তবে অতীতে অন্য দেশে যেমন দুর্নীতি হয়েছে, এখানেও তেমন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন চুক্তি ও বিক্রির আড়ালে মুনাফা লুটের সুযোগ তৈরি হতে পারে। রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিধর অংশীদাররা এমন প্রবণতাকে উৎসাহ দিতে পারে। তাই খোলামেলা হিসাব এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা এখানে অত্যন্ত জরুরি।
বিনিয়োগ ও বাজারের ভবিষ্যৎ
চীনের কাছে তেল বিক্রির সুযোগ রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত হলেও, অন্যান্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে দূরে ঠেলে দেওয়া হলে প্রতিযোগিতা কমবে। উন্মুক্ত বাণিজ্য ও অংশগ্রহণই ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে এবং বিনিয়োগ টানতে সহায়ক হতে পারে।
গণতন্ত্র ছাড়া স্থায়িত্ব অসম্ভব
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময়সূচি। দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার পক্ষে ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবসম্মত নয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হলে আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা অপরিহার্য। বর্তমান শাসনব্যবস্থা মূলত অবৈধ অর্থপ্রবাহের ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা বাহিনীর আনুগত্য ধরে রেখেছে।
জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
সাধারণ ভেনেজুয়েলাবাসীর আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ চুরি হয়ে যাওয়া নির্বাচনের ফল মান্য করা অথবা দ্রুত নতুন ভোট চায়। বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো এখনো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক মুখ। তেলচুক্তির পাশাপাশি তাঁকে সমর্থন দেওয়াই পারে ভেনেজুয়েলাকে স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথে ফেরাতে।
Sarakhon Report 



















