হ্যানয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ভিয়েতনামের শাসক কমিউনিস্ট পার্টির পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেস। এই কংগ্রেসকে ঘিরে রাজধানীতে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। বাইরে থেকে দেখলে এটিকে নিয়মমাফিক আনুষ্ঠানিক সমাবেশ মনে হলেও বাস্তবে ক্ষমতার ভেতরের সমীকরণ নিয়ে চলছে তীব্র লড়াই। আগামী পাঁচ বছর দেশ কে চালাবে, সেই প্রশ্নে এখনও অনেক কিছুই অনিশ্চিত।
সেনা ও পুলিশের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা আলোচনায় উঠে আসছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েনের কথা। মূল প্রশ্ন, কারা দেশের শীর্ষ পদে উন্নীত হবেন। পার্টি প্রধান তো লাম দাবি করেছেন বিষয়টি মীমাংসিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দৃশ্যপট বদলানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তো লামের সংস্কার ও অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা
২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর তো লাম দেশের জন্য উচ্চাভিলাষী সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেন। তাঁর লক্ষ্য দ্বিগুণ অঙ্কের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যা ভিয়েতনাম নব্বইয়ের দশকের পর আর দেখেনি। এ লক্ষ্যে তিনি কয়েকটি বড় বেসরকারি গোষ্ঠীর ওপর ভরসা করছেন, যাদের মাধ্যমে বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় কাটছাঁট
সংস্কারের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো প্রশাসনিক পুনর্গঠন। প্রদেশের সংখ্যা কমিয়ে আনা, একাধিক মন্ত্রণালয় বন্ধ করা এবং দলীয় ও রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রে ব্যাপক ছাঁটাই এর অংশ। স্থানীয় ক্ষমতার বলয় ভাঙতে প্রতিটি প্রদেশে বাইরের কাউকে দলীয় প্রধান হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

সেনাবাহিনীর অস্বস্তি ও প্রতিক্রিয়া
এই পরিবর্তনে সবচেয়ে অস্বস্তিতে সেনাবাহিনী ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী। সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অনেক ব্যবসা বাজারমুখী সংস্কারে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি পশ্চিমা দেশ ও এশিয়ার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তো লামের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও সেনা নেতৃত্ব সন্দিহান। ফলে কংগ্রেসের আগে নিজেদের প্রার্থী ও অবস্থান জোরালো করতে প্রচারযন্ত্র সক্রিয় করেছে তারা।
আদর্শিক অবস্থান জোরদারে তো লামের কৌশল
সমর্থন ধরে রাখতে তো লাম সাম্প্রতিক সময়ে সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে জোর দিয়েছেন। ঐতিহাসিক সমাজতান্ত্রিক স্থান পরিদর্শন এবং পুরোনো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে তিনি দলের ভেতরে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রভাবশালী নেতাদের পাশে টানার চেষ্টাও চলছে।
কংগ্রেসের ফলাফল কী বার্তা দেবে
সেনা নেতৃত্বের শীর্ষে থাকা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফান ভ্যান জিয়াংকে ঘিরে জল্পনা বাড়ছে। পার্টি প্রধান পদে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম হলেও রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে তো লাম নিজে একাধিক শীর্ষ পদে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে আগ্রহী বলে জানা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে কংগ্রেস ভিয়েতনামের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ ঠিক করে দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















