০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে অস্থিরতায় আটকে কেরালার বারো মেডিকেল শিক্ষার্থী, উৎকণ্ঠায় পরিবার

ইরানের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা কেরালার বহু পরিবারকে গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কেরমানে অন্তত বারো জন কেরালার এমবিবিএস শিক্ষার্থী আটকে পড়েছেন। সহিংস সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে তারা হোস্টেলে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

এই শিক্ষার্থীরা মালাপ্পুরম, কোট্টায়াম, এরনাকুলাম ও কাসারগোড় জেলার বাসিন্দা। তারা কেরমান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসে পড়াশোনা করছেন। অধিকাংশই প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বার্ষিক পরীক্ষা সামনে থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি ও বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে চিঠি দিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আবেদন জানিয়েছেন। যৌথ চিঠিতে তারা যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।

India denies allowing anti-Bangladesh activities on its soil

অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেরমানে বড় পরিসরের সহিংসতা না হলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের আবাসস্থলের আশপাশে গোলাবারুদের পরীক্ষামূলক ব্যবহার হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। এতে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইরানে প্রায় নয় হাজার ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, তীর্থযাত্রী ও নাবিক রয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

কেরমানের আজাদি স্কয়ারের কাছে একটি হোস্টেলে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে থাকছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে তাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ক্লাস বন্ধ এবং পরীক্ষা মার্চ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাগজে-কলমে বাড়ি ফেরার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে তারা কার্যত আটকে রয়েছেন বলে অভিভাবকরা জানান।

Iran's Deepening Economic Challenges: A Glimpse into the Rising Misery Index

সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ। ঘন ঘন ইন্টারনেট বন্ধ ও ফোনালাপের ওপর কড়া নজরদারির কারণে নিয়মিত কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো কয়েক সেকেন্ডের জন্য কথা হলেও দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও পরিবারের মানসিক চাপ চরমে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও সমস্যা বাড়ছে। ইরানে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের সংকটের কারণে খাদ্যের দাম বেড়েছে। অভিভাবকরা টাকা পাঠাতে না পারায় শিক্ষার্থীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কেরালার প্রবাসী কল্যাণ দপ্তর নোরকা ইতোমধ্যে ইরানে অবস্থানরত কেরালাবাসীদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের চেষ্টা করছে। জাতীয় পর্যায়েও ভারত সরকার নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে অস্থিরতায় আটকে কেরালার বারো মেডিকেল শিক্ষার্থী, উৎকণ্ঠায় পরিবার

০৬:০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা কেরালার বহু পরিবারকে গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কেরমানে অন্তত বারো জন কেরালার এমবিবিএস শিক্ষার্থী আটকে পড়েছেন। সহিংস সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে তারা হোস্টেলে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

এই শিক্ষার্থীরা মালাপ্পুরম, কোট্টায়াম, এরনাকুলাম ও কাসারগোড় জেলার বাসিন্দা। তারা কেরমান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসে পড়াশোনা করছেন। অধিকাংশই প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বার্ষিক পরীক্ষা সামনে থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি ও বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে চিঠি দিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আবেদন জানিয়েছেন। যৌথ চিঠিতে তারা যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।

India denies allowing anti-Bangladesh activities on its soil

অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেরমানে বড় পরিসরের সহিংসতা না হলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের আবাসস্থলের আশপাশে গোলাবারুদের পরীক্ষামূলক ব্যবহার হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। এতে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইরানে প্রায় নয় হাজার ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, তীর্থযাত্রী ও নাবিক রয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

কেরমানের আজাদি স্কয়ারের কাছে একটি হোস্টেলে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে থাকছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে তাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ক্লাস বন্ধ এবং পরীক্ষা মার্চ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাগজে-কলমে বাড়ি ফেরার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে তারা কার্যত আটকে রয়েছেন বলে অভিভাবকরা জানান।

Iran's Deepening Economic Challenges: A Glimpse into the Rising Misery Index

সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ। ঘন ঘন ইন্টারনেট বন্ধ ও ফোনালাপের ওপর কড়া নজরদারির কারণে নিয়মিত কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো কয়েক সেকেন্ডের জন্য কথা হলেও দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও পরিবারের মানসিক চাপ চরমে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও সমস্যা বাড়ছে। ইরানে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের সংকটের কারণে খাদ্যের দাম বেড়েছে। অভিভাবকরা টাকা পাঠাতে না পারায় শিক্ষার্থীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কেরালার প্রবাসী কল্যাণ দপ্তর নোরকা ইতোমধ্যে ইরানে অবস্থানরত কেরালাবাসীদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের চেষ্টা করছে। জাতীয় পর্যায়েও ভারত সরকার নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।