গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইউরোপের আটটি মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপের রাজধানীগুলো বলছে, এই হুমকি শুধু রাজনৈতিক চাপ নয়—এটি বাণিজ্য ও কূটনীতিকে একসঙ্গে আঘাত করে এমন এক পথে ঠেলে দিতে পারে, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন।
মিত্রদের একযোগে কড়া অবস্থান
ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড এক যৌথ বার্তায় বলেছে—মিত্রদের মধ্যে শুল্ক-চাপ ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে দুর্বল করে এবং “বিপজ্জনক নিম্নমুখী সর্পিল” তৈরি করতে পারে। তাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট: আজ শুল্ক-হুমকি, কাল পাল্টা শুল্ক—শেষে ক্ষতি হবে দুই পক্ষের অর্থনীতি ও সাধারণ ভোক্তার ওপর।
ইউরোপীয় নেতারা বিষয়টিকে কেবল গ্রিনল্যান্ডের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাণিজ্য অস্ত্র ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ইস্যুতেও একই ধরনের নজির তৈরি হতে পারে।
আর্কটিক নিরাপত্তা ও ন্যাটোতে চাপ
গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা সবাই মানে। কিন্তু ইউরোপের বক্তব্য হলো, নিরাপত্তা ও অঞ্চলগত সমন্বয় ন্যাটোর কাঠামো ও কূটনৈতিক নিয়মের মধ্যেই হওয়া উচিত। শুল্ককে “চাপের হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করলে মিত্রতা-ভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হতে পারে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট মহল ইঙ্গিত দিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে সমন্বয় ও উপস্থিতি বাড়াতে ইউরোপের ভেতরে আলোচনা জোরদার করা হবে—তবে তা কোনো ধরনের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করে নয়।
বাণিজ্য যুদ্ধ হলে কী ঝুঁকি তৈরি হবে
ইউরোপ প্রকাশ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও তারা সম্ভাব্য উত্তেজনার জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় অর্থনীতির মধ্যে শুল্ক-সংঘাত শুরু হলে সবচেয়ে আগে আঘাত আসবে সরবরাহ ব্যবস্থায়—রপ্তানি ব্যয় বাড়বে, পণ্যের দাম নড়বে, নতুন বিনিয়োগ স্থগিত হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি আরও বড়: কোম্পানিগুলো ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ শৃঙ্খল বদলাতে পারে, যা পরে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও আগের অবস্থায় ফিরতে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















