বাংলা উপশিরোনাম ১ — নাগরিক অধিকার ও বর্তমান বিভাজন
যুক্তরাষ্ট্রে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবসের ৪০তম বার্ষিকী কেবল উৎসবের সীমায় থাকেনি; এটি ছিল নাগরিক অধিকার রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রদর্শনও। বিভিন্ন শহরে প্যারেড, তরুণদের জন্য পরামর্শের কর্মসূচি, খাবার বিতরণ, কমিউনিটি পরিষ্কার ও গাছ লাগানোর মতো সেবামূলক উদ্যোগ চলমান ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিবাদের ভাষা দিয়েছে। মেরিল্যান্ডের একটি মিছিলে গভর্নর ওয়েস মুর বলেন, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল “আরও নিখুঁত রাষ্ট্র” গঠন, এবং তিনি সবাইকে নতুন জাতীয়তাবাদ ও বৈষম্যের মুখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অংশগ্রহণকারীরা ভোটাধিকার সুরক্ষা, উচ্চশিক্ষায় বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচি সংরক্ষণ এবং ন্যায্য মজুরির দাবি‑সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেকের মতে, সরকারি ছুটির ৪০তম বছরটি অতীত সাফল্য স্মরণ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে সেতু নির্মাণের সংকল্প গ্রহণের জন্য যথাযথ।
দীর্ঘদিনের অধিকার নেতারা ও নতুন প্রজন্মের কর্মীরা মনে করিয়ে দেন যে অনেক সফলতা সত্ত্বেও এখনো সমতা অর্জন হয়নি। বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার বিধিনিষেধ, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদনের সমাপ্তি এবং গর্ভপাত অধিকার সংকুচিত হওয়ায় তরুণরা দিনটিকে শান্ত বিরতি নয় বরং প্রতিবাদের ডাক হিসেবে দেখছে। বক্তারা উল্লেখ করেন, কিং শুধু আইনি বৈষম্য দূর করতে চাননি, বরং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শক্তিশালী সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অনেক marcher বললেন, তাঁরা কিংয়ের অহিংস নীতিতে বিশ্বাস করেন, কিন্তু একই সঙ্গে শক্ত ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার সাহসকেও গ্রহণ করেন। ফলে দিবসটি হয়ে ওঠে চেতনাময় ও ভবিষ্যত‑মুখী; যেখানে মানুষের উন্নতি উদযাপনের পাশাপাশি চলমান বর্ণবাদ ও বৈষম্যের মুখোমুখি হওয়ার অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়।

বাংলা উপশিরোনাম ২ — দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও বাতিল হওয়া অনুষ্ঠান
নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন বড় শহরে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন‑সম্পৃক্ত গোষ্ঠীগুলো “রিক্লেইম এমএলকে ডে” সমাবেশ করেছে, যেখানে পুলিশের জবাবদিহিতা, সামাজিক পরিষেবায় বিনিয়োগ এবং অভিবাসন আইনের মানবিক সংস্কারের দাবি করা হয়। এসব বিক্ষোভে বহু বর্ণের মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত বৈষম্য, নিয়োগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও পরিবেশ ন্যায়বিচারের মতো বিষয়ও আলোচনায় আসে। নাগরিক অধিকার নেত্রী মায়া ওয়াইলি বলেন, কেন্দ্রের বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষাগুলো বাতিল হওয়ায় এই সময়টিকে দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা উচিত। বক্তারা সমকামী অধিকার, প্রজনন স্বাধীনতা ও জলবায়ু সুরক্ষার আন্দোলনকে কিংয়ের বৃহত্তর মানব মর্যাদা ও সংহতির দর্শনের সাথে যুক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে কিছু অনুষ্ঠান রদ বা সীমিত করা হয়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বাজেট ঘাটতির কারণে তাদের বার্ষিক এমএলকে নৈশভোজ বাতিল করেছে বা ছোট করেছে। রক্ষণশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কিছু মিডিয়া কমেন্টেটর দাবি করছেন, নাগরিক অধিকার কর্মসূচির আর প্রয়োজন নেই; তাঁরা “রঙ‑অন্ধ” দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার আহ্বান জানালে এনএএসিএপি ও অন্যান্য সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানায়। আয়োজকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নাগরিক অধিকার জাদুঘরে এমএলকে ও জুনিটিন্থে নিঃশুল্ক প্রবেশ বন্ধ করেছে, যা তাঁরা বৃহত্তর অধিকার হ্রাসের প্রতীক হিসেবে দেখেন। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কমিউনিটি নেতারা মনে করেন, এই দিনে কাজ ও মিছিলের মিশ্রণ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে অগ্রগতি স্বতঃসিদ্ধ নয় এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। অনেকেই আশা করেন, দিবসের সেবা ও প্রতিবাদের এই মিশ্রণ ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক অংশগ্রহণকে উজ্জীবিত করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















