০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
“১০ বছর ধরে ট্রোলের শিকার”—বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সমালোচিত ব্যক্তি দাবি মেগান মার্কলের জ্বালানির দাম বাড়ানো অনিবার্য: বৈশ্বিক চাপের মুখে সরকারের সিদ্ধান্ত চীনের NIO সারা বিশ্বে ব্যাটারি সোয়াপ স্টেশন বসাচ্ছে — বৈদ্যুতিক গাড়ির নতুন যুগ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন মন্ত্রী আটলেটিকো ১০ জনের বার্সেলোনাকে হারাল ২-০ — চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টারফাইনালে চমক এস আলম বিতর্কে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে কোনো প্রভাব নেই, সংসদে মুকতাদিরের ব্যাখ্যা এক মাসে দুই দফা বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা সৌদিতে রিয়াদে পাঁচ বছর ভাড়া বাড়বে না — প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর রাশিয়া ইন্টারনেট আরও কঠোর করছে — ভিপিএন নিষিদ্ধ, দেশজুড়ে ক্ষোভ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সীমান্তে আটক ১০ হাজার শ্রমিক — অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশিরাও

বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদে নতুন রেকর্ড, বাড়ছে প্রভাব ও বৈষম্যের ঝুঁকি

বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদ গত বছর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। দারিদ্র্যবিরোধী সংস্থা অক্সফামের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনীদের এই দ্রুত সম্পদবৃদ্ধি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করছে, যা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠক শুরুর সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে অক্সফাম জানায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক ধনকুবেরদের মোট সম্পদ ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০২০ সালের পর থেকে এই সম্পদ বেড়েছে মোট ৮১ শতাংশ, যা আগের সময়ের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত।

দারিদ্র্যের বাস্তবতা ও সম্পদের বৈপরীত্য

অক্সফাম বলছে, একদিকে ধনকুবেরদের সম্পদ ফুলে-ফেঁপে উঠছে, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতি চারজন মানুষের একজন নিয়মিত খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রায় অর্ধেক বৈশ্বিক জনসংখ্যা এখনো দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। এই বৈপরীত্যই বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজনীতিতে ধনীদের প্রভাব

গবেষণায় উঠে এসেছে, ধনকুবেররা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় চার হাজার গুণ বেশি রাজনৈতিক পদে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্ব বৈষম্য ডেটাবেস ও ধনীদের তালিকাসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে অক্সফাম বলছে, সম্পদের এই উল্লম্ফনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতাও কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

Billionaires' wealth hits new peak as their clout grows, Oxfam says By  Reuters

নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। করছাড়, বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমানো এবং একচেটিয়া ব্যবসার নজরদারি শিথিল করার ফলে ধনীদের সম্পদ আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্যের দ্রুত উত্থান, যা আগেই ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি লাভ এনে দিয়েছে।

অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার সতর্ক করে বলেছেন, ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা ব্যবধান এক ধরনের রাজনৈতিক ঘাটতি তৈরি করছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও টেকসই নয়।

কর সংস্কার ও সরকারের প্রতি আহ্বান

অক্সফাম সরকারগুলোর প্রতি জাতীয় পর্যায়ে বৈষম্য হ্রাসের পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। চরম সম্পদের ওপর বেশি কর আরোপ, অর্থ ও রাজনীতির মধ্যে কঠোর দেয়াল গড়ে তোলা এবং লবিং ও নির্বাচনী অর্থায়নে কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে নরওয়ের মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশে সম্পদ কর চালু থাকলেও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালিতে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সম্পদের হিসাব ও ধনকুবেরদের বিস্তার

নাইরোবিভিত্তিক এই সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ধনকুবেরদের সম্পদে যে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে, তা বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মানুষের মোট সম্পদের প্রায় সমান। একই সময়ে বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যা প্রথমবারের মতো তিন হাজার ছাড়িয়েছে। ইলন মাস্ক পাঁচশ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

Wealth of world's 10 richest men doubled in pandemic, Oxfam says | News.az

গণমাধ্যমেও প্রভাব বিস্তার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিধনীদের প্রভাব এখন প্রচলিত ও ডিজিটাল গণমাধ্যমেও বাড়ছে। বিশ্বের প্রধান গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকের বেশি এখন ধনকুবেরদের মালিকানায়। এর মধ্যে জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক, প্যাট্রিক সুন শিয়ং ও ফ্রান্সের ভিনসেন্ট বোলোরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সতর্ক বার্তা

অমিতাভ বেহার মনে করেন, সরকারগুলো এলিট শ্রেণিকে খুশি করতে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সহায়তা কমানো ও নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করার প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

“১০ বছর ধরে ট্রোলের শিকার”—বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সমালোচিত ব্যক্তি দাবি মেগান মার্কলের

বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদে নতুন রেকর্ড, বাড়ছে প্রভাব ও বৈষম্যের ঝুঁকি

০১:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদ গত বছর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। দারিদ্র্যবিরোধী সংস্থা অক্সফামের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনীদের এই দ্রুত সম্পদবৃদ্ধি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করছে, যা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠক শুরুর সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে অক্সফাম জানায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক ধনকুবেরদের মোট সম্পদ ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০২০ সালের পর থেকে এই সম্পদ বেড়েছে মোট ৮১ শতাংশ, যা আগের সময়ের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত।

দারিদ্র্যের বাস্তবতা ও সম্পদের বৈপরীত্য

অক্সফাম বলছে, একদিকে ধনকুবেরদের সম্পদ ফুলে-ফেঁপে উঠছে, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতি চারজন মানুষের একজন নিয়মিত খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রায় অর্ধেক বৈশ্বিক জনসংখ্যা এখনো দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। এই বৈপরীত্যই বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজনীতিতে ধনীদের প্রভাব

গবেষণায় উঠে এসেছে, ধনকুবেররা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় চার হাজার গুণ বেশি রাজনৈতিক পদে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্ব বৈষম্য ডেটাবেস ও ধনীদের তালিকাসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে অক্সফাম বলছে, সম্পদের এই উল্লম্ফনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতাও কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

Billionaires' wealth hits new peak as their clout grows, Oxfam says By  Reuters

নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। করছাড়, বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমানো এবং একচেটিয়া ব্যবসার নজরদারি শিথিল করার ফলে ধনীদের সম্পদ আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্যের দ্রুত উত্থান, যা আগেই ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি লাভ এনে দিয়েছে।

অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার সতর্ক করে বলেছেন, ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা ব্যবধান এক ধরনের রাজনৈতিক ঘাটতি তৈরি করছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও টেকসই নয়।

কর সংস্কার ও সরকারের প্রতি আহ্বান

অক্সফাম সরকারগুলোর প্রতি জাতীয় পর্যায়ে বৈষম্য হ্রাসের পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। চরম সম্পদের ওপর বেশি কর আরোপ, অর্থ ও রাজনীতির মধ্যে কঠোর দেয়াল গড়ে তোলা এবং লবিং ও নির্বাচনী অর্থায়নে কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে নরওয়ের মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশে সম্পদ কর চালু থাকলেও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালিতে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সম্পদের হিসাব ও ধনকুবেরদের বিস্তার

নাইরোবিভিত্তিক এই সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ধনকুবেরদের সম্পদে যে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে, তা বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মানুষের মোট সম্পদের প্রায় সমান। একই সময়ে বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যা প্রথমবারের মতো তিন হাজার ছাড়িয়েছে। ইলন মাস্ক পাঁচশ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

Wealth of world's 10 richest men doubled in pandemic, Oxfam says | News.az

গণমাধ্যমেও প্রভাব বিস্তার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিধনীদের প্রভাব এখন প্রচলিত ও ডিজিটাল গণমাধ্যমেও বাড়ছে। বিশ্বের প্রধান গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকের বেশি এখন ধনকুবেরদের মালিকানায়। এর মধ্যে জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক, প্যাট্রিক সুন শিয়ং ও ফ্রান্সের ভিনসেন্ট বোলোরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সতর্ক বার্তা

অমিতাভ বেহার মনে করেন, সরকারগুলো এলিট শ্রেণিকে খুশি করতে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সহায়তা কমানো ও নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করার প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।