ভারতের সবচেয়ে বেশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী রাজ্য হয়েও রাজস্থানকে আগামী এক দশকের মধ্যে বড় আকারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে হাঁটতে হবে। বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা সামাল দিতে ২০৩৬ সালের মধ্যে রাজ্যে নতুন করে চার হাজার চারশ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যোগ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
নবায়ন শক্তির পাশাপাশি কয়লার বাস্তবতা
নয়াদিল্লিতে সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অধীন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, আগের হিসাবের তুলনায় রাজস্থানের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ চাহিদার অনুমান দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর আগে যেখানে উনিশশ মেগাওয়াট নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজন বলা হয়েছিল, এখন সেই হিসাব বাড়িয়ে চার হাজার চারশ মেগাওয়াট করা হয়েছে। গত সাতাশ নভেম্বর রাজ্যের বিদ্যুৎ সংস্থাকে পাঠানো ওই চিঠিতে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
পুরোনো কেন্দ্র বন্ধ, নতুন চাহিদা
সরকারি নথি অনুযায়ী রাজস্থান তার বিদ্যমান তেরশ পঞ্চাশ মেগাওয়াট পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ধাপে ধাপে বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে বিদ্যুতের সামগ্রিক চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় নবায়ন শক্তি থাকলেও কয়লার বিকল্প পুরোপুরি তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
জাতীয় লক্ষ্য ও বাড়তি চাপ
ভারত বর্তমানে তার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক তৃতীয়াংশ তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পূরণ করে। দেশটি ২০৭০ সালের মধ্যে শূন্য নিঃসরণ লক্ষ্যে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচশ গিগাওয়াটে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবু সরকারি হিসাব বলছে, অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চল্লিশ শতাংশ বাড়িয়ে তিনশ সাত গিগাওয়াটের বেশি করতে হতে পারে।
নিয়ন্ত্রকের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা
রাজস্থানের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ার এই নতুন মূল্যায়নের পর রাজ্যের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পথে এগিয়েছে। গত নভেম্বরে তিন হাজার দুইশ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই সিদ্ধান্ত পুনরায় পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থার আবেদনের পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নবায়ন শক্তির সীমাবদ্ধতা
রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থার যুক্তি অনুযায়ী, সৌর ও বায়ুশক্তি সার্বক্ষণিক পাওয়া যায় না এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। যদিও রাজ্যের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় সত্তর শতাংশই নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, তবু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।
দেশজুড়ে একই চিত্র
শুধু রাজস্থান নয়, ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে কয়লাভিত্তিক প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। বাড়তি চাহিদা ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয়তাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















