বলিউডের প্রখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, সীমান্ত ছবির দ্বিতীয় কিস্তিতে তিনি যুক্ত হচ্ছেন না। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক ছবি সীমান্তের গানের স্রষ্টা হয়েও তিনি সীমান্ত টু-এর জন্য কলম ধরতে অস্বীকার করেছেন। তার যুক্তি, পুরনো সাফল্যের উপর ভর করে একই গান নতুন ভাবে পরিবেশন করা সৃজনশীলতার অভাব ই নামান্তর।
কেন সীমান্ত টু থেকে সরে দাঁড়ালেন জাভেদ
এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার জানান, ছবির নির্মাতারা তার কাছে গানের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে না বলে দেন। তার ভাষায়, আগে যে গান জনপ্রিয় হয়েছে, সেটিকে সামান্য বদলে আবার হাজির করা বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল দেউলিয়াপনার উদাহরণ। নতুন ছবি হলে নতুন গানই হওয়া উচিত, নচেৎ স্বীকার করতে হবে যে আগের মতো কাজ আর করা সম্ভব নয়।
নতুন ছবিতে নতুন গানই কাম্য
জাভেদের মতে, যখন একটি নতুন সিনেমা বানানো যায়, তখন নতুন গান তৈরির সামর্থ্যও থাকা উচিত। তিনি বলেন, অতীতকে অতীত হিসেবেই থাকতে দেওয়া দরকার। পুরনো কীর্তির উপর নির্ভরশীল হওয়ার অর্থ নিজস্ব সৃষ্টিশীলতার সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ষাটের দশকের একটি জনপ্রিয় যুদ্ধচিত্রের কথা তুলে ধরেন, যেখানে আগের ছবির বিখ্যাত গান ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ নতুন গান লেখা হয়েছিল এবং দর্শক তা গ্রহণও করেছিলেন।
পুরনো গৌরব আঁকড়ে ধরার প্রবণতার সমালোচনা
জাভেদ আখতারের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি মনে করেন অতীতের গৌরব নিয়ে বাঁচার প্রবণতা শিল্পের বিকাশে অন্তরায়। নতুন প্রজন্মের দর্শকের জন্য নতুন ভাবনা, নতুন সুর এবং নতুন কথাই হওয়া উচিত ছবির শক্তি। পুরনো সাফল্যকে পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা মানে নিজের সীমা স্বীকার করে নেওয়া।

সীমান্ত টু নিয়ে প্রত্যাশা
আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে মুক্তির পরিকল্পনায় থাকা সীমান্ত টু ইতিমধ্যেই দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে ফিরছেন সানি দেওল, তার সঙ্গে রয়েছেন বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ এবং অহান শেট্টি। একাত্তরের যুদ্ধকে পটভূমি করে নির্মিত এই ছবিতে রয়েছে দেশপ্রেম ও আবেগের নতুন রূপ। তবে গানের ক্ষেত্রে পুরনো সুরের পুনর্ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















