গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হুমকিতে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থানের বিরোধিতা করায় এবার ইউরোপের আটটি দেশকে সরাসরি শুল্কের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাল্টা জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনার পটভূমি
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা গোপন করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেই দাবি আরও জোরালো হওয়ায় আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্ক গভীর সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন ইউরোপের আটটি দেশ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে সীমিতসংখ্যক সেনা পাঠায়। এর পরই শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প।

ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ বার্তা
রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপের আটটি দেশ স্পষ্টভাবে গ্রিনল্যান্ডের পাশে থাকার কথা জানায়। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউরোপের বিরুদ্ধে শুল্ক কার্যকর করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি বছরে শুল্কসংক্রান্ত উত্তেজনা কমার যে আশা ছিল, তা আপাতত ভেঙে পড়েছে।
মেলোনির সতর্কবার্তা
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, যিনি ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, এই সিদ্ধান্তকে বড় ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে তিনি জানান, কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে ইউরোপকে অর্থনৈতিকভাবে শাস্তি দেওয়ার বিপক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সংকটকে কিছুটা হালকা করে দেখাতে চেয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি রয়েছে এবং এই সংকটে ন্যাটোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অবস্থান
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চান বলে জানিয়েছেন দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী। তার ভাষায়, এই শুল্ক হুমকি ভুল এবং উল্টো ফল বয়ে আনবে। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপজুড়ে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে কাজ করছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যান্টি কোয়ারশন ব্যবস্থাটি সক্রিয় করার পক্ষে জোর দিচ্ছেন, যা প্রয়োজনে সরকারি দরপত্র, সেবা বাণিজ্য ও আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে।
ইউরোপের শক্ত অস্ত্রের ইঙ্গিত
এই ব্যবস্থাকে ইউরোপের বাণিজ্যিক শক্ত অস্ত্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যা আগে কখনও ব্যবহার হয়নি। জার্মানির ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও সামাজিক মাধ্যমে একই আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান প্রকৌশল খাতের সংগঠনও এই অবস্থানকে সমর্থন দিয়েছে।
সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকি শুধু বাণিজ্য নয়, বরং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ককেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















