ড্রাগন আর ফ্যান্টাসির জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতায় পা রাখলেন এমিলিয়া ক্লার্ক। গেম অব থ্রোনস শেষ হওয়ার প্রায় সাত বছর পর আবারও টেলিভিশন সিরিজে প্রধান চরিত্রে ফিরছেন তিনি। নতুন সিরিজ পনিসে ক্লার্ককে দেখা যাবে শীতল যুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি এক গুপ্তচর কাহিনী, যেখানে তিনি এক সাধারণ স্ত্রী থেকে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় সদস্য।
নতুন সিরিজে নতুন শুরু
পনিস সিরিজে এমিলিয়া ক্লার্ক অভিনয় করছেন বিয়া চরিত্রে। সত্তরের দশকের মস্কোতে অবস্থানরত এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার স্ত্রী তিনি। শুরুতে তাকে ধরা হয় গুরুত্বহীন একজন মানুষ হিসেবে। কিন্তু রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বিয়া নিজেই গোয়েন্দা সংস্থায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ধীরে ধীরে নিজের ক্ষমতা ও পরিচয় গড়ে তোলেন। এই চরিত্রের মধ্য দিয়েই ক্লার্ক নতুনভাবে নিজের অভিনয় জীবনের দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছেন।

গেম অব থ্রোনসের পর দীর্ঘ আত্মঅনুসন্ধান
গেম অব থ্রোনস যখন শুরু হয়, তখন এমিলিয়া ক্লার্কের বয়স ছিল মাত্র তেইশ। ক্যারিয়ারের তৃতীয় কাজেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়ে যান তিনি। সেই সময় নিজের অভিজ্ঞতা বা পছন্দ নিয়ে ভাবার সুযোগই পাননি বলে জানান অভিনেত্রী। দীর্ঘ নয় বছর ধরে একটি চরিত্রে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। দুইবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, বাবার মৃত্যু এবং অতিরিক্ত খ্যাতির চাপ একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে তাকে।
মহামারিতে থেমে যাওয়া জীবন
দুই হাজার উনিশ সালের পর করোনাকালেই প্রথমবারের মতো পুরোপুরি থেমে যাওয়ার সুযোগ পান এমিলিয়া ক্লার্ক। সেই সময় মানসিক ভেঙে পড়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে এই বিরতি তাকে নিজের জীবন ও কাজ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি বুঝতে পারেন, এতদিন তার ক্যারিয়ারের অনেক সিদ্ধান্তই তার ব্যক্তিগত রুচির প্রতিফলন ছিল না।

নিজের পছন্দের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফেরানো
এখন আর যেকোনো প্রস্তাবে হ্যাঁ বলতে চান না ক্লার্ক। নিজের কাজ, নিজের পছন্দ এবং নিজের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। পনিস সিরিজে দুটি চরিত্রের মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়াটাকেই তিনি দেখছেন এই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে। এই সিরিজের সঙ্গে তিনি শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত, যা তাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সম্পৃক্ত করেছে।
সহকর্মীদের চোখে এমিলিয়া
সহঅভিনেত্রী হেইলি লু রিচার্ডসনের মতে, ক্লার্ক সেটে অত্যন্ত আন্তরিক ও মানবিক। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সহকর্মীদের জন্য নিজ হাতে খাবার বানিয়ে দেওয়ার মতো ছোট ছোট বিষয়েই তার যত্নশীল মনোভাব ফুটে ওঠে। অতিরিক্ত খ্যাতি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করার চেষ্টা করেন তিনি, যাতে মানুষের সঙ্গে সত্যিকারের সংযোগ তৈরি করা যায়।

স্বাভাবিক থাকার লড়াই
অতিরিক্ত পরিচিতি কখনো কখনো মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করেন ক্লার্ক। তার ভাষায়, প্রথম সাক্ষাতে মানুষ তাকে নয়, তার খ্যাতিকেই দেখে। অথচ মানুষই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। অভিনয়, কাজ কিংবা জীবন—সব ক্ষেত্রেই তিনি সহযোগিতা ও মানবিক সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
নতুন অধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে
পনিস শুধু আরেকটি সিরিজ নয়, এমিলিয়া ক্লার্কের জন্য এটি নিজের শর্তে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ড্রাগনের আগুন পেরিয়ে এবার তিনি দাঁড়াতে চান নিজের মাটিতে, নিজের মতো করে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















