১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি তাইওয়ানের বৃহৎ যুদ্ধমহড়া শুরু, যুদ্ধক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নতুন কৌশলের পরীক্ষা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ   

ইরানে আত্মসমর্পণের আল্টিমেটাম, বিক্ষোভ দমনে কড়া বার্তা

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কে কেন্দ্র করে তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের আল্টিমেটাম দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমাদ রেজা রাদান জানিয়েছেন, যেসব মানুষ ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছেন, তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে তুলনামূলকভাবে হালকা শাস্তি পাবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণদের একটি অংশ পরিস্থিতি না বুঝেই রাস্তায় নেমেছিল, তাদের শত্রু হিসেবে দেখা হবে না। তবে আত্মসমর্পণের জন্য সর্বোচ্চ তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। বহু বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ছিল ইরানের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন অভিযানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে এই আন্দোলন দাঙ্গায় রূপ নেয় এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো বিদেশি শক্তির উসকানি ছিল।

Iran says youths "deceived" into protesting can surrender for "leniency" -  Sandhills Express

হাজারো গ্রেপ্তার

দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাতে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রায় তিন হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অবশ্য আরও ভিন্ন; তাদের মতে, গ্রেপ্তারকৃত মানুষের সংখ্যা বিশ হাজারের কাছাকাছি। পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার মূলে থাকা শক্তিকে ভেঙে দিতে হবে এবং দেশি-বিদেশি অপরাধীরা শাস্তি এড়াতে পারবে না।

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

এদিকে জাতিসংঘ ইরানে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ইরান যেন মৃত্যুদণ্ডকে ভয়ংকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তার মতে, গত বছরে দেশটিতে প্রায় পনেরশ মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু ও অভিবাসীরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

Iran warns protesters who joined 'riots' to surrender

Iran police chief promises 'leniency' to those who surrender over 'riots' |  The Times of Israel

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি

ইরানে আত্মসমর্পণের আল্টিমেটাম, বিক্ষোভ দমনে কড়া বার্তা

০৬:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কে কেন্দ্র করে তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের আল্টিমেটাম দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমাদ রেজা রাদান জানিয়েছেন, যেসব মানুষ ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছেন, তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে তুলনামূলকভাবে হালকা শাস্তি পাবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণদের একটি অংশ পরিস্থিতি না বুঝেই রাস্তায় নেমেছিল, তাদের শত্রু হিসেবে দেখা হবে না। তবে আত্মসমর্পণের জন্য সর্বোচ্চ তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। বহু বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ছিল ইরানের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন অভিযানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে এই আন্দোলন দাঙ্গায় রূপ নেয় এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো বিদেশি শক্তির উসকানি ছিল।

Iran says youths "deceived" into protesting can surrender for "leniency" -  Sandhills Express

হাজারো গ্রেপ্তার

দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাতে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রায় তিন হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অবশ্য আরও ভিন্ন; তাদের মতে, গ্রেপ্তারকৃত মানুষের সংখ্যা বিশ হাজারের কাছাকাছি। পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার মূলে থাকা শক্তিকে ভেঙে দিতে হবে এবং দেশি-বিদেশি অপরাধীরা শাস্তি এড়াতে পারবে না।

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

এদিকে জাতিসংঘ ইরানে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ইরান যেন মৃত্যুদণ্ডকে ভয়ংকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তার মতে, গত বছরে দেশটিতে প্রায় পনেরশ মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু ও অভিবাসীরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

Iran warns protesters who joined 'riots' to surrender

Iran police chief promises 'leniency' to those who surrender over 'riots' |  The Times of Israel