ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর এক সমাপ্তিতে শেষ বলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। এলিমিনেটর ম্যাচে শেষ বলে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সিলেট দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন ক্রিস ওকস। এই জয়ে বিপিএলে টিকে থাকল সিলেট, আর সাবেক চ্যাম্পিয়ন রংপুরের যাত্রা থামল টুর্নামেন্ট থেকেই।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট
এই রুদ্ধশ্বাস জয়ের ফলে শিরোপার লড়াইয়ে বেঁচে থাকল সিলেট। তারা উঠে গেল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। বিপরীতে, এলিমিনেটর হেরে বিদায় নিতে হলো রংপুরকে।
শেষ ওভারের রোমাঞ্চ
১১২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শেষ ওভারে গিয়ে চরম চাপে পড়ে যায় সিলেট। রংপুরের ফাহিম আশরাফের করা শেষ ওভারে প্রথম তিন বলেই আসে মাত্র দুই রান, পরের দুই বলে কোনো রানই হয়নি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে শেষ বলে দরকার ছিল ম্যাচ জিততে চার রান, অথবা এক রান নিয়ে ম্যাচ টাই করার সুযোগ।
চতুর্থ বলে মঈন আলি আউট হয়ে গেলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। কিন্তু শেষ বলে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট চালান ওকস। বল সোজা গ্যালারির বাইরে পাঠিয়ে দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে সিলেট শিবিরে শুরু হয় উল্লাস।
রংপুরের ব্যাটিং বিপর্যয়
এর আগে টস জিতে সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন, যা শুরু থেকেই কার্যকর হয়। পেসার খালেদ আহমেদ রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপে তাণ্ডব চালান। মাত্র ১৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি।

রংপুরের তারকাসমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইনআপ চাপ সামলাতে পারেনি। ওপেনার তাওহিদ হৃদয় ও ডেভিড মালান দ্রুত ফিরে যান। অধিনায়ক লিটন দাস করেন মাত্র এক রান। পুরো ইনিংসেই ধুঁকতে থাকে দলটি।
মাহমুদউল্লাহর লড়াই
অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এক প্রান্ত আগলে রেখে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ২৬ বলে ৩৩ রান করে তিনি দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। খুশদিল শাহ করেন ৩০ রান। তবে অন্য প্রান্ত থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ১১১ রানেই থামে রংপুর। খালেদের পাশাপাশি ওকস ও নাসুম আহমেদ দুটি করে উইকেট নিয়ে রান চেপে ধরেন।
সিলেটের ধীরগতির শুরু
রান তাড়ায় সিলেটের শুরুটাও ভালো ছিল না। অষ্টম ওভারে দলীয় ৪৪ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। আলিস ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানের আঘাতে ম্যাচ তখন রংপুরের দিকেই ঝুঁকে যায়।
মিরাজ-বিলিংসের জুটি
সেই সংকটময় মুহূর্তে ম্যাচে ফেরান স্যাম বিলিংস ও অধিনায়ক মিরাজ। ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েন বিলিংস। ৪০ বলে ২৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে ১৮তম ওভারে আউট হন তিনি। তার বিদায়ের পর নাটকীয় শেষের মঞ্চ প্রস্তুত হয়, যেখানে নায়ক হয়ে ওঠেন ক্রিস ওকস।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















