সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার পক্ষে অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তাঁর দুই মেয়ে খাদিজা ও রহিমা। তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু অসম্মান নয়।
সাক্ষাৎকার থেকে বিতর্কের সূত্রপাত
ব্রিটিশ সম্প্রচার মাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের কথা উল্লেখ করেন এ আর রহমান। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার পেছনে প্রভাবশালী মহলের পরিবর্তন একটি কারণ হতে পারে এবং যাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা সব সময় সঙ্গীতের বিশেষজ্ঞ নাও হতে পারেন। একই কথোপকথনে তিনি শ্রুত কথার সূত্রে একটি সাম্প্রদায়িক ধারণার কথাও বলেন। বক্তব্যের এই অংশ আলাদা করে তুলে ধরার পরই বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

‘অসম্মত হও, অপমান নয়’
সমালোচনার জবাবে রহমানের দুই মেয়ে একটি দীর্ঘ লেখা শেয়ার করেন, যার শিরোনাম ছিল ‘অসম্মত হও, অপমান নয়’। লেখাটিতে বলা হয়, রহমান নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই কথা বলেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়। লেখক আরও বলেন, সমালোচনার নামে যে ভাষা ও আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা মতভেদের সীমা ছাড়িয়ে বিদ্বেষে পরিণত হয়েছে।
এই লেখায় রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবন, ভারতীয় চলচ্চিত্র ও তামিল সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান এবং বিশ্ব সংগীতে তাঁর অবস্থানের কথাও তুলে ধরা হয়। ব্যক্তিগত মতের কারণে একজন শিল্পীর সম্পূর্ণ কাজকে অস্বীকার করা যায় না বলেই মত প্রকাশ করা হয়।
মেয়েদের প্রকাশ্য সমর্থন
খাদিজা সামাজিক মাধ্যমে ওই লেখার প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, যা স্পষ্টভাবে বাবার প্রতি তাঁর সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। রহিমাও একই অবস্থান নেন। তাঁদের বার্তা ছিল, অসম্মতি জানানো যেতেই পারে, কিন্তু মর্যাদা রক্ষা করাই সভ্যতার পরিচয়।

রহমানের ব্যাখ্যা ও অবস্থান
সমালোচনার প্রেক্ষিতে রবিবার একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এ আর রহমান। তিনি বলেন, ভারতই তাঁর অনুপ্রেরণা, শিক্ষক ও ঘর। সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর উদ্দেশ্য, কাউকে আঘাত করা নয়। তাঁর আন্তরিকতা যেন সবাই বোঝে, সেই প্রত্যাশাও জানান তিনি।
যে প্রশ্ন থেকে বিতর্কের সূত্রপাত, সেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে অমহারাষ্ট্র বা তামিল নয় এমন শিল্পীদের প্রতি পক্ষপাত আছে কি না। সেই প্রশ্নের উত্তর থেকেই বিষয়টি আলোচনায় আসে।
শিল্পী, মতামত ও সম্মানের সীমারেখা
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, শিল্পীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামত প্রকাশের অধিকার এবং তা নিয়ে জনসমালোচনার সীমা কোথায় থাকা উচিত। রহমানের মেয়েদের অবস্থান সেই সীমারেখাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















