শীত মৌসুমে বারবিকিউ ও আউটডোর ক্যাম্পিংয়ের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারজনিত অসুস্থতার ধরনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দুবাইয়ের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই সময়ে ব্যাকটেরিয়াজনিত ফুড পয়জনিংয়ের চেয়ে ভাইরাসজনিত গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিসের ঘটনা বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে নোরোভাইরাসের সংক্রমণ শীতে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
শীতে কেন বাড়ে ‘স্টমাক ফ্লু’
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শীতে মানুষ বেশি সময় একসঙ্গে ঘরের ভেতরে থাকে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভাইরাস বেশি সময় টিকে থাকে এবং হাত, খাবার ও বিভিন্ন পৃষ্ঠের মাধ্যমে খুব সহজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি।
দুবাইয়ের আল গারহৌদের প্রাইম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ রিজওয়ান জানান, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ছুটির মৌসুমের পর থেকে হাসপাতালে বমি ও ডায়রিয়াসহ গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিসের রোগী বাড়ছে। এসব সংক্রমণকে শীতকালীন ভাইরাসজনিত রোগ হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

খাবারজনিত সংক্রমণের মূল কারণ
ডা. রিজওয়ান বলেন, গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিস সাধারণত আধা সেদ্ধ মাংস, কাঁচা ও রান্না করা খাবারের মধ্যে দূষণ, হাত পরিষ্কার না রাখা কিংবা অনিরাপদ তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় খাবার রেখে দেওয়ার কারণে হয়। বিশেষ করে ম্যারিনেট করা মাছ ও মাংস সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে তা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে। এসব খাবার রান্না বা বারবিকিউ করার পর সঙ্গে সঙ্গেই খাওয়া উচিত।
সতর্ক লক্ষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী
এই রোগের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পানির মতো ডায়রিয়া, বমি, অবসাদ, তরল গ্রহণে সমস্যা, অতিরিক্ত ঝিমুনি বা মানসিক সচেতনতা কমে যাওয়া। বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি থাকায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

বারবিকিউ মৌসুমে সংরক্ষণের ভুল
মেডকেয়ার রয়্যাল স্পেশালিটি হাসপাতাল, আল কুসাইসের গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডা. পৃথ্বী প্রিয়দর্শনী জানান, বারবিকিউ মৌসুমে খাবারজনিত অসুস্থতা বাড়ার প্রধান কারণ শীত নয়, বরং খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি। তার মতে, গাড়ির ভেতরে, পর্যাপ্তভাবে ঠান্ডা না রাখা কুলার বা পিকনিক টেবিলে রাখা খাবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কাঁচা ও রান্না করা খাবারের জন্য একই বাসন বা সরঞ্জাম ব্যবহার করাও সংক্রমণের বড় কারণ। ম্যারিনেট করা মাংস ফ্রিজের বাইরে দুই ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। আবার শীতকালেও পার্ক করা গাড়ির ভেতরে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে, তখন নিরাপদ সময় এক ঘণ্টারও কমে আসে।

সংক্রমণ এড়ানোর উপায়
ডা. প্রিয়দর্শনীর মতে, বাইরে খাবার খাওয়ার সময় সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ খাবার ব্যবস্থাপনা। কাঁচা ও রান্না করা খাবারের জন্য আলাদা সরঞ্জাম ব্যবহার, পরিবহনের সময় খাবার যথাযথভাবে ঠান্ডা রাখা এবং সম্পূর্ণভাবে রান্না নিশ্চিত করলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া—দুটো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















