ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে ব্যাপক সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রতিরক্ষামূলক গাড়ি চালনা প্রশিক্ষক, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, অধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ আইন না মানা ও সচেতনতার অভাব
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ট্রাফিক আইন না মানা এবং সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ। আয়োজকদের প্রধান উপদেষ্টা মীর আবদুল মোতালেব বলেন, চালকেরা যদি নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতেন এবং সাধারণ মানুষ যদি সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকতেন, তাহলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, নাগরিকদের মধ্যেও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে হবে।

যানজটে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান পলাশ বলেন, রাজধানী ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। তাঁর মতে, শুধু ঢাকাতেই প্রতিদিন প্রায় আশি লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, যার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার চারশ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে এই ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
আইন প্রয়োগ ও জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও মত দেন তারা।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা শিয়াবুর রহমান শিহাব, নিরাপত্তা পরামর্শক মোহাম্মদ জিয়াউল আহসান, পরিচালক শরিফ হোসেন হৃদয়সহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লিফলেট ও স্টিকারের মাধ্যমে সচেতনতা
সচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পথচারী ও চালকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং গাড়িতে লাগানোর জন্য স্টিকার দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বার্তা প্রচার করা হয়।
আয়োজকদের আশা, এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















