ইরানে যৌথ হামলার মাত্র দশ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানে স্পষ্ট দূরত্ব দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই মিত্র দেশের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বাড়ছে চাপ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ভিন্ন অবস্থান
ইসরায়েলের হামলার পর তেহরানের আবাসিক এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের ছবি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন জ্বালানি ডিপোতে আঘাত হানার পর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান পুরোপুরি এক নয় বলে বিশ্লেষকদের মত। অনেক ইসরায়েলি নেতা মনে করছেন, ইরানকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করে দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে অনীহা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত অগ্রাধিকার অনেক বিস্তৃত। ফলে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ ওয়াশিংটনের তুলনায় তেলআবিবের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে পরিবর্তন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দিকে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে অভিযান চালানোর কথা বলেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে।
একই সময়ে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জনমতের চাপ ট্রাম্প প্রশাসনকে দ্রুত সংঘাত কমানোর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

হামলার লক্ষ্য নিয়ে সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শীর্ষ নেতা ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা লিন্ডসে গ্রাহামও ইসরায়েলকে লক্ষ্য নির্ধারণে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও যেন দেশটি নতুন করে গড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
যুক্তরাষ্ট্রে জনমতের চাপ
যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনমতও ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছেন।
একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে। গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে মার্কিন জনমতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক শিবিরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ইসরায়েলকে সমর্থনের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সম্প্রতি ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তার মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কৌশলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















