চীন ভ্রমণ শেষে বদলে যাওয়া জীবন
পঁচাশি বছর বয়সেও ইউটিউবে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন বব ও ফ্রান জার্মান। বয়সের ভার তাদের শরীর ও মনকে স্পর্শ করতে পারেনি—এই সত্য যেমন বিস্ময়কর, তেমনি অনুপ্রেরণাদায়ক। তবে এই সুস্থতা ও প্রাণবন্ত জীবন সব সময় তাদের সঙ্গী ছিল না। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দুজনকেই মুখোমুখি হতে হয়েছিল ভয়ংকর রোগের।
উনিশশো বিরানব্বই সালের শেষ দিকে চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ফ্রান শরীরে হালকা পেশিগত পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, একটি চোখ খুলতেই পারছেন না।

ভুল রোগ নির্ণয় ও কঠিন বাস্তবতা
চিকিৎসক প্রথমে ফ্রানের সমস্যাকে বেলস পলসি বলে শনাক্ত করেন। এটি সাধারণত সাময়িক ও চিকিৎসাযোগ্য একটি অবস্থা, যেখানে মুখের স্নায়ুতে প্রদাহের কারণে এক পাশের পেশি হঠাৎ দুর্বল বা অবশ হয়ে যায়। তবে ফ্রান এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি।
তিনি একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। সেখানেই জানা যায় প্রকৃত সত্য। ফ্রান আসলে মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে আক্রান্ত। এটি একটি বিরল ও দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ, যার ফলে পেশি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ক্লান্ত হয়ে যায়।

আশাহীন ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
চিকিৎসকের কাছ থেকে ফ্রান শুনেছিলেন, এই রোগ থেকে আর সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। বলা হয়েছিল, অসুখটি তার আয়ু কমিয়ে দেবে এবং সারা জীবন ওষুধের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। বছরের পর বছর তিনি শারীরিক যন্ত্রণা ও অস্বস্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন।
তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বব ও ফ্রান জীবনের এই কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বয়স ও রোগ—দুটোকেই অগ্রাহ্য করে তারা প্রমাণ করেছেন, সঠিক সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় মানসিকতা মানুষকে কত দূর এগিয়ে নিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















