রোদে পুড়ে যাওয়া আর রোদে অ্যালার্জি এক বিষয় নয়। অনেকেই আছেন, যাঁদের ক্ষেত্রে অল্প সময় সূর্যের আলোতে থাকলেই ত্বকে ফুসকুড়ি, লালচে দাগ, চুলকানি কিংবা ফোসকার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কেউ কেউ দিনের পর দিন অসুস্থ বোধ করেন। অথচ সূর্য তো এড়ানো সম্ভব নয়। তাহলে কেন এমন হয়, কীভাবে তৈরি হয় এই অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া—তা নিয়েই চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা।
রোদে অ্যালার্জি আসলে কী
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, রোদে অ্যালার্জি মানে সূর্যের প্রতি সরাসরি অ্যালার্জি নয়। এটি মূলত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি ভুল প্রতিক্রিয়া। সূর্যের আলো ত্বকে পড়লে কিছু মানুষের শরীর সেই ক্ষতিগ্রস্ত ত্বককে ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। এর ফলেই ত্বকে প্রদাহ তৈরি হয় এবং দেখা দেয় লালচে ভাব, চুলকানি, ফুসকুড়ি কিংবা ছোট ফোসকা।
দুবাইয়ের এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, যাঁদের আগে থেকেই অটোইমিউন রোগ আছে, ত্বকের সমস্যা রয়েছে বা যাঁরা তুলনামূলক কম রোদ পাওয়া এলাকায় থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা ত্বকে থাকা কিছু রাসায়নিকের সঙ্গে তার বিক্রিয়া শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে।

রোদে অ্যালার্জি আর রোদে পোড়া কেন আলাদা
চিকিৎসকদের ভাষায়, রোদে পোড়া হলে ত্বকের ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এটি যে কারও হতে পারে। কিন্তু রোদে অ্যালার্জি অনেক সময় অল্প সময় রোদে থাকলেও দেখা দেয় এবং সাধারণত খোলা অংশেই সীমাবদ্ধ থাকে। বারবার রোদে গেলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে এবং ব্যক্তি ভেদে এর তীব্রতা ভিন্ন হয়।
অতিবেগুনি রশ্মির ভূমিকা
সূর্যের আলোতে থাকা অতিবেগুনি রশ্মিই রোদে অ্যালার্জির প্রধান কারণ। এর মধ্যে এক ধরনের রশ্মি ত্বকের গভীরে ঢুকে দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জির জন্য দায়ী। কারও ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ রোদই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। এসব রশ্মি ত্বকের বার্ধক্য, ক্যানসার এবং অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ায়।
রোদে অ্যালার্জির বিভিন্ন ধরন
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোদে অ্যালার্জির ধরন একাধিক এবং প্রতিটির লক্ষণও আলাদা। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এক ধরনের অ্যালার্জি, যাকে সাধারণভাবে সান পয়জনিং বলা হয়। দীর্ঘদিন কম রোদে থাকার পর হঠাৎ রোদে বের হলে ত্বক লালচে হয়ে যায়, চুলকায় এবং জ্বালা করে। কখনও কখনও জ্বর, মাথাব্যথা বা দুর্বলতাও দেখা দেয়।
আরেক ধরনের সমস্যা হয় তখন, যখন সূর্যের আলো ত্বকে লাগানো প্রসাধনী, সুগন্ধি বা কিছু ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। এতে ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দেয়, যা কখনও খোলা জায়গা ছাড়িয়ে কাপড়ে ঢাকা অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সূর্যের আলোতে বেরোনোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই চাকা ওঠার মতো লাল ফোলা দাগ দেখা যায়, যা তীব্র চুলকানির কারণ হয়। আবার বংশগত কিছু সমস্যায় মুখ ও ঠোঁটে দীর্ঘস্থায়ী র্যাশ দেখা দিতে পারে, যা সূর্যের আলোতেই বাড়ে।
কী কারণে ঝুঁকি বাড়ে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রোদ নয়, শরীরের ভেতরের কিছু রোগও রোদে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ায়। অটোইমিউন রোগের একটি ধরনে সূর্যের আলো লাগলেই ত্বকে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়। বিরল কিছু রক্তজনিত রোগে সূর্যের আলো সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘদিনের ত্বকের রোগ থাকলেও রোদে সমস্যা বাড়তে পারে। এ ছাড়া কিছু ওষুধ, প্রসাধনী ও সুগন্ধি রোদে অ্যালার্জি আরও তীব্র করে তোলে।
কীভাবে রোদে অ্যালার্জি সামলাবেন
চিকিৎসকদের মতে, সচেতন থাকলেই অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বাইরে যাওয়ার আগে ত্বক সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ঠোঁট, চোখ ও খোলা অংশ ঢেকে রাখা দরকার। দিনের সবচেয়ে তীব্র রোদের সময় বাইরে কম থাকা ভালো। নতুন প্রসাধনী বা ওষুধ ব্যবহার করলে রোদে বেরোনোর আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















