০৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
আইসিসি সভায় ভোটে বাংলাদেশের বিপক্ষে রায়, বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা বলিউডে ‘সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের’ ইঙ্গিত দিয়ে সমালোচনার মুখে নতুন বয়ান এআর রহমানের ডেভিড–ভিক্টোরিয়ার ব্র্যান্ড বনাম পরিবারের সম্পর্ক, বিস্ফোরক অভিযোগে মুখ খুললেন ব্রুকলিন বেকহাম আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিসায় নতুন শর্ত, দিতে হতে পারে বড় অঙ্কের বন্ড শারজাহে দুই মিলিয়ন দিরহাম গবেষণা অনুদান চালু, ফায়া মানব ইতিহাস গবেষণায় নতুন দিগন্ত নিতিন নবীন বিজেপির নতুন জাতীয় সভাপতি, সবচেয়ে কম বয়সে শীর্ষ পদে সংবিধানের চেতনা দুর্বল করছে শাসকগোষ্ঠী, রায়বরেলিতে তীব্র আক্রমণ রাহুল গান্ধীর  ২০২৬ ‘ব্রিজ ইয়ার’—পোশাক খাতে স্থিতিশীলতা আছে, কিন্তু টেক-অফের আগে সময় কমছে আফগান বাণিজ্য বন্ধে বাধ্য পাকিস্তান, সন্ত্রাস দমনে কাবুলের অনীহার অভিযোগ গ্রিনল্যান্ড ঘিরে শুল্ক-চাপ থেকে সিরিয়া যুদ্ধবিরতি—বিশ্ব রাজনীতিতে অর্থনীতি ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠছে

আফগান বাণিজ্য বন্ধে বাধ্য পাকিস্তান, সন্ত্রাস দমনে কাবুলের অনীহার অভিযোগ

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে কাবুল কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ আবারও পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

ইসলামাবাদে খাইবার পাখতুনখাওয়া নিরাপত্তা বিষয়ক এক জাতীয় কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সম্পূর্ণ বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় না পৌঁছালেই ভালো হতো, কিন্তু বাস্তবতায় এই অবস্থা এড়ানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, সীমান্তে পূর্ণ অবরোধ তৈরি হয়েছে, যা কারও কাম্য ছিল না, তবে পরিস্থিতি পাকিস্তানকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে।

ব্যর্থ আলোচনা ও মধ্যস্থতার চেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। সন্ত্রাস দমনে যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক দফা আলোচনা হলেও সেগুলো ফলপ্রসূ হয়নি। তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতার চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো সমাধান আসেনি। পাকিস্তান কূটনৈতিক পথে সমস্যা মেটাতে বারবার উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু আফগান অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণে বাস্তব প্রতিশ্রুতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শান্তির প্রশ্নে কাবুলের অবস্থান
শাহবাজ শরিফ বলেন, এবার স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—আফগানিস্তান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায় কি না। তিনি আফগান জনগণকে পাকিস্তানের ভাইবোন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অন্তত নিজেদের জনগণের প্রতি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে হলেও কাবুলের উচিত সন্ত্রাসবাদ রুখে দাঁড়ানো। পাকিস্তান চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Pakistan threatens to 'obliterate' Taliban after peace talks fail | Reuters

খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখন অনিবার্য। রাষ্ট্র সন্ত্রাস নির্মূলে চূড়ান্তভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি এই প্রদেশকে পাকিস্তানের অন্যতম কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে এখানকার জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতুলনীয় আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে তাঁদের ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে পেশাওয়ারের সেনা স্কুলে ভয়াবহ হামলার পর রাষ্ট্র যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাতে ভালো বা মন্দ তালেবানের কোনো বিভাজন নেই। এই নীতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সন্ত্রাস ফের মাথাচাড়া দেওয়ার কারণ
শাহবাজ শরিফ প্রশ্ন তোলেন, ব্যাপক ত্যাগের মাধ্যমে যখন সন্ত্রাসবাদ প্রায় নির্মূল করা হয়েছিল, তখন আবার কীভাবে এই সমস্যা ফিরে এলো। তাঁর মতে, ২০১৮ সালের আগে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। এরপর আবার এই বিপদ মাথাচাড়া দেয়, যার কারণ সবারই জানা। ইঙ্গিতে তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নীতিগত বিচ্যুতির দিকে ইশারা করেন।

আফগান শরণার্থী প্রসঙ্গ ও হতাশা
আফগানিস্তানের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান প্রায় চার মিলিয়ন আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও পাকিস্তানকে নিজস্ব সম্পদ দিয়েই এই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো দয়া ছিল না, বরং নৈতিক দায়িত্ব ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে তার প্রতিদান মিলছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিসি সভায় ভোটে বাংলাদেশের বিপক্ষে রায়, বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা

আফগান বাণিজ্য বন্ধে বাধ্য পাকিস্তান, সন্ত্রাস দমনে কাবুলের অনীহার অভিযোগ

০৫:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে কাবুল কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ আবারও পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

ইসলামাবাদে খাইবার পাখতুনখাওয়া নিরাপত্তা বিষয়ক এক জাতীয় কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সম্পূর্ণ বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় না পৌঁছালেই ভালো হতো, কিন্তু বাস্তবতায় এই অবস্থা এড়ানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, সীমান্তে পূর্ণ অবরোধ তৈরি হয়েছে, যা কারও কাম্য ছিল না, তবে পরিস্থিতি পাকিস্তানকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে।

ব্যর্থ আলোচনা ও মধ্যস্থতার চেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। সন্ত্রাস দমনে যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক দফা আলোচনা হলেও সেগুলো ফলপ্রসূ হয়নি। তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতার চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো সমাধান আসেনি। পাকিস্তান কূটনৈতিক পথে সমস্যা মেটাতে বারবার উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু আফগান অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণে বাস্তব প্রতিশ্রুতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শান্তির প্রশ্নে কাবুলের অবস্থান
শাহবাজ শরিফ বলেন, এবার স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—আফগানিস্তান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায় কি না। তিনি আফগান জনগণকে পাকিস্তানের ভাইবোন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অন্তত নিজেদের জনগণের প্রতি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে হলেও কাবুলের উচিত সন্ত্রাসবাদ রুখে দাঁড়ানো। পাকিস্তান চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Pakistan threatens to 'obliterate' Taliban after peace talks fail | Reuters

খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখন অনিবার্য। রাষ্ট্র সন্ত্রাস নির্মূলে চূড়ান্তভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি এই প্রদেশকে পাকিস্তানের অন্যতম কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে এখানকার জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতুলনীয় আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে তাঁদের ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে পেশাওয়ারের সেনা স্কুলে ভয়াবহ হামলার পর রাষ্ট্র যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাতে ভালো বা মন্দ তালেবানের কোনো বিভাজন নেই। এই নীতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সন্ত্রাস ফের মাথাচাড়া দেওয়ার কারণ
শাহবাজ শরিফ প্রশ্ন তোলেন, ব্যাপক ত্যাগের মাধ্যমে যখন সন্ত্রাসবাদ প্রায় নির্মূল করা হয়েছিল, তখন আবার কীভাবে এই সমস্যা ফিরে এলো। তাঁর মতে, ২০১৮ সালের আগে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। এরপর আবার এই বিপদ মাথাচাড়া দেয়, যার কারণ সবারই জানা। ইঙ্গিতে তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নীতিগত বিচ্যুতির দিকে ইশারা করেন।

আফগান শরণার্থী প্রসঙ্গ ও হতাশা
আফগানিস্তানের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান প্রায় চার মিলিয়ন আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও পাকিস্তানকে নিজস্ব সম্পদ দিয়েই এই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো দয়া ছিল না, বরং নৈতিক দায়িত্ব ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে তার প্রতিদান মিলছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।