আমিরাতের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। আজ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পনেরো হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড দাবি করা হতে পারে।
নতুন বন্ড কর্মসূচির ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আওতাভুক্ত আবেদনকারীরা কনস্যুলার কর্মকর্তার প্রাথমিক যাচাইয়ে যোগ্য বিবেচিত হলে এই বন্ড দিতে হতে পারে। দূতাবাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে কোনো অবস্থাতেই বন্ড পরিশোধ করা যাবে না।

বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ হবে প্রোফাইল অনুযায়ী
যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশকে নতুন করে বন্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। আবেদনকারীর ভ্রমণ ইতিহাস, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সামগ্রিক প্রোফাইল বিবেচনায় বন্ডের পরিমাণ পাঁচ হাজার, দশ হাজার অথবা সর্বোচ্চ পনেরো হাজার ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে। এই বন্ড মূলত ভিসার শর্ত মেনে সময়মতো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ নিশ্চিত করার আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে।
কখন ও কীভাবে বন্ড দিতে হবে
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার পরই নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্ড পরিশোধ করতে হবে। ভিসা না হলে কোনো আবেদনকারীর কাছ থেকে বন্ড নেওয়া হবে না এবং বন্ড প্রদান করলেই যে ভিসা মিলবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।

কোন ভিসায় প্রযোজ্য, কোনগুলো বাদ
এই বন্ড শর্ত কেবল ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। শিক্ষার্থী, কর্মসংস্থান, অভিবাসী কিংবা অধিকাংশ সরকারি ভিসার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, ভিসা মেয়াদ অতিক্রমের ঝুঁকি কমাতে এবং নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়াতেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
আমিরাতপ্রবাসীদের জন্য বাড়তি চাপ
আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সম্মেলনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রতিনিধি কিংবা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনাকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতেই আগের মতো ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে বন্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















