শারজাহ সরকার ফায়া গবেষণা অনুদান চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা মানব সভ্যতার প্রাচীন ইতিহাস ও পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়ে বৈশ্বিক গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেবে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত ফায়া প্যালিওল্যান্ডস্কেপকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মানব অভিবাসন ও অভিযোজনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই ঘোষণা দেন ফায়া বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের রাষ্ট্রদূত শেখা বুদুর বিন্ত সুলতান আল কাসিমি। শারজাহে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ফায়ার ইউনেস্কো তালিকাভুক্তির উদযাপনের সময় তিনি এই গবেষণা অনুদানের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে কয়েক দশকের প্রত্নতাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা আরব অঞ্চলে প্রাচীন মানব বসতির ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।

গবেষণায় বিনিয়োগ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব
শেখা বুদুর বলেন, ফায়ার ইউনেস্কো স্বীকৃতি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং একটি দায়িত্ব। এই গবেষণা অনুদানের মাধ্যমে শারজাহ কেবল একটি স্থানে নয়, বরং বিজ্ঞান চর্চার মধ্যেই বিনিয়োগ করছে। কঠোর গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নতুন প্রজন্মের গবেষকদের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, ফায়া এমন একটি স্থান, যা মানব অভিবাসন, অভিযোজন ও উদ্ভাবন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান প্রতিনিয়ত বিস্তৃত করছে এবং এই কর্মসূচি সেই অবদানকে দীর্ঘস্থায়ী করবে।
অনুদানের মেয়াদ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো
ফায়া গবেষণা অনুদান কার্যকর থাকবে দুই হাজার ছাব্বিশ থেকে দুই হাজার আটাশ সাল পর্যন্ত। মোট বরাদ্দ দুই মিলিয়ন দিরহাম। শারজাহ প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ এই কর্মসূচি পরিচালনা করবে ফায়া বিশ্ব ঐতিহ্য বৈজ্ঞানিক কমিটির সমন্বয়ে। এই অনুদানের লক্ষ্য হলো স্বাধীন ও উচ্চমানের গবেষণাকে সহায়তা করা, যাতে ফায়ার অসাধারণ বৈশ্বিক মূল্য আরও সুদৃঢ় হয় এবং শারজাহকে ঐতিহ্য বিজ্ঞান ও প্রাগৈতিহাসিক গবেষণার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।

গবেষণার সুযোগ ও কাঠামো
এই গবেষণা অনুদান তিনটি পরস্পর সম্পূরক ধারায় সাজানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি একটি গবেষণা অনুদান থাকবে, যার মেয়াদ তিন বছর এবং যার লক্ষ্য ফায়ার প্রাচীন পরিবেশ ও মানব বসতির ইতিহাস পুনর্গঠন। পাশাপাশি থাকবে স্বল্পমেয়াদি একাধিক গবেষণা অনুদান, যা প্রত্নতত্ত্ব, পরিবেশ গবেষণা, ডিজিটাল ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সংরক্ষণ বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করবে। এছাড়া স্থানীয় যুবসমাজের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক ফেলোশিপ চালু করা হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা গড়ে তোলা যায়।
শারজাহ প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
শারজাহ প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ঈসা ইউসুফ বলেন, এই অনুদান ভবিষ্যৎ কয়েক বছরে ফায়ায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও লজিস্টিক সহায়তা থাকায় গবেষকরা গভীর মাঠকাজ ও বিশ্লেষণধর্মী গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক গবেষণা ও স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

আবেদন ও যোগ্যতা
এই গবেষণা কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারীর অবশ্যই ডক্টরাল ডিগ্রি, শক্তিশালী প্রকাশনা অভিজ্ঞতা এবং প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব বা পরিবেশ গবেষণায় প্রমাণিত দক্ষতা থাকতে হবে। স্থানীয় গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে মার্চ মাসের প্রথম দিন পর্যন্ত এবং নির্বাচিত প্রকল্পের কাজ শুরু হবে দুই হাজার ছাব্বিশ সালেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















