০৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে যানবাহন আমদানি বেড়েছে, বন্দরের রাজস্বে বড় প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেয় না: বাংলাদেশিদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত যশোরে আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা শেয়ারবাজারে দরপতনে লেনদেনের গতি কমল ব্যাংক বেশি, অর্থনীতির জন্য ১০–১৫টিই যথেষ্ট: গভর্নর নড়াইলে বাড়িতে মিলল ১০ বছরের শিশুর মরদেহ বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানে ৩ হাজার ৬১৯ অস্ত্র ও ৪ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি গোলাবারুদ লুট: সেনাপ্রধান শরিফ ওসমান হাদির পরিবারকে দুই কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার রমজান সামনে রেখে সয়াবিন তেল ও সার আমদানিতে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

পাকিস্তানের যুদ্ধপরীক্ষিত যুদ্ধবিমান ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ, অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন গতি

ভারতের সঙ্গে গত বছরের সংঘাতে যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পে অভূতপূর্ব গতি এসেছে। যুদ্ধপরীক্ষিত তকমা পাওয়ার পর দেশটির যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি একাধিক দেশের আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। ইসলামাবাদ এখন অস্ত্র রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়ে।

যুদ্ধপরীক্ষার পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ভারতের সঙ্গে বড় আকারের আকাশযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জামের দিকে ঘুরে গেছে। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ সতেরো যুদ্ধবিমান এবং উন্নত জে দশ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। এই অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের অস্ত্রকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা
প্রতিরক্ষা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেরোটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে। এর মধ্যে ছয় থেকে আটটি দেশের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। এসব আলোচনায় যুদ্ধবিমান ছাড়াও প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন অস্ত্রব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে।

Pakistan's 'combat tested' jets boost weapons sales, Asia News - AsiaOne

বিশ্ব পরিস্থিতি ও নতুন সরবরাহ পথ
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক দেশ বিকল্প সরবরাহ পথ খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক কম খরচে যুদ্ধপরীক্ষিত অস্ত্র সরবরাহ করতে পারায় পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

দাম ও প্রযুক্তির তুলনা
প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রেজা হায়াত হাররাজ বলেন, আলোচনাগুলো অত্যন্ত সংরক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে যেকোনো সময় ভেস্তে যেতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, আগ্রহের ঘাটতি নেই। তার মতে, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রের দাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিকল্পগুলোর তুলনায় অনেক কম। পশ্চিমা প্রযুক্তি কিছু ক্ষেত্রে উন্নত হলেও সেগুলোর দাম পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

সতর্ক আশাবাদ
অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে যে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ স্পষ্টভাবে বেড়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, সব আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রূপ নাও নিতে পারে। তবুও যুদ্ধপরীক্ষিত তকমা পাকিস্তানের অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে যানবাহন আমদানি বেড়েছে, বন্দরের রাজস্বে বড় প্রবৃদ্ধি

পাকিস্তানের যুদ্ধপরীক্ষিত যুদ্ধবিমান ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ, অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন গতি

০৭:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের সঙ্গে গত বছরের সংঘাতে যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পে অভূতপূর্ব গতি এসেছে। যুদ্ধপরীক্ষিত তকমা পাওয়ার পর দেশটির যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি একাধিক দেশের আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। ইসলামাবাদ এখন অস্ত্র রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়ে।

যুদ্ধপরীক্ষার পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ভারতের সঙ্গে বড় আকারের আকাশযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জামের দিকে ঘুরে গেছে। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ সতেরো যুদ্ধবিমান এবং উন্নত জে দশ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। এই অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের অস্ত্রকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা
প্রতিরক্ষা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেরোটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে। এর মধ্যে ছয় থেকে আটটি দেশের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। এসব আলোচনায় যুদ্ধবিমান ছাড়াও প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন অস্ত্রব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে।

Pakistan's 'combat tested' jets boost weapons sales, Asia News - AsiaOne

বিশ্ব পরিস্থিতি ও নতুন সরবরাহ পথ
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক দেশ বিকল্প সরবরাহ পথ খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক কম খরচে যুদ্ধপরীক্ষিত অস্ত্র সরবরাহ করতে পারায় পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

দাম ও প্রযুক্তির তুলনা
প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রেজা হায়াত হাররাজ বলেন, আলোচনাগুলো অত্যন্ত সংরক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে যেকোনো সময় ভেস্তে যেতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, আগ্রহের ঘাটতি নেই। তার মতে, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রের দাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিকল্পগুলোর তুলনায় অনেক কম। পশ্চিমা প্রযুক্তি কিছু ক্ষেত্রে উন্নত হলেও সেগুলোর দাম পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

সতর্ক আশাবাদ
অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে যে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ স্পষ্টভাবে বেড়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, সব আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রূপ নাও নিতে পারে। তবুও যুদ্ধপরীক্ষিত তকমা পাকিস্তানের অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।