০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেন এখনও নাগালের বাইরে? যুক্তরাষ্ট্রে আফগান অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ ঘিরে নতুন উদ্বেগ, জোরালো হচ্ছে বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে কমছে সহিংস অপরাধ, স্বস্তি ফিরছে শহরগুলোতে সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেটের সামনে গাড়িচাপায় ৮২ বছরের নারী নিহত, বিচারের দাবিতে পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, দেশে প্রাণহানি বেড়ে ৪৩ সিলেটে গাছ থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত মুম্বাইয়ের গল্পে গুলজারের ৭৬ বছর: যে শহর এক কিশোর অভিবাসীকে কবি বানিয়েছে পাঁচ বইয়ে পাঁচ ভুবনের যাত্রা, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ—পাঠকের জন্য নতুন পাঁচ ঠিকানা সৌদি আরবকে পরমাণু জ্বালানি সমৃদ্ধকরণে ছাড়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশ্ন—‘আমাদের নয় কেন?’

সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গ্লোবাল বেঙ্গলী হিন্দু প্লাটফর্ম বাংলাদেশের নেতারা। এসব ঘটনায় আইনানুগ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
২১ জানুয়ারি বুধবার বিকেল তিনটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে তারা বলেন, সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দুদের ওপর যে ধারাবাহিক সহিংসতা চলছে, তা সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে সেই দায় পূরণ হচ্ছে না।

নির্যাতনের চিত্র ও বিচারহীনতা
নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের নানা প্রান্তে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, বসতবাড়ি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ঘটনায় বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। এর ফলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

সরকারি স্বীকারোক্তি ও বাস্তবতা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান শনাক্ত হয়েছে। তবে নেতৃবৃন্দের দাবি, সরকারি হিসেবের বাইরেও শতশত ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর অনেকই নথিভুক্ত হয়নি।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে মব সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে।

হত্যা ও সহিংসতার ধারাবাহিকতা
গত এক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষ করে গত ডিসেম্বর থেকে চলতি জানুয়ারির মধ্যে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন জেলায় প্রকাশ্যে হত্যা, পিটিয়ে বা কুপিয়ে মারার মতো ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
হিন্দু নেতারা বলেন, ধর্ম অবমাননার অজুহাতে সনাতন হিন্দুরা বারবার সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হচ্ছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, কোনো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও আইনি বিচারই তাদের মূল দাবি।

দাবি ও প্রত্যাশা
সংখ্যালঘুদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা এবং স্থায়ী সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জোরপূর্বক চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও আর্থসামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেন এখনও নাগালের বাইরে?

সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

০৭:২৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গ্লোবাল বেঙ্গলী হিন্দু প্লাটফর্ম বাংলাদেশের নেতারা। এসব ঘটনায় আইনানুগ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
২১ জানুয়ারি বুধবার বিকেল তিনটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে তারা বলেন, সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দুদের ওপর যে ধারাবাহিক সহিংসতা চলছে, তা সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে সেই দায় পূরণ হচ্ছে না।

নির্যাতনের চিত্র ও বিচারহীনতা
নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের নানা প্রান্তে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, বসতবাড়ি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ঘটনায় বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। এর ফলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

সরকারি স্বীকারোক্তি ও বাস্তবতা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান শনাক্ত হয়েছে। তবে নেতৃবৃন্দের দাবি, সরকারি হিসেবের বাইরেও শতশত ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর অনেকই নথিভুক্ত হয়নি।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে মব সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে।

হত্যা ও সহিংসতার ধারাবাহিকতা
গত এক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষ করে গত ডিসেম্বর থেকে চলতি জানুয়ারির মধ্যে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন জেলায় প্রকাশ্যে হত্যা, পিটিয়ে বা কুপিয়ে মারার মতো ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
হিন্দু নেতারা বলেন, ধর্ম অবমাননার অজুহাতে সনাতন হিন্দুরা বারবার সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হচ্ছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, কোনো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও আইনি বিচারই তাদের মূল দাবি।

দাবি ও প্রত্যাশা
সংখ্যালঘুদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা এবং স্থায়ী সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জোরপূর্বক চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও আর্থসামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।