১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর

মেমরি চিপের দামে আগুন, চাপে স্মার্টফোন ও কম্পিউটার বাজার

বিশ্বজুড়ে মেমরি চিপের দাম হঠাৎ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরে ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স বাজারে ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্মার্টফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও গেমিং কনসোলের বিক্রি কমতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। উৎপাদন খরচ সামলাতে নির্মাতারা পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করায় সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোই মূল কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করায় বিশ্ববাজারের বড় অংশের মেমরি চিপ সেখানেই আটকে যাচ্ছে। ডেটা সেন্টারের মতো বেশি মুনাফার খাতে চিপ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় চিপের সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলেই দাম লাফিয়ে বাড়ছে।

Memory shortages drive price surge in smartphones and computers | Hervia M  Ingram Jr posted on the topic | LinkedIn

বিক্রির পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন
বাজার গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বিক্রি অন্তত দুই শতাংশ কমতে পারে। কয়েক মাস আগেও যেখানে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছিল, সেখানে এখন এই উল্টো চিত্র। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বাজারেও ধসের আভাস মিলছে। গত বছরের প্রবৃদ্ধির পর এ বছর বিক্রি প্রায় পাঁচ শতাংশ কমতে পারে। গেমিং কনসোলের বিক্রিও নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্মাতাদের কঠিন সিদ্ধান্ত
অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। বড় নির্মাতাদের সামনে এখন কঠিন প্রশ্ন—খরচ নিজেরা বহন করে মুনাফা কমাবে, নাকি দাম বাড়িয়ে ক্রেতার ঘাড়ে চাপ দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের মাত্রা এতটাই বড় যে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়বেই। এর ফলে দুই হাজার ছাব্বিশ সালে ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের বিক্রি আরও শ্লথ হতে পারে।

Surging memory chip prices dim outlook for consumer electronics makers

দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি এখানেই থামবে না। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই মেমরি চিপের দাম চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিছু পণ্যে গত দুই প্রান্তিকে অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়েছে, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে। এর প্রভাব পড়বে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পরিধানযোগ্য যন্ত্র ও গেমিং ডিভাইসের দামে।

কারা বেশি বিপদে
নিম্ন ও মধ্যম দামের পণ্য নির্মাতারাই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ও মাঝারি পর্যায়ের কম্পিউটার নির্মাতাদের জন্য এই পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Chip shortage could last two years, says tech giant IBM | The Business  Standard

অ্যাপলের তুলনামূলক সুবিধা
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে শক্ত অবস্থান ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে অ্যাপল তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অতীতে তারা অতিরিক্ত খরচ নিজেরাই বহন করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্রয়োজন হলে দাম বাড়ানোর পথেও যেতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

মেমরি চিপের দামে আগুন, চাপে স্মার্টফোন ও কম্পিউটার বাজার

১১:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মেমরি চিপের দাম হঠাৎ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরে ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স বাজারে ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্মার্টফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও গেমিং কনসোলের বিক্রি কমতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। উৎপাদন খরচ সামলাতে নির্মাতারা পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করায় সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোই মূল কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করায় বিশ্ববাজারের বড় অংশের মেমরি চিপ সেখানেই আটকে যাচ্ছে। ডেটা সেন্টারের মতো বেশি মুনাফার খাতে চিপ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় চিপের সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলেই দাম লাফিয়ে বাড়ছে।

Memory shortages drive price surge in smartphones and computers | Hervia M  Ingram Jr posted on the topic | LinkedIn

বিক্রির পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন
বাজার গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বিক্রি অন্তত দুই শতাংশ কমতে পারে। কয়েক মাস আগেও যেখানে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছিল, সেখানে এখন এই উল্টো চিত্র। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বাজারেও ধসের আভাস মিলছে। গত বছরের প্রবৃদ্ধির পর এ বছর বিক্রি প্রায় পাঁচ শতাংশ কমতে পারে। গেমিং কনসোলের বিক্রিও নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্মাতাদের কঠিন সিদ্ধান্ত
অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। বড় নির্মাতাদের সামনে এখন কঠিন প্রশ্ন—খরচ নিজেরা বহন করে মুনাফা কমাবে, নাকি দাম বাড়িয়ে ক্রেতার ঘাড়ে চাপ দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের মাত্রা এতটাই বড় যে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়বেই। এর ফলে দুই হাজার ছাব্বিশ সালে ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের বিক্রি আরও শ্লথ হতে পারে।

Surging memory chip prices dim outlook for consumer electronics makers

দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি এখানেই থামবে না। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই মেমরি চিপের দাম চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিছু পণ্যে গত দুই প্রান্তিকে অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়েছে, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে। এর প্রভাব পড়বে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পরিধানযোগ্য যন্ত্র ও গেমিং ডিভাইসের দামে।

কারা বেশি বিপদে
নিম্ন ও মধ্যম দামের পণ্য নির্মাতারাই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ও মাঝারি পর্যায়ের কম্পিউটার নির্মাতাদের জন্য এই পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Chip shortage could last two years, says tech giant IBM | The Business  Standard

অ্যাপলের তুলনামূলক সুবিধা
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে শক্ত অবস্থান ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে অ্যাপল তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অতীতে তারা অতিরিক্ত খরচ নিজেরাই বহন করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্রয়োজন হলে দাম বাড়ানোর পথেও যেতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।