বিশ্বজুড়ে মেমরি চিপের দাম হঠাৎ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরে ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স বাজারে ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্মার্টফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও গেমিং কনসোলের বিক্রি কমতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। উৎপাদন খরচ সামলাতে নির্মাতারা পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করায় সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোই মূল কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করায় বিশ্ববাজারের বড় অংশের মেমরি চিপ সেখানেই আটকে যাচ্ছে। ডেটা সেন্টারের মতো বেশি মুনাফার খাতে চিপ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় চিপের সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলেই দাম লাফিয়ে বাড়ছে।
বিক্রির পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন
বাজার গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বিক্রি অন্তত দুই শতাংশ কমতে পারে। কয়েক মাস আগেও যেখানে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছিল, সেখানে এখন এই উল্টো চিত্র। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বাজারেও ধসের আভাস মিলছে। গত বছরের প্রবৃদ্ধির পর এ বছর বিক্রি প্রায় পাঁচ শতাংশ কমতে পারে। গেমিং কনসোলের বিক্রিও নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নির্মাতাদের কঠিন সিদ্ধান্ত
অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। বড় নির্মাতাদের সামনে এখন কঠিন প্রশ্ন—খরচ নিজেরা বহন করে মুনাফা কমাবে, নাকি দাম বাড়িয়ে ক্রেতার ঘাড়ে চাপ দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের মাত্রা এতটাই বড় যে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়বেই। এর ফলে দুই হাজার ছাব্বিশ সালে ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের বিক্রি আরও শ্লথ হতে পারে।
দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি এখানেই থামবে না। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই মেমরি চিপের দাম চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিছু পণ্যে গত দুই প্রান্তিকে অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়েছে, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে। এর প্রভাব পড়বে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পরিধানযোগ্য যন্ত্র ও গেমিং ডিভাইসের দামে।
কারা বেশি বিপদে
নিম্ন ও মধ্যম দামের পণ্য নির্মাতারাই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ও মাঝারি পর্যায়ের কম্পিউটার নির্মাতাদের জন্য এই পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অ্যাপলের তুলনামূলক সুবিধা
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে শক্ত অবস্থান ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে অ্যাপল তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অতীতে তারা অতিরিক্ত খরচ নিজেরাই বহন করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্রয়োজন হলে দাম বাড়ানোর পথেও যেতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















