এডিএইচডি বা মনোযোগ ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা মানুষদের নিয়ে সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা রয়ে গেছে। সদিচ্ছা থেকে বলা অনেক কথাই তাদের জন্য সহায়ক না হয়ে উল্টো কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিএইচডি আক্রান্ত মানুষের প্রতিদিনের লড়াই বোঝার বদলে আমরা প্রায়ই এমন মন্তব্য করি, যা তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।
সহজ পরামর্শ নয়, বোঝাপড়াই দরকার
এডিএইচডি আছে এমন মানুষদের বলা হয়, পরিকল্পনার খাতা ব্যবহার করতে, মোবাইলে অ্যালার্ম দিতে বা সবকিছু লিখে রাখতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সমস্যার কারণে মনোযোগ ধরে রাখা, কাজ শুরু করা কিংবা তথ্য মনে রাখা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এসব পরামর্শ নতুন কিছু নয়, বরং তাদের কাছে বিরক্তিকর শোনায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাহায্য করতে চাইলে আগে স্বীকার করা দরকার যে এই পরিস্থিতি সামলাতে কতটা পরিশ্রম করতে হয়।
দেখে বোঝা যায় না এই সমস্যা
অনেকে অবাক হয়ে বলেন, তোমাকে তো এডিএইচডি রোগীর মতো দেখায় না। এই মন্তব্যটি সবচেয়ে বেশি আঘাত করে। কারণ এডিএইচডির কোনো নির্দিষ্ট বাহ্যিক চেহারা নেই। এমন কথা শুনে অনেকেই নিজের সমস্যাকে লুকিয়ে ফেলতে শুরু করেন, এমনকি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়েও লজ্জাবোধ করেন।
সবাই তো এমন করে না
প্রায়ই শোনা যায়, এসব তো সবারই হয়। দেরি করা বা ভুলে যাওয়া সবার জীবনে ঘটতে পারে ঠিকই, কিন্তু এডিএইচডি আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এর মাত্রা অনেক বেশি এবং দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সমস্যার গুরুত্ব অস্বীকার করলে তারা আরও একা বোধ করেন।

অতিরিক্ত আবেগ বলে উড়িয়ে দেওয়া
এডিএইচডি থাকা মানুষরা অনেক সময় অনুভূতি খুব গভীরভাবে অনুভব করেন। আনন্দ হোক বা দুঃখ, সবকিছুর প্রতিক্রিয়া তীব্র হতে পারে। এটাকে নাটক করা বা অতিরিক্ত সংবেদনশীল বলা হলে তাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায় এবং নিজের কথা বলতে তারা পিছিয়ে পড়েন।
আরও চেষ্টা করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে ভাবনা
শৈশব থেকে এডিএইচডি আক্রান্তরা শুনে আসেন, একটু বেশি চেষ্টা করলেই নাকি সব ঠিক হয়ে যাবে। এই কথা ভীষণ হতাশাজনক। কারণ সমস্যাটা চেষ্টা বা ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়, বরং মস্তিষ্কের কাজ করার ধরন ভিন্ন হওয়া।

নড়াচড়া থামাতে বলা
অনেকে বলেন, এক মিনিটের জন্য নড়াচড়া বন্ধ করা যায় না। অথচ অনেক এডিএইচডি আক্রান্ত মানুষের জন্য হাতের নড়াচড়া বা ছোট জিনিস নিয়ে খেলা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটাকে আগ্রহের অভাব ভেবে ভুল করা হয়, যা তাদের জন্য অন্যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিএইচডি আক্রান্ত মানুষদের পাশে থাকতে হলে উপদেশ নয়, দরকার সহমর্মিতা। তাদের প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে বড় সমর্থন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















