দক্ষিণ ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ার ও থেমস ভ্যালিতে পুলিশি দায়িত্বে নেমেছে এক নতুন সহকর্মী। সে কোনো পোশাক পরে না, হাতে লাঠিও নেই। তার নাম বব্বি। জরুরি নয় এমন হাজারো ফোনকলের উত্তর এখন সে নিজেই দেয়। ফলে মানুষের পুলিশ সদস্যরা সময় পাচ্ছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর জন্য, যেখানে মানুষের বিচারবুদ্ধি, সহমর্মিতা আর বাস্তব অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।
এই বব্বি শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বড় ধরনের এক পরিবর্তনের প্রতীক। এখানে কাজ করে না শুধু ভাষাভিত্তিক মডেল। আসল শক্তি আসে তখনই, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুলিশের বিদ্যমান তথ্যভান্ডার, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আর মানুষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একীভূত হয়। এই সমন্বিত ব্যবস্থাকেই বলা হচ্ছে এজেন্টিক উদ্যোগ, যেখানে তথ্য, প্রযুক্তি ও মানুষ একসঙ্গে কাজ করে সিদ্ধান্তকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দেয়।

প্রযুক্তির বহু ঢেউ প্রত্যক্ষ করেছে বর্তমান বিশ্ব। একসময় মেঘ ভিত্তিক সেবা, পরে মোবাইল প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবকিছুই শুরু হয়েছিল সীমাহীন প্রত্যাশা নিয়ে। বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত দেখিয়েছে, প্রাথমিক কল্পনার সঙ্গে বাস্তব ফল সব সময় মেলে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও সেই মোহের সময় শেষ হয়ে এখন বাস্তব জটিলতার যুগ শুরু হয়েছে।
এই পর্যায়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানেই স্পষ্ট হতে শুরু করে সেই সত্যগুলো, যা আগামী দশককে আকার দেবে। প্রথম সত্য হলো, ভাষাভিত্তিক মডেল যতই শক্তিশালী হোক, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সাধারণ অবকাঠামোতে পরিণত হবে। তখন আলাদা পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে দক্ষতা, গতি আর প্রাপ্যতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এজেন্টরা প্রয়োজনে নিজেই উপযুক্ত মডেল বেছে নেবে, অনেক সময় মানুষ টেরও পাবে না।
দ্বিতীয় সত্য আরও গভীর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর কী তৈরি করা হচ্ছে, সেটাই আসল বিষয়। নির্ভরযোগ্য তথ্য দেয় প্রেক্ষাপট ও সত্যতা, কাজের সফটওয়্যার দেয় কার্যপ্রবাহ। এই দুটিকে একত্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এজেন্ট, যা এমন গতি ও পরিসরে কাজ করতে পারে, যা কোনো মানব দল একা সম্ভব নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যটি মানুষের ভূমিকা নিয়ে। সৃজনশীলতা, মূল্যবোধ, সম্পর্ক—সবকিছুই আসে মানুষের কাছ থেকে। তাই এজেন্টিক উদ্যোগের কেন্দ্রে মানুষকেই থাকতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ মানবতাকে শক্তিশালী করা, তাকে ছোট করা নয়।
এখন ধীরে ধীরে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি বাস্তব রূপ পাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এজেন্ট গ্রাহক সেবা, তথ্য সহায়তা ও প্রশাসনিক কাজ সামলাচ্ছে। কোথাও তা হাজার হাজার ঘণ্টার শ্রম বাঁচাচ্ছে, কোথাও মানুষের কাজকে আরও সহজ ও নির্ভুল করছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তর পর্যন্ত এই প্রযুক্তি মানুষের কাজকে আরও মানবিক করে তুলতে সহায়ক হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি কে জিতবে, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যেখানে মানুষ ও যন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে সমাজের উপকারে আসে। এখনকার সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই সম্ভাবনার সময় কি দীর্ঘস্থায়ী অগ্রগতিতে রূপ নেবে, নাকি হারিয়ে যাবে ভুল ব্যবহারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















