বার্সেলোনায় সামাজিক পরিবর্তনের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে একটি অটোমোবাইল ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশন। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে একসূত্রে বেঁধে তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সিয়াট কুপ্রা ফাউন্ডেশন। শিল্প সক্ষমতাকে মানবিক প্রভাবের রূপ দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
ভবিষ্যৎ গড়ার দর্শন
ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম কোনো এককালীন সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কেন্দ্র করে তাদের কাজ গড়ে উঠেছে তিনটি স্তম্ভের ওপর। একদিকে চিকিৎসাকে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে সুযোগবঞ্চিত এলাকায় তরুণদের সম্ভাবনাকে সামনে আনা এবং প্রতিষ্ঠানের পঁচাত্তর বছরের ঐতিহ্যকে সামাজিক উত্তরাধিকার হিসেবে ব্যবহার করা। ফাউন্ডেশনের নেতৃত্ব বলছে, বর্তমানকে বদলাতে হলে তরুণদের নির্ভয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
ঘরে বসেই চিকিৎসার উদ্যোগ
এই উদ্যোগের প্রথম স্তম্ভ স্বাস্থ্যসেবা। ‘ই হুইলসে স্বাস্থ্য’ কর্মসূচির মাধ্যমে ফাউন্ডেশন হাসপাতালগুলোকে বৈদ্যুতিক যান দিচ্ছে, যাতে চিকিৎসকেরা দ্রুত ও পরিবেশবান্ধবভাবে রোগীর বাড়িতে পৌঁছাতে পারেন। বার্সেলোনার সান্ত হুয়ান দে দেউ এবং হসপিতাল ক্লিনিকের ঘরোয়া চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে কুপ্রা বর্ন ও কুপ্রা তাভাসকান মডেলের যান। এর মাধ্যমে জটিল শিশু চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি রোগের তদারকি ও উপশমমূলক সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সম্মানজনক সেবার বাস্তব চিত্র
এই ব্যবস্থায় কেবল যাতায়াত সহজ হয়নি, বরং মানুষের মর্যাদাও রক্ষা পেয়েছে। রোগী নয়, চিকিৎসককে চলমান করে অপেক্ষার তালিকা কমানো সম্ভব হয়েছে। শিশু ও বয়স্কসহ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষেরা নিজেদের ঘরেই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে হাজার হাজার রোগীর হাসপাতাল ছাড়ার পরের চিকিৎসা এই ব্যবস্থায় সম্পন্ন হয়েছে।

তরুণদের ঝরে পড়া ঠেকাতে উদ্যোগ
দ্বিতীয় স্তম্ভ শিক্ষা ও সুযোগ। বার্সেলোনার রাভাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ছাড়ার হার বেশি। ‘ইমপালস প্রোগ্রাম রাভাল’ উদ্যোগের মাধ্যমে ফাউন্ডেশন স্থানীয় শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছে। লক্ষ্য হলো বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ খুঁজে বের করা এবং সমাধান তৈরি করা। পাঁচ বছরে ঝরে পড়া কমানো লক্ষ্য ধরা হয়েছে এক চতুর্থাংশ।
সংস্কৃতির শক্তিতে স্বপ্ন নির্মাণ
তৃতীয় স্তম্ভ সংস্কৃতি। ‘দ্য ড্রিম মেকার্স’ প্রকল্পে স্পেনের চলচ্চিত্র বিদ্যালয় ও খ্যাতনামা নির্মাতার সঙ্গে যৌথভাবে তরুণ গল্পকারদের জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, বৃত্তি ও পরামর্শের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পরিচয়, অভিবাসন, ট্রমা ও টিকে থাকার গল্প উঠে আসছে এসব কাজে, যা সমাজের অবহেলিত কণ্ঠস্বরকে সামনে আনছে।

মানব সম্ভাবনার ত্বরক
সব মিলিয়ে সিয়াট কুপ্রা ফাউন্ডেশন নিজেকে কোনো পৃষ্ঠপোষক নয়, বরং মানব সম্ভাবনার ত্বরক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। প্রযুক্তি ও পরিকল্পনাকে মানবিক প্রয়োজনে কাজে লাগিয়ে তারা দেখাচ্ছে, সুযোগকে যদি গাড়ির মতো গুরুত্ব দিয়ে নকশা করা যায়, তবে কেবল মানুষ নয়, পুরো সমাজই এগিয়ে যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















