ঢাকার নয়াপল্টন এলাকায় অবস্থিত শারমিন একাডেমির এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চার বছরের এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রেপ্তারের ঘটনা
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম পবিত্র কুমার বড়ুয়া। তাঁর বয়স সাতচল্লিশ বছর। শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে মিরপুর ছয় নম্বর এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাঁকে আটক করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী শিশুর নাম মুহাম্মদ ফারজ বিন আমান। সে গত উনিশ নভেম্বর দুই হাজার পঁচিশ সালে শারমিন একাডেমির প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হয়। চলতি বছরের আঠারো জানুয়ারি সকাল এগারোটা বিশ মিনিটের দিকে তার মা তাকে স্কুলে রেখে যান।
বিকেলে শিশুটিকে নিতে এসে মা দেখতে পান, স্কুলের অধ্যক্ষ শারমিন জাহান এবং পবিত্র কুমার বড়ুয়া একটি অফিস কক্ষে শিশুটিকে ধরে রেখেছেন। পরে শিশুটি তার বাবা-মাকে জানায়, তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয়েছে।
ভিডিও ও প্রমাণ
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের সহায়তায় সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজেও শিশুটির ওপর নির্যাতনের দৃশ্য ধরা পড়েছে।
শিশুর শারীরিক অবস্থা
নির্যাতনের ফলে শিশুটির মাথা, গলা ও কানে আঘাত লাগে। প্রথমে তাকে নয়াপল্টন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলা ও আইনি পদক্ষেপ
শিশুটির মা বাইশ জানুয়ারি শিশু আইনে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ শারমিন জাহান, তার স্বামী এবং পবিত্র কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















