০৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
মিত্রতা থেকে মুখ ফেরাল ওয়াশিংটন, কুর্দিদের ছেড়ে নতুন সিরিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারপ্রধান ও প্রেস সচিবের বক্তব্যে সন্দেহ অনিবার্য: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বাগেরহাটে কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার সেগার রূপকার ডেভিড রোজেন ভিডিও গেম শিল্পের নীরব স্থপতির বিদায় দ্য প্রিন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা : নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা স্বৈরতন্ত্র, গণতন্ত্র নয় ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানোর পথে যুক্তরাজ্য মাদ্রিদে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিতদের অপেক্ষা, মাদুরো ধরা পড়লেও ক্ষমতা এখনো তার ঘনিষ্ঠদের হাতে ট্রাম্প নীতির দীর্ঘ ছায়া, আজ স্থিতিশীল দেখালেও ভবিষ্যতে চাপে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি নবজাতক হত্যা মামলায় লুসি লেটবি: নতুন তথ্যচিত্রে কান্না, অস্বীকার আর তদন্তের অন্ধকার অধ্যায় ক্যানসার চিকিৎসায় উপেক্ষিত মানসিক যন্ত্রণা, জাতীয় পরিকল্পনায় পরিবর্তনের দাবি জোরালো

ব্যারাকই শুধু শুরু, একের পর এক স্থানে অভিবাসী আবাসনের ঘোষণা মাহমুদের

যুক্তরাজ্যের পূর্ব সাসেক্সের ক্রোবার প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রথম দফায় আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন অভিবাসী আবাসন নীতির সূচনা হলো। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক, স্থানীয় বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ স্পষ্ট করে জানালেন, এটি কেবল শুরু, সামনে আরও বহু স্থানে একই ধরনের আবাসন চালু হবে।

ভোর সাড়ে তিনটায় কড়া পুলিশি পাহারায় ছোট নৌকায় করে আসা সাতাশ জন পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে ক্রোবরো প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি ও প্রতিবাদের পরও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগে সেনা ও বিমান বাহিনীর ক্যাডেট, পুলিশ এবং দমকল কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত এই ব্যারাক ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ পাঁচশ চল্লিশ জন পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

INSIDE CROWBOROUGH: Pictures of illegal migrant digs at military barracks  as Home Secretary Shabana Mahmood vows to 'open site after site' to end  hotel use

সরকারের অবস্থান ও পরিকল্পনা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, আশ্রয়প্রার্থী হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, বড় বড় স্থানে একের পর এক নতুন আবাসন চালু করা হবে এবং প্রতিটি হোটেল স্থানীয় মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, সীমান্তে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ফেরানোই তাঁর প্রধান অঙ্গীকার।

সরকারের দাবি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত হোটেল ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এবং অবৈধ অভিবাসনের আকর্ষণ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সব অভিবাসী হোটেল বন্ধ করে সাবেক সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহার করা হবে।

স্থানীয় ক্ষোভ ও আশঙ্কা

ক্রোবরো শিল্ড নামে একটি বাসিন্দা সংগঠনের প্রধান কিম বেইলি এই সিদ্ধান্তকে লজ্জাজনক ও বেপরোয়া বলে আখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্য, মন্ত্রী যেভাবে একের পর এক স্থানের কথা বলছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি গর্ব করছেন। এতে একের পর এক কমিউনিটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক ব্যারাক নয় এবং এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে হাজার হাজার ক্যাডেটকে সরিয়ে দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, আশ্রয়প্রার্থীরা এমন জায়গায় থাকতে চান না।

INSIDE CROWBOROUGH: Pictures of illegal migrant digs at military barracks  as Home Secretary Shabana Mahmood vows to 'open site after site' to end  hotel use

রাজনৈতিক বিরোধিতা ও নিরাপত্তা বিতর্ক

বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের পরিকল্পনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। শ্যাডো স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ক্রিস ফিলিপ বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের আবাসনের পেছনে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং এতে স্থানীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে সংস্কারপন্থী এক সাংসদ আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে অবৈধভাবে আসা সবাইকে আটক ও বহিষ্কারের কথা বলেন।

তবে স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ক্রোবরো শিবিরে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে এবং কঠোর সুরক্ষা প্রটোকল মানা হবে। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও ইতিমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, আশ্রয়প্রার্থীদের সর্বোচ্চ তিন মাস এখানে রাখা হবে, দাবি যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

Underhand' Home Office moves migrants into barracks under cover of night

পরিকল্পনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

পার্লামেন্টের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার ডেম কারেন ব্র্যাডলি বলেন, সরকার এখনও বিশ্বাসযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার প্রমাণ দিতে পারেনি। তাঁর মতে, স্থানীয় মানুষের অনুভূতি, নিরাপত্তা ও বাস্তব সক্ষমতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে ক্রোবরো শুধু একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সরকারের কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় ক্ষোভের সংঘাত আগামী দিনে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিত্রতা থেকে মুখ ফেরাল ওয়াশিংটন, কুর্দিদের ছেড়ে নতুন সিরিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র

ব্যারাকই শুধু শুরু, একের পর এক স্থানে অভিবাসী আবাসনের ঘোষণা মাহমুদের

০৭:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্যের পূর্ব সাসেক্সের ক্রোবার প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রথম দফায় আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন অভিবাসী আবাসন নীতির সূচনা হলো। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক, স্থানীয় বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ স্পষ্ট করে জানালেন, এটি কেবল শুরু, সামনে আরও বহু স্থানে একই ধরনের আবাসন চালু হবে।

ভোর সাড়ে তিনটায় কড়া পুলিশি পাহারায় ছোট নৌকায় করে আসা সাতাশ জন পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে ক্রোবরো প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি ও প্রতিবাদের পরও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগে সেনা ও বিমান বাহিনীর ক্যাডেট, পুলিশ এবং দমকল কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত এই ব্যারাক ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ পাঁচশ চল্লিশ জন পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

INSIDE CROWBOROUGH: Pictures of illegal migrant digs at military barracks  as Home Secretary Shabana Mahmood vows to 'open site after site' to end  hotel use

সরকারের অবস্থান ও পরিকল্পনা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, আশ্রয়প্রার্থী হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, বড় বড় স্থানে একের পর এক নতুন আবাসন চালু করা হবে এবং প্রতিটি হোটেল স্থানীয় মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, সীমান্তে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ফেরানোই তাঁর প্রধান অঙ্গীকার।

সরকারের দাবি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত হোটেল ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এবং অবৈধ অভিবাসনের আকর্ষণ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সব অভিবাসী হোটেল বন্ধ করে সাবেক সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহার করা হবে।

স্থানীয় ক্ষোভ ও আশঙ্কা

ক্রোবরো শিল্ড নামে একটি বাসিন্দা সংগঠনের প্রধান কিম বেইলি এই সিদ্ধান্তকে লজ্জাজনক ও বেপরোয়া বলে আখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্য, মন্ত্রী যেভাবে একের পর এক স্থানের কথা বলছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি গর্ব করছেন। এতে একের পর এক কমিউনিটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক ব্যারাক নয় এবং এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে হাজার হাজার ক্যাডেটকে সরিয়ে দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, আশ্রয়প্রার্থীরা এমন জায়গায় থাকতে চান না।

INSIDE CROWBOROUGH: Pictures of illegal migrant digs at military barracks  as Home Secretary Shabana Mahmood vows to 'open site after site' to end  hotel use

রাজনৈতিক বিরোধিতা ও নিরাপত্তা বিতর্ক

বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের পরিকল্পনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। শ্যাডো স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ক্রিস ফিলিপ বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের আবাসনের পেছনে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং এতে স্থানীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে সংস্কারপন্থী এক সাংসদ আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে অবৈধভাবে আসা সবাইকে আটক ও বহিষ্কারের কথা বলেন।

তবে স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ক্রোবরো শিবিরে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে এবং কঠোর সুরক্ষা প্রটোকল মানা হবে। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও ইতিমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, আশ্রয়প্রার্থীদের সর্বোচ্চ তিন মাস এখানে রাখা হবে, দাবি যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

Underhand' Home Office moves migrants into barracks under cover of night

পরিকল্পনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

পার্লামেন্টের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার ডেম কারেন ব্র্যাডলি বলেন, সরকার এখনও বিশ্বাসযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার প্রমাণ দিতে পারেনি। তাঁর মতে, স্থানীয় মানুষের অনুভূতি, নিরাপত্তা ও বাস্তব সক্ষমতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে ক্রোবরো শুধু একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সরকারের কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় ক্ষোভের সংঘাত আগামী দিনে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।