ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন গাজা বিষয়ক শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংসদের অনুমোদন ও পরামর্শ ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ায় সরকারের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো।
দাভোসে ঘোষণা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শান্তি বোর্ডের ঘোষণা দেন। গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে গঠিত এই বোর্ডে উনিশটি দেশের শীর্ষ নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সনদে স্বাক্ষর করেন। প্রথম স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প নিজে। পাকিস্তানকেও এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং পরে সরকার তা গ্রহণ করে।
সংসদে আপত্তি ও সমান্তরাল কাঠামোর অভিযোগ
জাতীয় পরিষদের মেঝেতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ফজলের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, এমন জাতীয় গুরুত্বের সিদ্ধান্ত সংসদকে জানানো সরকারের দায়িত্ব। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংসদ উপেক্ষিত হলে মন্ত্রিসভাকেও কি আদৌ আস্থায় নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও নতুন এই শান্তি বোর্ড কার্যত একটি সমান্তরাল কাঠামো তৈরি করছে। ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা মাত্র এবং এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থের বদলে আন্তর্জাতিক চাপের প্রভাবে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হচ্ছে।

সেনেটে নৈতিকতার প্রশ্ন
সেনেটে বিরোধী দলনেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে নৈতিকভাবে ভুল ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে গাজা বিষয়ক এই কাঠামোতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের নৈতিক ভিত্তি নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসে।
তেহরিক-ই-ইনসাফের কঠোর অবস্থান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান বলেন, সংসদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলা যায় না। তাঁর মতে, জাতিসংঘের কোনো উদ্যোগ হলে সরকার যোগ দিতে পারে, কিন্তু এই শান্তি বোর্ড জাতিসংঘের অংশ নয়। তাই সংসদকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ ভুল। সাবেক স্পিকার আসাদ কায়সার দলটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।
জামায়াতে ইসলামীর আশঙ্কা
জামায়াতে ইসলামি পাকিস্তানের প্রধান হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, এই শান্তি বোর্ড মূলত ফিলিস্তিনি ভূমি ও সম্পদ দখলের নতুন কৌশল। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং গাজায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো ব্যবস্থাকে সমর্থন করা যাবে না বলেও তিনি জোর দেন।
সরকারের ব্যাখ্যা ও পাল্টা যুক্তি
বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, পাকিস্তান বরাবরই কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলে এসেছে। গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এই শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাত নয়, জাতীয় ঐক্যই প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















