১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা উন্মোচন: দুই হাজার ছাব্বিশে দেশ ও বিশ্বে চাপে পড়া একতরফা নেতৃত্ব

দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে এসেছিলেন বড় পরিকল্পনা নিয়ে। দুই হাজার পঁচিশ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সির আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা এমনভাবে বাড়ান, যা দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভারসাম্যকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। তবে দুই হাজার ছাব্বিশে এসে সেই ক্ষমতার বাস্তব সীমা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দেশের ভেতরে আদালত, ভোটার এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, আর দেশের বাইরে জটিল আন্তর্জাতিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের একতরফা প্রভাব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।

দেশের ভেতরে রাজনৈতিক রূপান্তরের চাপ
ট্রাম্পের পরিবর্তনের মূল সুর অর্থনৈতিক বিপ্লব নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। দুই হাজার পঁচিশ সালে তিনি আইনসীমা ঠেলে নির্বাহী ক্ষমতা একত্র করেন। কংগ্রেস, আদালত ও অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা বহু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণে টানার চেষ্টা চলে। পেশাদার আমলাতন্ত্রের বড় ধরনের রদবদল হয়, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের জায়গায় ব্যক্তিগতভাবে অনুগত নিয়োগ বাড়ে। আইন প্রয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা গুলোর ব্যবহার ও রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে ওঠে।

তবে দুই হাজার ছাব্বিশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করছে। একাধিক আদালত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও নগর প্রশাসন এখনো ওয়াশিংটনের বাইরে স্বাধীনভাবে শাসন চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে কিছু অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের ধাক্কা ট্রাম্পের জন্য সতর্ক সংকেত হয়ে উঠেছে। ফলে তাঁর রাজনৈতিক রূপান্তরের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

বিশ্ব মঞ্চে একতরফা কৌশলের ভাঙন
দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকা আমূল বদলাতে চেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একতরফা পরিবর্তন, বিদেশি সহায়তা স্থগিত এবং গণতন্ত্র প্রচারে আগ্রহ কমানোর মাধ্যমে তিনি দ্বিপাক্ষিক সুবিধা ভিত্তিক সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিলেন। বার্তাটি ছিল স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানো, নইলে চাপের মুখে পড়ো।

কিন্তু বাস্তবে এর ফল উল্টো হয়েছে। চীনের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে ট্রাম্প এমন এক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও শিল্পখাতকে নতুন ঝুঁকিতে ফেলে। বিরল খনিজের ওপর চীনের বিধিনিষেধ দেখিয়ে দেয়, বৈশ্বিক সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র একা চলতে পারে না। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে কিছু ছাড় দিতে হয়। এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, মিত্রদের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশল টেকসই নয়।

অর্থনৈতিক চাপ ও ভোটারদের হতাশা
দুই হাজার চব্বিশের নির্বাচনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে বড় কারণ ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে জীবনযাত্রার খরচ কমেনি। জরিপে দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের প্রত্যাশা ভেঙে পড়ছে এবং ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক নীতিতেও। খাদ্য আমদানিতে শুল্ক নিয়ে প্রশাসনকে পিছু হটতে হয়েছে, আর সামনে খুচরা দামের চাপ বাড়লে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্য নীতি আরও নরম হতে বাধ্য হবে।

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত প্রভাব
ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের হুমকি ও প্রলোভনের কৌশলও ফল দেয়নি। রাশিয়া কোনো সমঝোতায় আগ্রহ দেখায়নি, আর ইউক্রেনের নেতৃত্বের পক্ষে ভূখণ্ড ছাড়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বরং ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষায় আরও সক্রিয় হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাবকে কমিয়ে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি অর্জন ট্রাম্পের একটি বড় সাফল্য হলেও, অঞ্চল পুনর্গঠন নিয়ে তাঁর একক পরিকল্পনা আরব দেশগুলোর আপত্তিতে থেমে যায়। এখানেও স্পষ্ট হয়েছে, বহুপাক্ষিক সমর্থন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

একতরফা যুগের অবসান
সব মিলিয়ে দুই হাজার পঁচিশ ছিল বিশ্ব রাজনীতিতে একতরফা ট্রাম্পের শীর্ষ সময়। দুই হাজার ছাব্বিশে এসে সেই বুদবুদ ফাটছে। ক্ষমতার সীমা তাঁকে হয়তো আরও উত্তেজিত করবে, কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। তবে এটিই সেই বছর, যখন ট্রাম্প-নির্ধারিত বৈশ্বিক ব্যবস্থা বাস্তবতার দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা উন্মোচন: দুই হাজার ছাব্বিশে দেশ ও বিশ্বে চাপে পড়া একতরফা নেতৃত্ব

০৫:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে এসেছিলেন বড় পরিকল্পনা নিয়ে। দুই হাজার পঁচিশ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সির আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা এমনভাবে বাড়ান, যা দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভারসাম্যকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। তবে দুই হাজার ছাব্বিশে এসে সেই ক্ষমতার বাস্তব সীমা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দেশের ভেতরে আদালত, ভোটার এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, আর দেশের বাইরে জটিল আন্তর্জাতিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের একতরফা প্রভাব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।

দেশের ভেতরে রাজনৈতিক রূপান্তরের চাপ
ট্রাম্পের পরিবর্তনের মূল সুর অর্থনৈতিক বিপ্লব নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। দুই হাজার পঁচিশ সালে তিনি আইনসীমা ঠেলে নির্বাহী ক্ষমতা একত্র করেন। কংগ্রেস, আদালত ও অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা বহু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণে টানার চেষ্টা চলে। পেশাদার আমলাতন্ত্রের বড় ধরনের রদবদল হয়, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের জায়গায় ব্যক্তিগতভাবে অনুগত নিয়োগ বাড়ে। আইন প্রয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা গুলোর ব্যবহার ও রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে ওঠে।

তবে দুই হাজার ছাব্বিশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করছে। একাধিক আদালত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও নগর প্রশাসন এখনো ওয়াশিংটনের বাইরে স্বাধীনভাবে শাসন চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে কিছু অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের ধাক্কা ট্রাম্পের জন্য সতর্ক সংকেত হয়ে উঠেছে। ফলে তাঁর রাজনৈতিক রূপান্তরের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

বিশ্ব মঞ্চে একতরফা কৌশলের ভাঙন
দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকা আমূল বদলাতে চেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একতরফা পরিবর্তন, বিদেশি সহায়তা স্থগিত এবং গণতন্ত্র প্রচারে আগ্রহ কমানোর মাধ্যমে তিনি দ্বিপাক্ষিক সুবিধা ভিত্তিক সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিলেন। বার্তাটি ছিল স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানো, নইলে চাপের মুখে পড়ো।

কিন্তু বাস্তবে এর ফল উল্টো হয়েছে। চীনের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে ট্রাম্প এমন এক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও শিল্পখাতকে নতুন ঝুঁকিতে ফেলে। বিরল খনিজের ওপর চীনের বিধিনিষেধ দেখিয়ে দেয়, বৈশ্বিক সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র একা চলতে পারে না। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে কিছু ছাড় দিতে হয়। এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, মিত্রদের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশল টেকসই নয়।

অর্থনৈতিক চাপ ও ভোটারদের হতাশা
দুই হাজার চব্বিশের নির্বাচনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে বড় কারণ ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে জীবনযাত্রার খরচ কমেনি। জরিপে দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের প্রত্যাশা ভেঙে পড়ছে এবং ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক নীতিতেও। খাদ্য আমদানিতে শুল্ক নিয়ে প্রশাসনকে পিছু হটতে হয়েছে, আর সামনে খুচরা দামের চাপ বাড়লে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্য নীতি আরও নরম হতে বাধ্য হবে।

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত প্রভাব
ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের হুমকি ও প্রলোভনের কৌশলও ফল দেয়নি। রাশিয়া কোনো সমঝোতায় আগ্রহ দেখায়নি, আর ইউক্রেনের নেতৃত্বের পক্ষে ভূখণ্ড ছাড়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বরং ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষায় আরও সক্রিয় হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাবকে কমিয়ে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি অর্জন ট্রাম্পের একটি বড় সাফল্য হলেও, অঞ্চল পুনর্গঠন নিয়ে তাঁর একক পরিকল্পনা আরব দেশগুলোর আপত্তিতে থেমে যায়। এখানেও স্পষ্ট হয়েছে, বহুপাক্ষিক সমর্থন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

একতরফা যুগের অবসান
সব মিলিয়ে দুই হাজার পঁচিশ ছিল বিশ্ব রাজনীতিতে একতরফা ট্রাম্পের শীর্ষ সময়। দুই হাজার ছাব্বিশে এসে সেই বুদবুদ ফাটছে। ক্ষমতার সীমা তাঁকে হয়তো আরও উত্তেজিত করবে, কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। তবে এটিই সেই বছর, যখন ট্রাম্প-নির্ধারিত বৈশ্বিক ব্যবস্থা বাস্তবতার দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে।