০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
সরকারি নতুন পাটকল নয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পুনরুজ্জীবনের পথে পাটশিল্প যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে মোদি সরকারকে নিশানা কংগ্রেসের, ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঢাকার বাইরে যাচ্ছে তিন প্রধান বাস টার্মিনাল, যানজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, শান্তি চুক্তির আগে রয়ে গেছে বড় শর্ত যুদ্ধ শেষের পথে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের প্রস্তুতিতে ভারত; সার আমদানি ও চাবাহার বন্দর ব্যবহারে নতুন আশা হলফনামায় ‘মিথ্যা তথ্য’ বিতর্ক: হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খাঁনের রূপপুরে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত, সাময়িক বন্ধ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ধর্ম, ভিনগ্রহের প্রাণ ও অজানার বিতর্ক: নতুন করে আলোচনায় বিশ্বাসের প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে ‘কোটি কোটি টাকা’ নিয়ে ঘোরার অভিযোগের প্রমাণ চাইলেন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ, মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি

টিকটক বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন যৌথ উদ্যোগ, মালিকানায় আমেরিকান আধিপত্য

যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কাটাতে অবশেষে নতুন সমঝোতায় পৌঁছাল টিকটক। চীনা মালিকানাধীন বাইটড্যান্স জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন যৌথ উদ্যোগ গঠন সম্পন্ন করেছে, যেখানে মালিকানার বড় অংশ থাকবে আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের হাতে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের তথ্য, অ্যাপ ও কনটেন্ট ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখা।

নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে সমঝোতা
টিকটককে ঘিরে বিতর্কের শুরু দুই হাজার কুড়ি সালে, যখন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাপটি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে দুই হাজার চব্বিশ সালে একটি আইন পাস হয়, যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম বিক্রি না হলে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আইন কার্যকর না করে নতুন যৌথ উদ্যোগের পথ বেছে নেওয়া হয়।

মালিকানার কাঠামো কীভাবে
নতুন উদ্যোগটির নাম টিকটক ইউএসডিএস যৌথ উদ্যোগ। এতে আমেরিকান ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকবে মোট মালিকানার আশি দশমিক এক শতাংশ। বাইট ড্যান্সের হাতে থাকবে উনিশ দশমিক নয় শতাংশ শেয়ার। এই ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি শর্ত পূরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কারা কারা বিনিয়োগকারী
এই উদ্যোগের তিনটি প্রধান ব্যবস্থাপক বিনিয়োগকারী হল ওরাকল, সিলভার লেক এবং আবুধাবি ভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এমজিএক্স। প্রত্যেকের মালিকানা থাকবে পনেরো শতাংশ করে। এছাড়া ডেল পরিবারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানসহ আরও একাধিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এতে যুক্ত হয়েছে।

তথ্য সুরক্ষা ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ
টিকটক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের সব তথ্য, কনটেন্ট ও সুপারিশ অ্যালগরিদম এই যৌথ উদ্যোগের অধীনে থাকবে। অ্যালগরিদম সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা হবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লাউড অবকাঠামোতে। এর ফলে চীনা মালিকানার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থেকে তথ্য ও কনটেন্ট আলাদা রাখা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

TikTok reaches deal for new US joint venture to avoid American ban - The  Economic Times

হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উভয় সরকারের সম্মতি রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এই সমঝোতার প্রশংসা করে বলেন, টিকটক এখন আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় পরিচালিত হবে। তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন।

নেতৃত্ব ও পরিচালনা
নতুন উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডাম প্রেসার এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকছেন উইল ফ্যারেল। টিকটকের বৈশ্বিক প্রধান শৌ চিউ এই উদ্যোগের পরিচালনা পর্ষদেও যুক্ত থাকছেন।

এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ভবিষ্যৎ আপাতত সুরক্ষিত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে বাণিজ্যিক আয়, বিজ্ঞাপন ও ই–বাণিজ্য সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে বাইটড্যান্সের ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হবে, সে প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি নতুন পাটকল নয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পুনরুজ্জীবনের পথে পাটশিল্প

টিকটক বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন যৌথ উদ্যোগ, মালিকানায় আমেরিকান আধিপত্য

০৬:২১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কাটাতে অবশেষে নতুন সমঝোতায় পৌঁছাল টিকটক। চীনা মালিকানাধীন বাইটড্যান্স জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন যৌথ উদ্যোগ গঠন সম্পন্ন করেছে, যেখানে মালিকানার বড় অংশ থাকবে আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের হাতে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের তথ্য, অ্যাপ ও কনটেন্ট ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখা।

নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে সমঝোতা
টিকটককে ঘিরে বিতর্কের শুরু দুই হাজার কুড়ি সালে, যখন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাপটি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে দুই হাজার চব্বিশ সালে একটি আইন পাস হয়, যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম বিক্রি না হলে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আইন কার্যকর না করে নতুন যৌথ উদ্যোগের পথ বেছে নেওয়া হয়।

মালিকানার কাঠামো কীভাবে
নতুন উদ্যোগটির নাম টিকটক ইউএসডিএস যৌথ উদ্যোগ। এতে আমেরিকান ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকবে মোট মালিকানার আশি দশমিক এক শতাংশ। বাইট ড্যান্সের হাতে থাকবে উনিশ দশমিক নয় শতাংশ শেয়ার। এই ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি শর্ত পূরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কারা কারা বিনিয়োগকারী
এই উদ্যোগের তিনটি প্রধান ব্যবস্থাপক বিনিয়োগকারী হল ওরাকল, সিলভার লেক এবং আবুধাবি ভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এমজিএক্স। প্রত্যেকের মালিকানা থাকবে পনেরো শতাংশ করে। এছাড়া ডেল পরিবারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানসহ আরও একাধিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এতে যুক্ত হয়েছে।

তথ্য সুরক্ষা ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ
টিকটক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের সব তথ্য, কনটেন্ট ও সুপারিশ অ্যালগরিদম এই যৌথ উদ্যোগের অধীনে থাকবে। অ্যালগরিদম সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা হবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লাউড অবকাঠামোতে। এর ফলে চীনা মালিকানার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থেকে তথ্য ও কনটেন্ট আলাদা রাখা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

TikTok reaches deal for new US joint venture to avoid American ban - The  Economic Times

হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উভয় সরকারের সম্মতি রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এই সমঝোতার প্রশংসা করে বলেন, টিকটক এখন আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় পরিচালিত হবে। তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন।

নেতৃত্ব ও পরিচালনা
নতুন উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডাম প্রেসার এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকছেন উইল ফ্যারেল। টিকটকের বৈশ্বিক প্রধান শৌ চিউ এই উদ্যোগের পরিচালনা পর্ষদেও যুক্ত থাকছেন।

এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ভবিষ্যৎ আপাতত সুরক্ষিত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে বাণিজ্যিক আয়, বিজ্ঞাপন ও ই–বাণিজ্য সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে বাইটড্যান্সের ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হবে, সে প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।