০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
ক্যানসার চিকিৎসায় উপেক্ষিত মানসিক যন্ত্রণা, জাতীয় পরিকল্পনায় পরিবর্তনের দাবি জোরালো ব্যারাকই শুধু শুরু, একের পর এক স্থানে অভিবাসী আবাসনের ঘোষণা মাহমুদের মৌনি রায়ের পুরোনো দিন ফিরে দেখা, দুই হাজার সাতের অডিশনের অদেখা ভিডিওতে আবেগঘন স্মৃতি নেতাজির পরাক্রম আজও জীবন্ত, আলোকিত করে জাতির পথচলা ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম বন্ধে অন্ধ্রের ভাবনা, মন্ত্রিসভার বিশেষ কমিটি গঠন সাংবাদিকদের প্রশ্নে নীরব বিসিসিআই সভাপতি, বাংলাদেশ ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নেই ভারতের শিশু নির্যাতনের অভিযোগে শারমিন একাডেমির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার বিশ্ব অস্থিরতার যুগে ভারত-ইইউ ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতি দিতে পারে: জয়শঙ্কর ডলারের বিপরীতে নতুন তলানিতে রুপি, বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ইরানকে অর্ধশতক ধরে পিছিয়ে রেখেছে এই মোহ

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ দাবি, ন্যাটোর ছায়ায় স্বস্তি হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অবস্থান কিছুটা নরম করায় ইউরোপ ও ন্যাটো মহলে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে। তবে দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা কাঠামো ও ভবিষ্যৎ ভূ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ন্যাটোর সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্থায়ী ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। যদিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

হঠাৎ পিছু হটা ও বাজারে স্বস্তি
ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার এবং বলপ্রয়োগে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনা নাকচ করায় সাম্প্রতিক সপ্তাহের উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। এই অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে ইউরোপের শেয়ারবাজারে, যেখানে সূচক ঘুরে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও ফের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। তবে ইউরোপীয় নেতাদের মতে, এই দোলাচল ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ওপর গভীর ক্ষত রেখে গেছে।

Trump touts 'total access' Greenland deal as NATO asks allies to step up

গ্রিনল্যান্ডের কড়া বার্তা
গ্রীনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেদেরিক নিলসেন ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানাতে বলেছেন, চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট নন। তার ভাষায়, আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও সার্বভৌমত্ব একটি লাল রেখা, যা অতিক্রম করা যাবে না। আন্তর্জাতিক আইন ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে গ্রিনল্যান্ড সরকার।

ডেনমার্ক ও ইউরোপের উদ্বেগ
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেদেরিকসেন জানিয়েছেন, ন্যাটোর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর স্থায়ী উপস্থিতির পক্ষে মত দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থায় বড় আঘাত লেগেছে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে 'গঠনমূলক' সংলাপের আহ্বান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর |  দৈনিক নয়া দিগন্ত

ন্যাটোর আর্কটিক পরিকল্পনা
ন্যাটোর মহাসচিব জানিয়েছেন, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদারে মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে পুরোনো সামরিক চুক্তি হালনাগাদ নিয়ে আলোচনা এগোবে। লক্ষ্য হলো রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা।

ট্রাম্পের যে ঘোষণা নাকচ করল ন্যাটো মহাসচিব | ডিএমপি নিউজ

চীন ও রাশিয়া প্রসঙ্গ
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর্কটিকে তাদের কর্মকান্ডকে হুমকি হিসেবে দেখানোর অভিযোগ নাকচ করেছে। বেইজিং বলছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগকে তারা অতিরঞ্জিত বলেই দেখছে।

স্থানীয় মানুষের সংশয়
গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকের বাসিন্দাদের মধ্যেও দ্বিধা কাজ করছে। একদিন যুদ্ধের আশঙ্কা, পরদিন আবার সবকিছু স্বাভাবিক—এই দ্রুত পরিবর্তন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যানসার চিকিৎসায় উপেক্ষিত মানসিক যন্ত্রণা, জাতীয় পরিকল্পনায় পরিবর্তনের দাবি জোরালো

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ দাবি, ন্যাটোর ছায়ায় স্বস্তি হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি

০৬:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অবস্থান কিছুটা নরম করায় ইউরোপ ও ন্যাটো মহলে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে। তবে দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা কাঠামো ও ভবিষ্যৎ ভূ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ন্যাটোর সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্থায়ী ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। যদিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

হঠাৎ পিছু হটা ও বাজারে স্বস্তি
ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার এবং বলপ্রয়োগে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনা নাকচ করায় সাম্প্রতিক সপ্তাহের উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। এই অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে ইউরোপের শেয়ারবাজারে, যেখানে সূচক ঘুরে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও ফের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। তবে ইউরোপীয় নেতাদের মতে, এই দোলাচল ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ওপর গভীর ক্ষত রেখে গেছে।

Trump touts 'total access' Greenland deal as NATO asks allies to step up

গ্রিনল্যান্ডের কড়া বার্তা
গ্রীনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেদেরিক নিলসেন ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানাতে বলেছেন, চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট নন। তার ভাষায়, আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও সার্বভৌমত্ব একটি লাল রেখা, যা অতিক্রম করা যাবে না। আন্তর্জাতিক আইন ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে গ্রিনল্যান্ড সরকার।

ডেনমার্ক ও ইউরোপের উদ্বেগ
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেদেরিকসেন জানিয়েছেন, ন্যাটোর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর স্থায়ী উপস্থিতির পক্ষে মত দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থায় বড় আঘাত লেগেছে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে 'গঠনমূলক' সংলাপের আহ্বান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর |  দৈনিক নয়া দিগন্ত

ন্যাটোর আর্কটিক পরিকল্পনা
ন্যাটোর মহাসচিব জানিয়েছেন, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদারে মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে পুরোনো সামরিক চুক্তি হালনাগাদ নিয়ে আলোচনা এগোবে। লক্ষ্য হলো রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা।

ট্রাম্পের যে ঘোষণা নাকচ করল ন্যাটো মহাসচিব | ডিএমপি নিউজ

চীন ও রাশিয়া প্রসঙ্গ
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর্কটিকে তাদের কর্মকান্ডকে হুমকি হিসেবে দেখানোর অভিযোগ নাকচ করেছে। বেইজিং বলছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগকে তারা অতিরঞ্জিত বলেই দেখছে।

স্থানীয় মানুষের সংশয়
গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকের বাসিন্দাদের মধ্যেও দ্বিধা কাজ করছে। একদিন যুদ্ধের আশঙ্কা, পরদিন আবার সবকিছু স্বাভাবিক—এই দ্রুত পরিবর্তন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।