০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে নারীর সংকট পুনে বিমানবন্দরে বোমা আতঙ্ক আইসিসির সময়সীমা শেষ, অনড় বাংলাদেশের জায়গায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড গাজা সংকটে পাকিস্তানের হিসাবনিকাশ ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ডে’ আমন্ত্রণ পেয়েও নীরব ভারত, জাতিসংঘ নিয়ে কেন উদ্বেগ বাড়ছে ঘুমের মধ্যেও আতঙ্কে চিৎকার করছে শিশু, বলছে মুখ সেলাই করে দিও না বিকেলে বসানো সিসিটিভি, সন্ধ্যাতেই ভাঙচুরে উত্তেজনা ক্যাম্বোডিয়ায় প্রতারণা চক্রে ধস, পলায়নকারী বিদেশি শ্রমিকে ভরে উঠছে নম পেন ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগদান নিয়ে প্রশ্নের ঝড়, সংসদ এড়িয়ে সিদ্ধান্তে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ট্রাম্পের শুল্কচাপে ভারতের পাশে চীন, রপ্তানিতে নতুন গতি

বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আগুন, হাজারো মানুষ গৃহহীন

চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের কক্সবাজারে একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত অস্থায়ী ঘর পুড়ে গেছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা নিরাপদ আবাসন নির্মাণ ও জরুরি সহায়তা জোরদারে অতিরিক্ত অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরের দিকে কক্সবাজার জেলার ক্যাম্প–১৬ এ আগুনের সূত্রপাত হয়। কক্সবাজারে থাকা ৩০টির বেশি শিবির মিলিয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী কেন্দ্র, যেখানে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে আগুন

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ড এমন পরিবারগুলোর জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে, যারা আগেই টিকে থাকার লড়াইয়ে ছিল।

সংস্থাটির বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ল্যান্স বোনো এক বিবৃতিতে বলেন, ভিড়াক্রান্ত শিবিরে যখন আগুন লাগে, তখন এর প্রভাব শুধু অবকাঠামোর ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারগুলো আশ্রয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকার হারায়, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে
অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে অনেকেই ঘরের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সব সম্পদ হারিয়েছেন, যার মধ্যে পরিচয়পত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে।

সংস্থাটি কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে কাজ করা সহায়তা সংস্থাগুলোর একটি।

সংস্থাটির তথ্যমতে, আগুনের কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এতে ৩৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭২টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পানির উৎস ও স্যানিটেশন পয়েন্ট, ১১টি শিক্ষাকেন্দ্র, শিবিরের বিভিন্ন অবকাঠামো ও চলাচলের পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন: গৃহহীন ১২ হাজার শরণার্থী - InfoMigrants

রোহিঙ্গা সংকটের পটভূমি
২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সীমান্ত চৌকিতে বিদ্রোহী হামলার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালায়। এর পরই সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, ফলে কক্সবাজারে আগে থেকেই থাকা শরণার্থীদের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা, সংগঠন ও সহিংসতার মাত্রা আন্তর্জাতিক মহলে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগের জন্ম দেয়। জাতিসংঘও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বর্তমানে একটি মামলা চলছে, যেখানে ২০১৭ সালের তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর সময় ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ ছাড়া ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সামরিক শাসনের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের কারণে রাখাইন রাজ্য থেকে আরও বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশে  ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স-এর বিবৃতি

ত্রাণ ও পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ
অগ্নিকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংস্থা বাস্তুচ্যুতদের জরুরি সহায়তা দিতে তৎপর হয়। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, মশারি, রান্নার সামগ্রী, স্বাস্থ্যবিধি কিট ও সৌর বাতি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, তাৎক্ষণিক সহায়তা অব্যাহত থাকলেও এই ঘটনা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আগুনের স্থায়ী ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানায়, ত্রিপল বা প্লাস্টিক মোড়ানো বাঁশের ঘরের পরিবর্তে ৫০ হাজার আধা-স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ঘোষণা আসায় সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়।

সংস্থাটির মতে, ছয় থেকে বারো মাস টিকে থাকার জন্য নির্মিত বাঁশের এসব ঘর গাদাগাদি করে বসানো হয়েছে, যা আগুনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তারা জানায়, ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শিবিরগুলোতে ২ হাজার ৪২৫টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে এক লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন, কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি | কালবেলা

 

অর্থায়ন সংকট
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বৈদেশিক সহায়তা চুক্তির ৯০ শতাংশের বেশি এবং বিশ্বজুড়ে মোট ৬০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস করে। এর ফলে কক্সবাজারসহ বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে তীব্র অর্থসংকট তৈরি হয়েছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র অর্ধেক পাওয়া গেছে। এতে ৪৬৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, অনুমোদিত ৫০ হাজার আধা-স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ আবার শুরু করতে জরুরি ভিত্তিতে অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজন। আগুনের পর তারা ইতোমধ্যে নতুন অস্থায়ী ঘর নির্মাণে সহায়তা শুরু করেছে।

মার্চ ২০২১ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ড - উইকিপিডিয়া

সংস্থাটির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কক্সবাজারের ক্যাম্প–১৬ এর মতো অগ্নিকাণ্ড বারবার ঘটবে, যা জীবন হুমকির মুখে ফেলবে এবং পরিবারগুলোকে বারবার শূন্য থেকে শুরু করতে বাধ্য করবে।

এ ছাড়া জরুরি খাদ্য সহায়তা, শীতবস্ত্র, পানি ও স্যানিটেশন সেবা পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীরও তীব্র প্রয়োজন রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে নারীর সংকট

বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আগুন, হাজারো মানুষ গৃহহীন

০৪:৩৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের কক্সবাজারে একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত অস্থায়ী ঘর পুড়ে গেছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা নিরাপদ আবাসন নির্মাণ ও জরুরি সহায়তা জোরদারে অতিরিক্ত অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরের দিকে কক্সবাজার জেলার ক্যাম্প–১৬ এ আগুনের সূত্রপাত হয়। কক্সবাজারে থাকা ৩০টির বেশি শিবির মিলিয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী কেন্দ্র, যেখানে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে আগুন

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ড এমন পরিবারগুলোর জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে, যারা আগেই টিকে থাকার লড়াইয়ে ছিল।

সংস্থাটির বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ল্যান্স বোনো এক বিবৃতিতে বলেন, ভিড়াক্রান্ত শিবিরে যখন আগুন লাগে, তখন এর প্রভাব শুধু অবকাঠামোর ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারগুলো আশ্রয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকার হারায়, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে
অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে অনেকেই ঘরের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সব সম্পদ হারিয়েছেন, যার মধ্যে পরিচয়পত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে।

সংস্থাটি কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে কাজ করা সহায়তা সংস্থাগুলোর একটি।

সংস্থাটির তথ্যমতে, আগুনের কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এতে ৩৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭২টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পানির উৎস ও স্যানিটেশন পয়েন্ট, ১১টি শিক্ষাকেন্দ্র, শিবিরের বিভিন্ন অবকাঠামো ও চলাচলের পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন: গৃহহীন ১২ হাজার শরণার্থী - InfoMigrants

রোহিঙ্গা সংকটের পটভূমি
২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সীমান্ত চৌকিতে বিদ্রোহী হামলার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালায়। এর পরই সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, ফলে কক্সবাজারে আগে থেকেই থাকা শরণার্থীদের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা, সংগঠন ও সহিংসতার মাত্রা আন্তর্জাতিক মহলে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগের জন্ম দেয়। জাতিসংঘও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বর্তমানে একটি মামলা চলছে, যেখানে ২০১৭ সালের তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর সময় ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ ছাড়া ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সামরিক শাসনের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের কারণে রাখাইন রাজ্য থেকে আরও বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশে  ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স-এর বিবৃতি

ত্রাণ ও পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ
অগ্নিকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংস্থা বাস্তুচ্যুতদের জরুরি সহায়তা দিতে তৎপর হয়। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, মশারি, রান্নার সামগ্রী, স্বাস্থ্যবিধি কিট ও সৌর বাতি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, তাৎক্ষণিক সহায়তা অব্যাহত থাকলেও এই ঘটনা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আগুনের স্থায়ী ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানায়, ত্রিপল বা প্লাস্টিক মোড়ানো বাঁশের ঘরের পরিবর্তে ৫০ হাজার আধা-স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ঘোষণা আসায় সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়।

সংস্থাটির মতে, ছয় থেকে বারো মাস টিকে থাকার জন্য নির্মিত বাঁশের এসব ঘর গাদাগাদি করে বসানো হয়েছে, যা আগুনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তারা জানায়, ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শিবিরগুলোতে ২ হাজার ৪২৫টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে এক লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন, কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি | কালবেলা

 

অর্থায়ন সংকট
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বৈদেশিক সহায়তা চুক্তির ৯০ শতাংশের বেশি এবং বিশ্বজুড়ে মোট ৬০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস করে। এর ফলে কক্সবাজারসহ বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে তীব্র অর্থসংকট তৈরি হয়েছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র অর্ধেক পাওয়া গেছে। এতে ৪৬৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, অনুমোদিত ৫০ হাজার আধা-স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ আবার শুরু করতে জরুরি ভিত্তিতে অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজন। আগুনের পর তারা ইতোমধ্যে নতুন অস্থায়ী ঘর নির্মাণে সহায়তা শুরু করেছে।

মার্চ ২০২১ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ড - উইকিপিডিয়া

সংস্থাটির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কক্সবাজারের ক্যাম্প–১৬ এর মতো অগ্নিকাণ্ড বারবার ঘটবে, যা জীবন হুমকির মুখে ফেলবে এবং পরিবারগুলোকে বারবার শূন্য থেকে শুরু করতে বাধ্য করবে।

এ ছাড়া জরুরি খাদ্য সহায়তা, শীতবস্ত্র, পানি ও স্যানিটেশন সেবা পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীরও তীব্র প্রয়োজন রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।