মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত তথাকথিত ‘শান্তি বোর্ডে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ভারত। ওয়াশিংটনের এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে এই বোর্ড ভবিষ্যতে জাতিসংঘের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে কি না, তা নিয়েই ভারতের প্রধান উদ্বেগ।
আমন্ত্রণ পেলেও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি ভারত
গত সপ্তাহে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রায় ষাটটি দেশকে শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। সেই তালিকায় ভারতের নাম থাকলেও সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্টে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ভারতের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত এখনো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।

অংশীদার দেশগুলোর অবস্থান নজরে নয়াদিল্লি
ভারত কেবল নিজের অবস্থান নয়, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারদের মনোভাবও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প আজীবন এই বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকতে চান কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। এতে করে ভবিষ্যতে বোর্ডের নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
জি সাত ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুপস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জি সাত গোষ্ঠীর আর কোনো দেশ এখন পর্যন্ত এই বোর্ডে যোগ দেয়নি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কেউ অংশ নেয়নি। এই বাস্তবতা থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি জাতিসংঘের বিকল্প একটি মঞ্চ তৈরি করতে চাইছেন।

গাজা নয়, বিস্তৃত ক্ষমতার দাবি
শুরুতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের জন্য এই বোর্ডের কথা বলা হলেও ঘোষিত সনদে গাজার নামই নেই। বরং এতে এমন এক বিস্তৃত দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ট্রাম্প নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, গাজার পর বিশ্বের অন্যান্য সংকটেও এই বোর্ড সক্রিয় হতে পারে।
ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বোর্ডের ঘোষণায় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নয় মাসে আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন। এর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাকিস্তান এই বোর্ডে যোগ দেওয়া দেশগুলোর একটি হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, চার দিনের মধ্যেই দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের বোঝাপড়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল, এতে বাইরের কোনো মধ্যস্থতার ভূমিকা ছিল না।

কোন দেশগুলো যোগ দিয়েছে
এই শান্তি বোর্ডের সনদে স্বাক্ষর করেছে আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কসোভো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে ও উজবেকিস্তান। পাশাপাশি বাহরাইন, জর্ডান, মরক্কো, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মঙ্গোলিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারাও এতে যুক্ত হয়েছেন।
ভারতের অবস্থান কী ইঙ্গিত দিচ্ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই সতর্কতা কেবল একটি আমন্ত্রণ গ্রহণ না করার বিষয় নয়। এটি আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থা, জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং একক নেতৃত্বে গঠিত নতুন কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বৃহত্তর কৌশলগত ভাবনার প্রতিফলন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















