মধ্যরাত ছুঁইছুঁই সময়ে মস্কোর ক্রেমলিনে শুরু হওয়া দীর্ঘ বৈঠকের পর রাশিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হবে আবুধাবিতে। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ভূখণ্ড নিয়ে সমঝোতা না হলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। চার ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতদের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো বড় অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি।
মধ্যরাতের বৈঠক ও রাশিয়ার অবস্থান
ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানান, বৈঠকটি ছিল গঠনমূলক, স্পষ্ট এবং খোলামেলা। তার ভাষায়, আলাস্কায় আগের শীর্ষ বৈঠকে যে ভূখণ্ড ভিত্তিক সূত্রে আলোচনা হয়েছিল, সেটির সমাধান ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শান্তির আশা নেই। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানে রাশিয়া আগ্রহী থাকলেও লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য থেকে সরে আসবে না মস্কো। রাশিয়ার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে এখনো তাদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় আছে।

আবুধাবির নিরাপত্তা আলোচনা ও অর্থনৈতিক সংলাপ
রাশিয়া জানিয়েছে, আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় নিরাপত্তা আলোচনায় তাদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ইগর কোস্তিউকভ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদা অর্থনৈতিক আলোচনায় অংশ নেবেন বিনিয়োগ বিষয়ক দূত কিরিল দমিত্রিয়েভ। এই দ্বিমুখী আলোচনাকে সম্ভাব্য অগ্রগতির প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে ক্রেমলিন।
ইউক্রেনের শীতকাল ও মানবিক সংকট
যুদ্ধের চতুর্থ বছরে ইউক্রেন সবচেয়ে কঠিন শীত পার করছে। জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও গরমের ব্যবস্থা বন্ধ থাকছে। ইউক্রেন বলছে, এসব হামলাই প্রমাণ করে শান্তিতে রাশিয়ার প্রকৃত আগ্রহ নেই। তবে মস্কোর দাবি, ধীরে এগোনো সামরিক অগ্রগতি এসেছে বড় মূল্য দিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মুখ ও ট্রাম্পের চাপ
এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। তাদের সঙ্গে ছিলেন শান্তি বোর্ডের নতুন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জশ গ্রুয়েনবাউম। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি সমঝোতায় না পৌঁছান, তবে সেটি হবে বুদ্ধিহীন সিদ্ধান্ত। উইটকফ ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘ আলোচনার শেষ পর্যন্ত একটি বড় ইস্যুতেই আটকে আছে সবকিছু।
ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে অচলাবস্থা
রাশিয়ার মূল দাবি, পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের যে অংশ ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে আছে তা ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে। ইউক্রেন স্পষ্ট জানিয়েছে, বহু ত্যাগের বিনিময়ে রক্ষা করা ভূখণ্ড তারা ছাড়বে না। জেলেনস্কি সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কাঠামো চূড়ান্ত হলেও ভূখণ্ড প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত।

সামনে কী
ক্রেমলিন আশা করছে, আবুধাবির বৈঠক যুদ্ধ অবসানের পথে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। তবে ভূখণ্ড প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে এই আলোচনাও যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















