০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
নতুন “সিকাডা” কোভিড ভ্যারিয়েন্ট প্রধানত শিশুদের আক্রমণ করছে, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন টাইগার উডসের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর গ্রেফতারের বডিক্যাম ভিডিও প্রকাশ ইতালিতে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু, রিসিন বিষক্রিয়ার সন্দেহে দ্বৈত হত্যা মামলা ইতালিতে মাফিয়া গডফাদার গ্রেফতার, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি পুলিশের প্রশংসা করেছেন উত্তরপ্রদেশে মেলায় ৬০ ফুট দোলনা ভেঙে পড়ে ৩০ জনের বেশি আহত, শিশুসহ মোটরসাইকেলের বিক্রয় কমেছে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট ইরানের দাবী: তিন দিনে তিনটি আমেরিকার সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল খাতে হামলা বাড়ানোর হুমকি ইসরায়েলের ইরানের ভেতরে দুঃসাহসিক অভিযানে মার্কিন পাইলট উদ্ধার, যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত ভারতের ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ পরিকল্পনার অভিযোগ, কড়া সতর্কবার্তা পাকিস্তানের

কোটা প্রশ্নে অনড়তা, নীতিমালার সংঘাত আর অব্যাহতি—আফসানা বেগমের অভিযোগে গ্রন্থকেন্দ্রের ভেতরের গল্প

কোটা বাতিল করে বই নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ, নীতিমালার সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি গ্রন্থকেন্দ্র গড়ার চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়—এমন অভিযোগ তুলে অব্যাহতির পেছনের ঘটনাপ্রবাহ প্রকাশ করেছেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সদ্য অব্যাহতি পাওয়া পরিচালক আফসানা বেগম।

চব্বিশের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বই নির্বাচন নীতিমালার সংস্কারে হাত দেন লেখক আফসানা বেগম। তার লক্ষ্য ছিল অযোগ্য ও মানহীন বই বাদ দিয়ে মানসম্মত বই নির্বাচন নিশ্চিত করা। এজন্য তিনি সচিব ও মন্ত্রী কোটা তুলে দিয়ে শতভাগ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে কেনার প্রস্তাব দেন। নীতিমালা সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা পরিবর্তনের পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়।

নতুন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে কোটা ইস্যুতে মতভিন্নতার কথা তুলে ধরে আফসানা বেগম জানান, তিনি স্পষ্টভাবে কোটা বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিলেও উপদেষ্টা তা রাখতে আগ্রহী ছিলেন। ফেসবুকে প্রকাশিত কথোপকথনে তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যৎ সরকার যেন অনুরোধের বই কিনতে পারে—এই যুক্তিতেই কোটা রাখার কথা বলা হয়।

আফসানা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, কোটার কারণে বছরের পর বছর মানহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বই কিনতে হয়েছে গ্রন্থকেন্দ্রকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সচিব বা মন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই লাইব্রেরি নির্বাচিত হয়েছে, নিয়মিত যাচাই বা পরিদর্শন ছাড়াই গেছে অনুদান। এর ফলে সাধারণ লাইব্রেরিগুলোকে অযোগ্য বই নিতে বাধ্য হতে হয়েছে।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে আফসানা বেগমকে অব্যাহতি

তার ফেসবুক পোস্টে উঠে এসেছে সরকারি কর্মকর্তাদের লেখা বই কেনা, উচ্চমূল্যের নিম্নমানের প্রকাশনা এবং ভারতীয় বইয়ের অননুমোদিত ফটোকপি প্রকাশের অভিযোগও। তিনি দাবি করেন, এক অতিরিক্ত সচিবের লেখা বইয়ের এক হাজার কপি কেনা হয়েছিল শুধু প্রভাবের কারণে।

অব্যাহতির প্রসঙ্গে আফসানা বেগম মনে করেন, গ্রন্থকেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ এবং কোটা প্রশ্নে অবস্থানই তাকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে জরুরি ভিত্তিতে অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে তিনি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন।

গ্রন্থকেন্দ্রে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ফাইল পড়ে থাকত মাসের পর মাস, সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার সচিবের দপ্তরে গিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি। শতবর্ষী পাঠাগার পুনরুজ্জীবন, আন্তর্জাতিক বইমেলা ও অনুবাদ উন্নয়নের মতো সম্ভাবনাময় পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের সুযোগ পায়নি।

অব্যাহতির পর শেষ পোস্টে আফসানা বেগম লিখেছেন, ভালো বইয়ের বদলে কোটার নামে নিম্নমানের বই কেনার চর্চা চলতে থাকলে গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। তবু তিনি আশাবাদী, ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ আবারও আলোচনায় আসবে।

আফসানা বেগমের অভিযোগের বিষয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।

#Bangladesh #NationalBookCenter #QuotaSystem #CulturalPolicy #BookSelection #PublicInstitutions #Governance #Transparency

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন “সিকাডা” কোভিড ভ্যারিয়েন্ট প্রধানত শিশুদের আক্রমণ করছে, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন

কোটা প্রশ্নে অনড়তা, নীতিমালার সংঘাত আর অব্যাহতি—আফসানা বেগমের অভিযোগে গ্রন্থকেন্দ্রের ভেতরের গল্প

০৬:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

কোটা বাতিল করে বই নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ, নীতিমালার সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি গ্রন্থকেন্দ্র গড়ার চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়—এমন অভিযোগ তুলে অব্যাহতির পেছনের ঘটনাপ্রবাহ প্রকাশ করেছেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সদ্য অব্যাহতি পাওয়া পরিচালক আফসানা বেগম।

চব্বিশের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বই নির্বাচন নীতিমালার সংস্কারে হাত দেন লেখক আফসানা বেগম। তার লক্ষ্য ছিল অযোগ্য ও মানহীন বই বাদ দিয়ে মানসম্মত বই নির্বাচন নিশ্চিত করা। এজন্য তিনি সচিব ও মন্ত্রী কোটা তুলে দিয়ে শতভাগ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে কেনার প্রস্তাব দেন। নীতিমালা সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা পরিবর্তনের পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়।

নতুন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে কোটা ইস্যুতে মতভিন্নতার কথা তুলে ধরে আফসানা বেগম জানান, তিনি স্পষ্টভাবে কোটা বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিলেও উপদেষ্টা তা রাখতে আগ্রহী ছিলেন। ফেসবুকে প্রকাশিত কথোপকথনে তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যৎ সরকার যেন অনুরোধের বই কিনতে পারে—এই যুক্তিতেই কোটা রাখার কথা বলা হয়।

আফসানা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, কোটার কারণে বছরের পর বছর মানহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বই কিনতে হয়েছে গ্রন্থকেন্দ্রকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সচিব বা মন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই লাইব্রেরি নির্বাচিত হয়েছে, নিয়মিত যাচাই বা পরিদর্শন ছাড়াই গেছে অনুদান। এর ফলে সাধারণ লাইব্রেরিগুলোকে অযোগ্য বই নিতে বাধ্য হতে হয়েছে।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে আফসানা বেগমকে অব্যাহতি

তার ফেসবুক পোস্টে উঠে এসেছে সরকারি কর্মকর্তাদের লেখা বই কেনা, উচ্চমূল্যের নিম্নমানের প্রকাশনা এবং ভারতীয় বইয়ের অননুমোদিত ফটোকপি প্রকাশের অভিযোগও। তিনি দাবি করেন, এক অতিরিক্ত সচিবের লেখা বইয়ের এক হাজার কপি কেনা হয়েছিল শুধু প্রভাবের কারণে।

অব্যাহতির প্রসঙ্গে আফসানা বেগম মনে করেন, গ্রন্থকেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ এবং কোটা প্রশ্নে অবস্থানই তাকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে জরুরি ভিত্তিতে অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে তিনি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন।

গ্রন্থকেন্দ্রে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ফাইল পড়ে থাকত মাসের পর মাস, সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার সচিবের দপ্তরে গিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি। শতবর্ষী পাঠাগার পুনরুজ্জীবন, আন্তর্জাতিক বইমেলা ও অনুবাদ উন্নয়নের মতো সম্ভাবনাময় পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের সুযোগ পায়নি।

অব্যাহতির পর শেষ পোস্টে আফসানা বেগম লিখেছেন, ভালো বইয়ের বদলে কোটার নামে নিম্নমানের বই কেনার চর্চা চলতে থাকলে গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। তবু তিনি আশাবাদী, ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ আবারও আলোচনায় আসবে।

আফসানা বেগমের অভিযোগের বিষয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।

#Bangladesh #NationalBookCenter #QuotaSystem #CulturalPolicy #BookSelection #PublicInstitutions #Governance #Transparency